হাসান আল বান্না

(আরবি ভাষায় حسن البنا) (জন্ম অক্টোবার ১৪, ১৯০৬-মৃত্যু ফেব্রুয়ারী ১২, ১৯৪৯) ছিলেন একজন মিশরীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারক। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড দলের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯০৬ সালে ১৪ অক্টোবর মিশরের রাজধানী কায়রোর কাছে মাহমুদিয়া অঞ্চলে অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মুসলীম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুর রহমান বান্না, যিনি একজন ইমাম ছিলেন।, বারো বছর বয়সে তিনি সুফীবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন। তিনি সেই কিশোর বয়সেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন। তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় মাদ্রাসায় রাশাদ আদ নামক প্রতিষ্ঠানে। এরপর তিনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দারূল উলুমে ভর্তি হন। ১৯১৭ সালে সেখান থেকে তিনি ডিপ্লোমা লাভ করেন। হাসান আল বান্না ১৯২৭ সালে সরকারী স্কুলের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে কর্মজীবন শুরু করেন। এ সময় তিনি মিশরে প্রচুর ভ্রমণ করেন এবং সেই সময়কার বড় বড় আলেমদের সংস্পর্শে আসেন। তাঁর নজরে পড়ে পাশ্চাত্যের ধর্মনিরপেক্ষতার প্রভাবে কিভাবে মিশরের সমাজ ক্রমশ ভোগের দিকে ঝুঁকে পড়ছে কিভাবে সনাতন মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে আসছে।পরবর্তীতে তিনি আলআজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। সেখানে তিনি সবিস্ময়ে লক্ষ করেন কিভাবে খ্রীষ্টান মিশনারীরা ইসলামের বিরুদ্ধে নাস্তিকতাকে উৎসাহিত করে চলে। ১৯২৮ সালে ৬ জন ইসলামী ব্যক্তিত্বের সহযোগিতায় হাসান আল বান্না গঠন করেন “ইখওয়ানুল মুসলিমিন” সংগঠনটি আর তিনি সেই সংগঠনের আমির নির্বাচিত হন। সংগঠনটিকে সামাজিক ভিত্তি দিতে পুরো মিশর জুড়ে তিনি একইসঙ্গে সমাজকল্যাণ এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রচারের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। মিশরের প্রতিটি শহরে গড়ে ওঠে শাখা সংগঠন। ইসলামকে সবার নিকট উপস্হাপনের জন্য তিনি মহিলাদেরকে নিয়ে আখওয়াত আল মুসলিমাত নামক সংগঠন গড়ে তোলেন।১৯৩৩ সালে আল ইখওয়ানের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয় একটি পত্রিকা প্রকাশের । পত্রিকাটির নাম মাজাল্লাতুল ইখওয়ানুল মুসলিমিন। তার এই কর্মকান্ড মিশরের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীকে ভীত করে তোলে। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ১৯৪৯ সালে শাসকশ্রেণীর লেলিয়ে দেওয়া গুন্ডার গুলিতে তিনি নিহত হন।

 

যুবকদের প্রতি শহীদ হাসান আল বান্নার  উপদেশ

 

১. তোমরা যে অবস্থায় থাক না কেন আযান শোনার সাথে সাথে নামাযের জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করবে।
২. কোরআনকে পাঠ কর এবং এটা নিয়ে গবেষণা কর। যত কম সময়ই হোক না কেন সেটাকে আজে বাজে কাজে বায় কর না।

৩. সবসময় স্পষ্টবাদী হওয়ার চেষ্টা কর কেননা এর দ্বারা প্রমাণিত হবে যে, তুমি মুসলমান।আরবি শিখার চেষ্টা কর কেননা কেবল আরবি ভাষার মাধ্যমেই কুরআন কে ভালোভাবে বুঝা সম্ভব।

download (4) ৪. কোন বিষয়েই মাত্রারিক্ত তর্কে জড়াবেনা। কেননা এটা কোন সময় সফলতা বয়ে আনে না। ]

৫. কখনোই বেশি হাসবে না,  কেননা আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত আত্মা সব সময় শান্তচিত্ত ও ভারি হয়।

৬. কখনোই মশকরা করনা। কেননা একটি মুজাহিদ জাতি গাম্ভির ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না।

৭. শ্রোতা যতটুকুন পছন্দ করে ততটুকুই তোমার আওয়াজকে কর।কেননা এটা স্বার্থপরতা ও অন্য কে নিপীড়ন করার শামিল।

৮. কখনোই কাওকে ছোট কর না। কল্যাণ কর ছাড়া অন্য কোন ব্যাপারে কথা বল না।

৯. তোমার  প্রতিবেশী কোন ভাই তোমার সাথে পরিচয় হতে না চাইলে ও তার সাথে পরিচিত হও। ১০. আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব আমাদের যে সময় দেওয়া হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশী।অন্য জনের সময় বাঁচানোর জন্য সবসময় ব্রত হও।যদি তোমার উপর কোন দায়িত্ব অর্পিত হয় সেটা কে সবচেয়ে সহজপন্থায় ও সুন্দর করে করার চেষ্টা কর।

১১. সব সময় পরিষ্কার পরিছন্নতার দিকে নজর দিবে। তোমাদের ঘরবাড়ি; পোশাক পরিচ্ছদ; শরীর ও তোমাদের কাজের জায়গাকে পরিচ্ছন্ন রাখ। কেননা এই দ্বীন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতারউপরেই নির্মিত হয়েছে।

১২. তোমাদের ওয়াদা; তোমাদের কথা ও কাজে সবসময় মিল রাখবে। শর্ত যাই হোক না কেন সর্বদায় এর উপর অটল অবিচল থাকবে।

১৩.পড়ালেখায় মনোযোগ দাও।মুসলিমদের প্রকাশিত পত্রপত্রিকা ও ম্যাগাজিন নিয়ে পরস্পর আলোচনা কর।ছোট করে হলেও নিজস্ব একটা লাইব্রেরি গড়ে তুল।নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার চেষ্টা কর।

১৪. কখনো সরকারের মুখাপেক্ষী হবে না। কেননা রিজিক এর সবচেয়ে সংকীর্ণ দরজা হল তাদের দরজা।তবে তোমাদেরকে যদি সুযোগ সুবিধা দেয় সেটাকে প্রত্যাখ্যান কর না।তোমাদের দাওয়াতকে ও তোমাদের নিজস্ব গতিকে স্তব্ধ করে না দেওয়া পর্যন্ত এর থেকে পৃথক হবে না।

১৫. তোমাদের সম্পদের একটা অংশ সংগঠনে দান কর।আর ফরজ যাকাত এক সাথে করে দাও।সেটার পরিমান যত সল্পই হোক না কেন সেখান থেকে গরীব দুঃখীদের দান কর।

১৬.  অপ্রত্যাশিত বিপদ আসার আগেই স্বল্প পরিমান হলেও সম্পদের একটা অংশকে সঞ্চয় করে রাখ।এবং কখনো জাঁকজমকপূর্ণ আসবাবপত্র ক্রয়ে সম্পদ বায় কর না।

১৭. সকল অবস্থায় তাওবা ও ইস্তিগফার পাঠ কর।রাতে ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট আত্ম-সমালোচনা কর।হারাম থেকে বেঁচে থাকার জন্য সন্দেহ জনক বিষয় থেকে বেঁচে থাক।

১৮. বিনোদন এর জায়গা থেকে এই ভেবে দূরে থাক যে এর বিরুদ্ধেই আমার সংগ্রাম। সকল প্রকার প্রসন্নতা ও আরামদায়ক বিষয় থেকে দূরে থাক।

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *