লুণ্ঠিত ঐতিহাসিক নিদর্শন সমূহ

সময়কে কেউ বাঁধতে পারেনি, পারেনি থামিয়ে দিতেও। যুগে যুগে নানান ভঙ্গিমায় নানান আঙ্গিকে বিকশিত হয়েছে শিল্প। শিল্প যেমন বর্তমানকে করেছে প্রজ্বলিত, তেমনি অতীতকে বানিয়েছে তার আধার। জ্ঞান, ইচ্ছে, শিল্প ও প্রাচুর্যের জাদুকরী ছোঁয়া জন্ম দিতে পারে মহান ও জগদ্বিখ্যাত শিল্পকর্মের।যুগে যুগে এমন কিছুর নির্মাণ করেছে মানুষ, যা মুঠোবন্দী করেছে বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিকে – সময়ের আদি প্রকৃতির কিছু নির্যাসকে। ইতিহাসের পরতে পরতে লুকোনো নানা কাহিনী অপ্রকাশিত রয়ে গেলেও এক চিলতে ঘটনা কিংবা এক তিল পরিমাণ নিদর্শনই হয়তো নিজগুণে অমর হয়ে গেছে পৃথিবীতে। এসকল ইতিহাস কখনো রোমাঞ্চের যোগান দেয়, কখনো আলোকিত করে সত্য, আবার কখনো বা ঘনীভূত করে রহস্যকেও। নানা ঘটনার সমৃদ্ধ ভান্ডার যেমন ইতিহাস, তেমনি নানান ক্ষমতার পালাবদল, রক্তক্ষয়, নতুন যুগের সূচনারও সাক্ষীও ইতিহাস। ইতিহাসের পাতার এই রদবদলের খেলার ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে এমন সব ঐতিহাসিক বস্তুবিশেষ যেগুলো সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের বিচারে অত্যন্ত অর্থবহ। এরকম কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন বিদ্যমান যেগুলো কাল ও ক্ষমতার পালাবদলে লুণ্ঠিত কিংবা হারিয়ে যায় এবং এদের কতকগুলির বর্তমান মালিকানা নিয়েও বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। এই লেখনীর পরিসীমা সেসব ঐতিহাসিক বস্তুকে ঘিরেই, যেগুলোর নেপথ্যের ইতিহাস, হাতবদলের কাহিনী ও সৌন্দর্যের ছটা আপনাকে মোহমুগ্ধ না করে ছাড়বে না। এই সকল নিদর্শন দেখেছে সময়ের বয়ে চলা আর দিনরাত্রির পালাবদলকে, দেখেছে ক্ষমতার যুদ্ধ, ষড়যন্ত্র আর রাজনৈতিক ঘূর্ণিজলকেও। কখনো লুণ্ঠন কখনোবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাতবদল হওয়া আরো কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শনের গল্প শোনাবো আজ।

ময়ূর সিংহাসন, ভারত

সম্রাট শাহজাহান আদতে শৌখিন লোক ছিলেন, সেই সাথে মুঘল সম্রাট হবার গরিমাও কিছু কম ছিল না। শোনা যায় তার মতবাদ অনেকটা এমন ছিল যে, অযুত ধনরাশি ও রত্নাদি রাজকোষাগারে জমা রেখে কী লাভ? যদি না জনসম্মুখে তা জাহির করা যায়? মুঘল জৌলুস জাহির করবার ইচ্ছে থেকেই অনেকটা ময়ূর সিংহাসন তৈরির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন শিল্প ও সাহিত্যের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক এ সম্রাট।ময়ূর সিংহাসন ইতিহাসের বুকে এক ভাস্বর নাম। অসামান্য ও অমূল্য এ নিদর্শনের কথা জানতে হলে আপনাকে ঘুরে আসতে হবে সপ্তদশ শতাব্দী থেকে। মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনামলের স্বর্ণযুগ বলা হয় সম্রাট শাহজাহানের আমলকে। তাজমহলের নির্মাতা শাহজাহান কর্তৃক নির্মিত আরেকটি ঐতিহাসিক ও অসাধারণ নিদর্শন এই ময়ূর সিংহাসন- যা কিনা লাল কেল্লার ‘দিওয়ান-ই-খাস’ এর শোভা হিসেবে বিরাজমান ছিল। (তবে তাভেরনিয়ার এটিকে দিওয়ান-ই-আম এ দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন, কাজেই ধরে নেয়া যায় সিংহাসনটির অবস্থান মাঝে মধ্যেই দিওয়ান-ই-খাস ও আমের মধ্যে বদল করা হতো)

ময়ূর সিংহাসন

শিল্পীর কল্পনায় ময়ূর সিংহাসন

 

ময়ূর সিংহাসন তৈরি করতে সময় লেগেছিল ৭ বছর, কিন্তু খরচ পড়েছিল তাজমহল তৈরির খরচের দ্বিগুণ। ময়ূর সিংহাসনের বর্ণনা অনেকেই দিয়েছেন, যার মধ্যে ঐতিহাসিক আব্দুল হামিদ লাহোরি, এনায়েত খান, ফরাসি পর্যটক ফ্রাঙ্কোইস বার্নিয়ার এবং ফরাসি জহুরী জিন ব্যাপ্টিস্ট তাভেরনিয়ার। সব মিলিয়ে এর সম্পর্কে যা জানা যায় তা হলো:

পারস্যের পঞ্জিকানুযায়ী ১০৪৪ সালের নওরোজ (পারস্য বসন্ত উৎসব) এবং ‘ঈদ-উল-ফিতর’ একই দিনে (১২ই মার্চ, ১৬৩৫ খ্রিষ্টাব্দ) পড়ায় সেটিকে খুবই শুভ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং সম্রাট ঐদিনই প্রথম সিংহাসনটিতে আরোহণ করেন। দিনটি একসাথে ছিল সম্রাটের রাজ্যাভিষেকের সপ্তম বর্ষপূর্তির এবং এদিন এভাবেই সিংহাসনটির উদ্বোধন হয়। সিংহাসনটিকে আগে তাখত-মুরাসা বা রত্নসজ্জিত সিংহাসন বলে ডাকা হতো। পরবর্তীতে এর উপরে ময়ূর থাকার জন্য এর নাম ময়ূর সিংহাসন বা তাখত-এ-তাভূস (তাউস) হয়। সে সময়ের প্রায় এক কোটি (মতান্তরে চার কোটি) রুপির মণিমাণিক্য সিংহাসনটিকে সাজাতে ব্যবহৃত হয়েছিল। সিংহাসনটির মুখ্য স্বর্ণকারিগর সাইদ গিলানিকে বিবাদাল খান (অতুলনীয় পন্ডিত) উপাধি, পুরস্কার ও সম্রাটের ওজনের সমান স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

তাভেরনিয়ারের মতে, সিংহাসনটি ছিল ৬ ফুট X ৪ ফুট, উচ্চতা কতো ছিল তা তিনি উল্লেখ করেননি, তবে কোণের ৪টি পায়ের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ছিলো ২ ফুট। মতান্তরে লাহোরির মতানুযায়ী সিংহাসনটি ছিল ৯ ফুট X সাড়ে ৭ ফুটের, উচ্চতায় প্রায় ৫ গজের মতন। আবার এনায়েত খানের মতে তা ছিল লম্বায় সাড়ে তিন গজ, প্রস্থে আড়াই গজ এবং নিচ থেকে উপর পর্যন্ত উচ্চতা ছিল ৫ গজ। সিংহাসনটির ৬ টি পা ছিল। তাভেরনিয়ারের মতে, সিংহাসনের ২০ থেকে ২৫ ইঞ্চি লম্বা বিশাল ৪টি পা মোট চারটি ১৮ ইঞ্চির আনুভূমিক সোনার বার দিয়ে যুক্ত ছিল যা সিংহাসনের ভিত তৈরি করেছিল। এই ভিত্তির উপরে ছিল ১২টি কলাম যা তিনদিক থেকে (প্রতিপাশে চারটি) সিংহাসনটিকে ঘিরে রেখেছিল এবং সিংহাসনের চাঁদোয়ার ভিত হিসেবে কাজ করতো।

একমাত্র সম্রাট যেদিকে মুখ করে বসতেন, সেদিকে কোনো কলাম ছিল না, সেদিকটা ছিল উন্মুক্ত। লাহোরির মতানুযায়ী ১২টি কলামই ছিল পান্নার, তাভেরনিয়ারের মতে কলামগুলোয় সারি সারি মুক্তো বসানো ছিল, সেগুলো ছিল গোলাকৃতির এবং ৬-১০ ক্যারেটের। তাভেরনিয়ারের মতে, যে বারগুলো দিয়ে সিংহাসনের ভিত তৈরি হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে রুবি বসানো থাকতো এবং প্রতিটি রুবির চারদিকে চারটি করে পান্না বসিয়ে তৈরি হতো বর্গাকৃতির ক্রস। বারগুলোর দৈর্ঘ্য বরাবর এমন অনেকগুলো বর্গাকৃতি ক্রস বসানো ছিল যেগুলোর কোনোটার কেন্দ্রে রুবি ও চারিদিকে পান্না বসানো ছিল, আবার কোনোটির মাঝে পান্না ও তার চারদিকে রুবি বসানো ছিল। রুবি ও পান্নার মধ্যের স্থানগুলোয় হীরে বসানো ছিল বলে বলা হয়।

শিল্পীর কল্পনায় ময়ূর সিংহাসনে আসীন সম্রাট শাহজাহান

শিল্পীর কল্পনায় ময়ূর সিংহাসনে আসীন সম্রাট শাহজাহান

তাদের উভয়ের দেয়া বর্ণনার মধ্যে আরো অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করা যায় এই সিংহাসনের ওপরে স্থাপিত ময়ূরটিকে নিয়ে। লাহোরির মত অনুযায়ী সিংহাসনটির প্রতিটি পিলারের ওপরে দুটি করে ময়ূর এবং ময়ূর দুটির মাঝখানে একটি করে রত্ন বসানো গাছ থাকার কথা। ময়ূর ও গাছগুলোতে হীরে, পান্না, চুনি ও মুক্তো বসানো। এ বিবরণ সঠিক হলে সিংহাসনের ১২টি কলামের (পিলার অর্থ কলাম ধরে নিয়ে) জন্য মোট ২৪টি ময়ূর থাকবার কথা। কিন্তু তাভেরনিয়ারের বর্ণনা থেকে জানা যায় সিংহাসনের চতুর্ভুজাকার গম্বুজের ওপর একটিমাত্র বৃহৎ ময়ূর ছিল যার লেজটি ছিলো ছড়ানো এবং নীলকান্তমণি ও অন্যান্য রঙিন রত্ন বসানো। ময়ূরের শরীর সোনা দিয়ে তৈরি এবং মূল্যবান রত্ন খচিত এবং ময়ূরটির বুকে বৃহদাকৃতির একটি রুবি বা চুনি বসানো। এই চুনিটি থেকে একটি প্রায় ৫০ ক্যারেটের নাশপাতি আকৃতির বৃহৎ মুক্তো ঝুলতো। ময়ূরটির উভয়পার্শ্বে একটি করে স্বর্ণনির্মিত ফুলের তোড়া ছিল যাতে সোনা ও মূল্যবান রত্নপাথর সহযোগে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল নানা ফুল। তোড়া দুটি লম্বায় ময়ূরটির সমান ছিল।

সিংহাসনের গম্বুজাকৃতি ছাদের ভেতরের দিকে হীরে ও মুক্তো বসানো ছিল, এছাড়াও এর চতুর্দিকে মুক্তোর ঝালরও ছিল। দিওয়ান-ই-খাস (কিংবা আম) অভিমুখী দিকটিতে একটি ৮০-৯০ ক্যারেটের হীরে ও তাকে ঘিরে চুনি ও পান্না খচিত ছিল। তাভেরনিয়ারের মতে সিংহাসনটিতে বসানো বৃহৎ ব্যালাস রুবি বা চুনি ছিল যেগুলোর সবচেয়ে ছোটগুলি ১০০ ক্যারেটের এবং অনেকগুলি ২০০ ক্যারেট বা বেশিও ছিল। এতে পান্না ছিল মোট ১১৬টি যা চুনির থেকে বেশি, পান্নাগুলো ছিল চমৎকার রঙের তবে নিখুঁত নয়। এগুলো সর্বনিম্ন ৩০ থেকে ৬০ ক্যারেট পর্যন্ত ছিল। সিংহাসনটিতে একটি তরবারি, রাজদণ্ড, গোলাকৃতির ঢাল, ধনুকসহ তূণভরা তীর দেয়া ছিল। এছাড়াও সম্রাটের পেছনদিকে একটি বৃহদাকার পাশবালিশ ও দু’পাশে দুটি সমতল কুশন দেয়া ছিল। সেগুলিও মণিমুক্তাদি খচিত ছিল বলে জানা যায়।

লাহোরির বর্ণনামতে সিংহাসনে আরোহনের সিঁড়ি ছিল তিনটি, তাভেরনিয়ারের মতে তা চারটি। বলাবাহুল্য এই সিঁড়িগুলিও রত্নমণ্ডিত ছিল। এছাড়াও লাহোরির বর্ণনা থেকে জানা যায় সিংহাসনটিতে অত্যন্ত মূল্যবান পাথর; যেমন- ১৮৬ ক্যারেটের কোহ-ই-নূর, ৯৫ ক্যারেটের আকবর শাহ্‌ হীরে, ৮৮.৭৭ ক্যারেটের শাহ্‌ হীরে, ৮৩ ক্যারেটের জাহাঙ্গীর হীরে এবং ৩৫২.৫০ ক্যারেটের তিমুর রুবি বসানো ছিল। তবে তাভেরনিয়ারের বর্ণনাতে এমন কিছুর উল্লেখ নেই, শুধু শাহ্‌ হীরেটি সিংহাসনটির একপাশে বসানো ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলা হয় আকবর শাহ্‌ হীরে এবং কোহ-ই-নূর হীরে ময়ূরের চোখ হিসেবে বসানো ছিল।

লাহোরির মতে শাহজাহানের গুণগান গেয়ে মোহাম্মদ কুদসীর লেখা ২০টি যুগ্মক পঙক্তির একটি কবিতা পান্নার হরফে সিংহাসনে লেখা ছিল। তাভেরনিয়ার এসবের কিছুই উল্লেখ করেননি। তাভেরনিয়ারের মতে সিংহাসনের দুই দিকে দুটি স্বর্ণবাঁটযুক্ত রত্নখচিত লাল মখমলের ছাতা ছিল ৭-৮ ফুট দৈর্ঘ্যের, এগুলো সিংহাসনের অংশ না হলেও তার থেকে কিছু দূরে রাখা ছিল।

শিল্পীর কল্পনায় পারস্য সম্রাট নাদির শাহ্‌

লাহোরি এবং তাভেরনিয়ারের বর্ণনায় এত অমিল থাকার কারণ হিসেবে নানা যুক্তি দেয়া যায়। প্রথমত, লাহোরির বর্ণনাটি ১৬৪৮ সালের পূর্বে লেখা, হয়তো সেটি একেবারে পুরোপুরি মূল সিংহাসনটিকে নিয়ে না লিখে তার যে নকশা তৈরি করা হয়েছিল তার সাপেক্ষে লেখা হয়েছে। অপরপক্ষে তাভেরনিয়ার দিল্লী আসেন শাহ্‌জাহানপুত্র সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে, ১৬৬৫ সালে। ততদিনে মূল নকশা ছেড়ে হয়তো ভিন্নভাবে তৈরি হয়ে গিয়েছিল ময়ূর সিংহাসন কিংবা হয়তো তাতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

লাহোরির বর্ণনায় যে সব অমূল্য রত্নপাথরের বিবরণ আমরা পাই সেগুলো মূলত শাহ্‌জাহানের, তাভেরনিয়েরের সিংহাসন অবলোকন করার সময় শাহ্‌জাহান আওরঙ্গজেব কর্তৃক গৃহবন্দী অবস্থায় ছিলেন। তাই হয়তো সে সময় রত্নগুলো শাহ্‌জাহানের কাছেই ছিল, তাই সিংহাসনে সেগুলোর উপস্থিতি তাভেরনিয়ারের দৃষ্টিগোচর হবার কোনো সম্ভাবনাই নেই। ১৬৬৬ সালের ২২ জানুয়ারি শাহ্‌জাহান মারা গেলে রত্নগুলোর মালিকানা সে লাভ করে। কুদসী কর্তৃক লেখা কবিতাটির কথা তাভেরনিয়ার লেখেননি এর কারণ হিসেবে ধরা যায় হয় তিনি সেগুলো ভাষা না জানায় পড়তে পারেননি অথবা আওরঙ্গজেব সম্রাট হবার পর সেগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। লাহোরি কিংবা তাভেরনিয়ার কিংবা অন্যান্য বিবরণ দানকারী ব্যক্তিদের বক্তব্যের সত্যাসত্য যাচাই করার মতো ময়ূর সিংহাসনের কোনো ছবি নেই বলে কারটি সঠিক সেটা নিখুঁতভাবে বলা অসম্ভব।

সূর্য সিংহাসন

আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর একে একে মুঘল সাম্রাজ্যের শাসক হন প্রথম বাহাদুর শাহ্‌, জাহানদার শাহ্‌, ফররুখসিয়ার, রাফি-উদ-দারাজাত, দ্বিতীয় শাহ্‌জাহান। এদের পর শাসক হিসেবে আগমন ঘটে মুঘল বাদশাহ মুহাম্মাদ শাহ্‌ এর। এই মুহাম্মাদ শাহ্‌ এর কাছ থেকেই ময়ূর সিংহাসন নিয়ে যান পারস্য সম্রাট নাদির শাহ্‌। ১৭৩৯ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি কারনালের যুদ্ধে মুহাম্মাদ শাহ্‌কে পরাজিত করেন নাদির শাহ্‌ এবং একই বছরের মে মাসে দেশে ফিরে যাবার পথে জয়ের নিদর্শনস্বরূপ অজস্র ধনরত্ন ও অন্যান্য বস্তুর সাথে ময়ূর সিংহাসনটিকেও নিয়ে যান তিনি।

১৭৪৭ সালের ১৯শে জুন নাদির শাহ্‌ নিহত হবার পর থেকে ময়ূর সিংহাসনটিও নিখোঁজ হয়ে যায়। নাদির শাহ্‌ দিল্লীতে ১০ হাজার মানুষকে হত্যা করে এবং এই পরিমাণ সম্পদ লুঠ করে আনে যে, তিন বছরের জন্য কোনোপ্রকার কর আদায় করেনি সে। তার লুণ্ঠন করে আনা রত্নসম্পদ দিয়ে একটি তাঁবু তৈরি করেছিল সে যা তার মৃত্যুর পর টুকরো টুকরো করে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়া হয় এবং বলা হয় ময়ূর সিংহাসনের ভাগ্যেও ঠিক এমনি কিছু ঘটেছিল।

শিল্পীর চোখে ময়ূর সিংহাসন লুণ্ঠিত হবার পর সেই আদলে নির্মিত সিংহাসন ঝারোকা এ বিরাজমান দ্বিতীয় আকবর

আবার অনেকের মতে, ময়ূর সিংহাসনটি অটোম্যান সম্রাটকে উপহারস্বরূপ দেয়া হয়, তবে এর সত্যাসত্য নিয়েও সন্দেহ আছে। হয়তো ময়ূর সিংহাসনের অনুরূপ আরেকটি ছোট সিংহাসন তৈরি করে তা উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। কারো কারো মতে ময়ূর সিংহাসনের কিছু অংশ দিয়ে অন্য সিংহাসন যেমন- সূর্য সিংহাসন তৈরি করা হয়েছিল। আবার নাদির শাহ্‌ ময়ূর সিংহাসন নিয়ে যাবার পর অনুরূপ বিকল্প একটি সিংহাসন তৈরি করে দিওয়ান-ই-খাস এ রেখেছিল মুঘলরা। কালক্রমে সেটিও হারিয়ে যায়। এভাবেই কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে প্রাচুর্যমন্ডিত রত্নসজ্জিত বহুল আলোচিত ময়ূর সিংহাসন- যা একসময় মুঘল গরিমা ও বৈভবের প্রতীক ছিল।

অটোম্যান সম্রাটকে উপহার দেয়া সিংহাসন (তুরস্কের টোপকাপি প্যালেসে অবস্থিত)

দরিয়া-ই-নূর, ভারত

দরিয়া-ই-নূর বা আলোর সাগর একটি গোলাপি আভাযুক্ত হীরের নাম। গোলাপি রঙা হীরে বস্তুত খুবই দুর্লভ এবং যতগুলি গোলাপি হীরে আছে তার মধ্যে সর্ববৃহৎ ও পুরনো এই ১৮৬ ক্যারেটের (প্রায় ৩৭ গ্রাম) হীরেটি। হীরেটি গোলকুণ্ডার কল্লুর খনি থেকে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় এটি গ্রেট টেবিল ডায়মণ্ড (ডায়ামান্তা গ্র‍্যান্ডে টেবিল) থেকে কাটা হয়। গ্রেট টেবিল ডায়মন্ড থেকে কাটা দুটি অংশের একটি দরিয়া-ই-নূর এবং অপরটি ৬০ ক্যারেটের নূর-উল-আইন যা ইরানের রাজকীয় রত্ন সংগ্রহের অংশ হিসেবে থাকা একটি টায়রায় খচিত রয়েছে। দরিয়া-ই-নূর বর্তমানে বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংকে রয়েছে বলে শোনা যায়। যদিও ইরানের দাবি এটি তাদের কাছেই রয়েছে এবং তেহরানে অবস্থিত ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রয়েছে।

দরিয়া-ই-নূর

দিল্লী আক্রমণের পর বিজয়ী নাদির শাহ্‌ এটি সাথে করে পারস্য নিয়ে গিয়েছিল, তার মৃত্যুর পর তার পৌত্র শারুখ মির্জার হস্তগত হয় হীরেটি। এরপর সেটি লতিফ আলি খান ঝান্দ এর হাতে যায়। লতিফ আলি খান আগা মোহাম্মদ খান কাজারের হাতে যুদ্ধে পরাজিত হলে ঝান্দ বংশের হাতছাড়া হয়ে ইরানের কাজার রাজবংশের কাছে চলে যায় হীরেটি। এরপর নানা হাত ঘুরে সেটি পাহলভি রাজবংশের রেজা শাহ্‌ এর কাছে চলে যায় বলে বলা হয়। শোনা যায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নাকি হীরেটি হস্তগত করে এবং ১৮৫১ সালে সেটি লন্ডনের ক্রিস্টাল প্যালেসে প্রদর্শন করা হয়। তবে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় সেটি কখনোই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট ছেড়ে যায়নি!

দরিয়া-ই-নূর

তবে অন্যসূত্র মতে, হীরেটি নানা হাত ঘুরে পাঞ্জাবের মহারাজা রঞ্জিত সিং এর কাছে আসে এবং তার পুত্র দুলীপ সিং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট পরাজিত হলে মহারাজার রাজকোষাগারের অন্যান্য অনেক রত্নের মতো এটিকেও ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়। কিন্তু কোহিনূরের মতো এটি ব্রিটিশ রাজবংশের সদস্যদের আকর্ষণ করতে পারেনি। তাই দু’বছর পর এটিকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয় এবং সেখানে নিলামে এটিকে কিনে নেন বাংলাদেশের নবাব পরিবারের একজন সদস্য। এটি বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ভল্টে আছে।

কোহিনূর, ভারত

কোহিনূর (আদিঃ কোহ-ই-নূর) সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই জানি। ১০৫.৬০ ক্যারেটের জগদ্বিখ্যাত এই হীরেটি যে ভারতবর্ষেরই সম্পদ, এটাও আমাদের অবিদিত নেই। কোহিনূরের আসল নাম সামন্তিক মণি এবং প্রথমে এটি ছিল ৭৯৩ ক্যারেটের। গোলকুণ্ডার কল্লুর খনির রায়ালসীমা হীরকখনি থেকে এটিকে পাওয়া যায় কাকাতিয়া বংশের আমলে।

মালওয়ার রাজপরিবারে কয়েক প্রজন্ম ধরে থাকার পর এটিকে ১৩০৬ (মতান্তরে ১৩১০ কিংবা অন্যান্য মতবাদও বিদ্যমান) সালে কেড়ে নেন আলাউদ্দিন খিলজি। নানা পরিক্রমায় সেটি ইব্রাহিম লোদীর হাতে এসে পৌঁছায়। পরবর্তীতে বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীকে হারিয়ে দিলে লোদীর মা তাদের পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এটি বাবরপুত্র হুমায়ুনকে দেন। আবার অনেকের মতে গোয়ালিয়রের রাজঘরানা থেকে হুমায়ুনকে হীরেটি উপহার হিসেবে দেয়া হয়। কোহিনূরকে তাই বাবরের হীরেও বলা হয়। ১৭৩৯ সালের আগ অব্দি এটিকে সেই নামেই ডাকা হত।

পরবর্তীতে হুমায়ুন ভারতবর্ষে তার শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পারস্যের শাহ তামাস্পের সাহায্য প্রত্যাশা করেন এবং তাকে হীরেটি উপহারস্বরূপ দেন। শাহ তামাস্প সেটিকে উপহার হিসেবে ডেকান রাজ্যে পাঠিয়ে দেন।

কোহিনূর

ঐতিহাসিক এই হীরেটি নানা হাত ঘুরে আবারো মুঘল শাহী বংশে ফেরত আসে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের আমলে। মীর জুমলা নামক পারসি হীরে ব্যবসায়ীর মাধ্যমে হীরেটি আবারো মুঘলদের কাছে আসে এবং ১৭৩৯ সালের আগ পর্যন্ত সেটি মুঘলদের কাছেই ছিল। এরপর নাদির শাহ ভারবর্ষ আক্রমণ করে কোহিনূর সাথে করে পারস্যে নিয়ে যান।

কথিত আছে যে, পারস্য সম্রাট নাদির শাহ কোনোভাবে জেনে যান মুঘল বাদশাহ মোহাম্মদ শাহ তার পাগড়ির ভেতর হীরেটি লুকিয়ে রাখেন। তাই তিনি দুই সাম্রাজ্যের লোক দেখানো সহযোগিতাপূর্ণ বন্ধনের সম্মানে একটি গতানুগতিক পাগড়ি বিনিময়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এরপর মুহম্মদ শাহ এর পাগড়িটি হস্তগত হলে তিনি তার ভেতরে হীরেটি পেয়ে যান এবং এর জ্যোতি দেখে তার মুখ দিয়ে বেড়িয়ে যায়- ‘কোহ-ই-নূর’ শব্দটি, যার অর্থ আলোর পাহাড়। সেই থেকে এটি কোহ-ই-নূর নামেই পরিচিত যাকে কালের পরিক্রমায় বর্তমানে কোহিনূর বলা হয়।

১৭৪৭ সালে নাদির শাহ এর মৃত্যুর পর হীরেটি আহমাদ শাহ আবদালীর হস্তগত হয়, তার প্রয়াণের পর আফগানরা এটি শিখ ও পাঞ্জাবের মহারাজা রঞ্জিত সিং এর নিকট সমর্পণ করে। আবদালীর বংশধর শাহ সুজা উল মালিক দুররানি হীরেটিকে পাঞ্জাবের মহারাজার কাছে দেন, বিনিময়ে মহারাজা রঞ্জিত সিং তাকে আফগানিস্তানের সিংহাসন ফিরে পেতে সাহায্য করেন।

১৮৩৯ সালে মহারাজা রঞ্জিত সিং তার মৃত্যুশয্যায় কোহিনূরের মালিকানা পুরির জগন্নাথ মন্দিরকে দিলেন বলে অসিয়ত করে যান। কিন্তু তার পুত্র দুলীপ সিং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে এঁটে উঠতে পারেননি। অতঃপর ১৮৪৯ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দুলীপ সিং এর কাছ থেকে হীরেটি হস্তগত করে। মূলত ব্রিটিশরা সে সময় পাঞ্জাব বিজয় করে এবং লাহোর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুসারে শাহ সুজা উল মালিকের থেকে পাঞ্জাবের মহারাজার পাওয়া কোহিনূর হীরাটিকে লাহোরের বর্তমান মহারাজা বৃটেনের রাণী ভিক্টোরিয়ার নিকট সোপর্দ করবেন। বলা হয় এরপর হীরেটি জন লরেন্সের কাছে রাখা ছিল। পরবর্তীতে লর্ড ডালহৌসি লরেন্সকে হীরেটি লাহোর থেকে মুম্বাই পাঠাতে বলেন। এরপর ১৮৫০ সালের ৬ই এপ্রিল এইচ.এম.এস ম্যাডিয়া জাহাজে করে লর্ড ডালহৌসি ব্যক্তিগতভাবে কোহিনূর বহন করে ইংল্যান্ড নিয়ে যান। ১৮৫১ সালে দুলীপ সিং কর্তৃক রাণীকে হীরেটি দেবার জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কোহিনূর, ভারত

মূল হীরেটিকে কাটা হয় এবং রাজমুকুটে বসানো হয়। এই কাজটি করে গ্যারার্ড এন্ড কোং নামক কোম্পানি। ১৯১১ সালে রাণী মেরি দিল্লী রাজ্যাভিষেক দরবারে মুকুটটি পড়েন। ১৯৩৭ সালে সেটিকে স্থানান্তরিত করা হয় বর্তমান রাণী এলিজাবেথের এখতিয়ারাধীন রাজমুকুটটিতে। ভারত থেকে অসংখ্যবার কোহিনূর ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে বলা হয়েছে, তবে ফিরিয়ে দেবার কোনো ইচ্ছা বা পদক্ষেপের লেশমাত্র নেয়নি বৃটেন। ২০১৩ সালে ভারত সফরকালে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জানান দেন তারা ফেরততত্ত্বে বিশ্বাসী নন।

অতঃপর ভারত সরকার থেকে বলা হয় কোহিনূরের মালিকানা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না, কারণ এটি বলপূর্বক কেড়ে আনা হয়নি, বরং ভারত থেকে ব্রিটিশদের উপহারস্বরূপ দেয়া হয়েছিল। যদিও অনেকেই এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক এ হীরেটির গায়ে লেগে আছে অভিশাপও। জনশ্রুতি আছে কোহিনূর শুধুমাত্র মেয়েরাই পরিধান করতে পারে, ছেলেরা পরলে হীরেটির সাথে যুক্ত অভিশাপ তার দুর্ভাগ্য ডেকে আনে।

সম্রাট শাহজাহানের রাজকীয় সুরাপাত্র

মুঘল সম্রাট শাহজাহানের শিল্পকলা ও কারুকার্যের প্রতি যে প্রচুর আগ্রহ ছিল এর নানা নিদর্শন বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তেমনি একটি হলো সাদা রঙের নেফ্রাইট জেড দিয়ে তৈরি এই রাজকীয় সুরাপাত্র। এটির মূল উপকরণ জেড পাথরগুলি মধ্য এশিয়া নতুবা চীন থেকে আমদানিকৃত। শাহজাহানের জন্য বিশেষভাবে নকশাকৃত এই সুরাপাত্রটির অস্তিত্ব ছিল ১৬৫৭ সালে। সুরাপাত্রটির দৈর্ঘ্য ১৮.৭ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ১৪ সেন্টিমিটার। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর এটি কর্নেল চার্লস সেটন গুথরির হাতে আসে এবং নানা হাত ঘুরে একসময় এটির মালিকানা লাভ করেন যুগোস্লাভিয়ার রাণী মারিয়া। অবশেষে ১৯৬২ সালে ভিক্টোরিয়া এন্ড আলবার্টস মিউজিয়ামে জায়গা হয় জেড পাথরে তৈরি এই সুরাপাত্রের।

সম্রাট শাহজাহানের রাজকীয় সুরাপাত্র

টিপু সুলতানের তরবারি ও আংটি, ভারত

মহীশুরের বাঘ টিপু সুলতানের বীরোচিত মৃত্যুর পর ব্রিটিশ সৈন্যদল তার সম্পদ লুঠ করে এবং তার তরবারি ও আংটিটি সাথে করে নিয়ে যায়। ২০০৪ সাল পর্যন্ত এগুলো ব্রিটিশ মিউজিয়ামেই প্রদর্শিত হচ্ছিল। বিজয় মাল্য নামক ভারতীয় ব্যক্তি ১১ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো দিয়ে নিলামে টিপু সুলতানের তরবারিটি কিনে এটিকে পুনরায় ভারতবর্ষে ফিরিয়ে আনেন। এছাড়াও আরো অর্থ খরচ করে তিনি সুলতানের ৩০টি যুদ্ধ সামগ্রী ফিরিয়ে আনেন যার মধ্যে বাঁকানো তূণ, ফ্লিন্টক পিস্তল, কামান এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস বিদ্যমান।

টিপু সুলতানের তরবারি

টিপু সুলতানের আংটি

টিপু সুলতানের যান্ত্রিক বাঘ, ভারত

টিপু সুলতানের এই যান্ত্রিক বাঘ ব্রিটিশদের প্রতি তার তীব্র ঘৃণার প্রতীক। এটি একটি খেলনাবিশেষ যেখানে একটি বাঘ প্রায় আসল আকৃতির একজন ইউরোপীয় বা ব্রিটিশের উপর হামলা চালাচ্ছে। ১৭৯৯ সালে টিপু সুলতানকে যুদ্ধে হারিয়ে তার গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদে প্রবেশ করার পরে ব্রিটিশ সৈন্যরা এটি পায়। ১৮০৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া হাউজে সর্বপ্রথম এটির প্রদর্শনী করা হয় এবং ১৮৮০ সালে একে ভিক্টোরিয়া এন্ড আলবার্টস মিউজিয়ামে ‘ইম্পেরিয়াল কোর্টস অফ সাউথ ইন্ডিয়া’ শীর্ষক প্রদর্শনীটির অংশ হিসেবে রাখা হয়।

টিপু সুলতানের যান্ত্রিক বাঘ, ভারত

সুলতানগঞ্জের বুদ্ধমূর্তি, ভারত

১৮৬১ সালে রেলওয়ে নির্মানের কাজ করার সময় বিহারের ভাগলপুর জেলার সুলতানগঞ্জ শহরে সম্পূর্ণ ধাতব এই মূর্তিটি পাওয়া যায়। মূর্তিটির ওজন প্রায় ৫০০ কেজি। রেইলওয়ে ইঞ্জিনিয়ার ই.বি. হ্যারিস তৎক্ষণাৎ এটিকে বার্মিংহামে পাঠিয়ে দেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে মূর্তিটি ৫০০-৭০০ খ্রিষ্টাব্দের। বর্তমানে এটি ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের বার্মিংহাম মিউজিয়াম এন্ড আর্ট গ্যালারীর শোভাবর্ধন করছে।

সুলতানগঞ্জের বুদ্ধমূর্তি

মহারাজা রঞ্জিত সিং-এর সিংহাসন, ভারত

রেজিনের মূল ভিত্তি, সোনা, কাঠ ও কাঠের উল্টোপিঠে হাতুড়ি চালিয়ে সামনে কারুকার্য করা কাঠের পাত দিয়ে এই সিংহাসনটি তৈরি হয় ১৮২০ থেকে ১৮৩০ সালের ভেতর। এটি প্রস্তুত করেন স্বর্ণকারিগর হাফেজ মুহাম্মাদ মুলতানি। ১৮৪৯ সালে দ্বিতীয় অ্যাংলো-শিখ যুদ্ধে পাঞ্জাব বিজয়ের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এটি হস্তগত করে ইংল্যান্ডে পাঠায়। ১৮৫১ সালে ভারতীয় সাম্রাজ্যের অন্যান্য সম্পদের সাথে এটিকেও বৃহৎ প্রদর্শনীতে রাখা হয়। বর্তমানে এটি ভিক্টোরিয়া এন্ড আলবার্টস মিউজিয়ামে আছে। এর ইনভেন্টরি নম্বর ২৬১৮ (আইএস)।

মহারাজা রঞ্জিত সিং এর সিংহাসন

পাতিয়ালা নেকলেস, ভারত

অনিন্দ্য সৌন্দর্য্যের অধিকারী পাতিয়ালা নেকলেসটির নকশা করা হয় ১৯২৮ সালে। হাউজ অফ কার্টিয়ারের নকশা করা এই মনোলোভা হারটি মহারাজা স্যার ভূপিন্দর সিংকে উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। হারটিতে ছিল মোট পাঁচ সারি প্লাটিনামের তৈরি চেইন ও ২,৯৩০টি হীরে। এছাড়াও এতে অন্যান্য রত্নপাথরের পাশাপাশি বার্মিজ রুবি বসানো ছিল। মূলকেন্দ্রে বসানো ছিল প্রায় গলফ বলের আকৃতির হলদে হীরে ‘ডি বিয়ার্স ডায়মন্ড’। ২৩৪.৬ ক্যারেটের এই হীরেটি বিশ্বের সপ্তম বৃহৎ হীরে হিসেবে পরিচিত। ১৯৪৮ সালে এটি হারিয়ে যায়। হারিয়ে যাবার আগে শেষবারের মতো এটি ব্যবহার করেছিলেন ভূপিন্দর সিং এর পুত্র মহারাজা যাদবেন্দ্র সিং।

পাতিয়ালা নেকলেস

৫০ বছর পর কার্টিয়ারেরই একজন প্রতিনিধি নেকলেসটি খুঁজে পান। কিন্তু ততদিনে এটি তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় রত্নগুলি হারিয়েছে যার মধ্যে বার্মিজ রুবি ও ডি বিয়ার্স ডায়মন্ড অন্যতম। কার্টিয়ার এটিকে পুনরায় সজ্জিত করার সম্পূর্ণ চেষ্টা করে এবং কম মূল্যবান রত্ন, যেমন কিউবিক জিরকোনিয়াম ও অন্যান্য কমদামের রত্ন দিয়ে নেকলেসটিকে পুনর্গঠন করে। আসল নেকলেসটি থাকলে সেটির বর্তমান বাজারমূল্য হতো ২০-৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ধারণা করা হয়, মহারাজার পরিবারের সদস্যরাই হারটির রত্নগুলিকে আলাদা করে বিক্রি করে দিয়েছেন।

নাসাক ডায়মন্ড

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের মাহবুবনগরের অমরগিরি খনিতে এটি পাওয়া যায়। বর্তমানে ৪৩.৩৮ ক্যারেটের নীলচে-সাদা এই হীরেটিকে প্রথমবার ভারতেই কাটা হয়। ১৫০০-১৮১৭ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের নাসিকের নিকটবর্তী ত্রিম্বাকেশ্বর শিব মন্দিরে শিবের চোখ হিসেবে এটি বসানো ছিল। অ্যাংলো-মারাঠা যুদ্ধের সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এটি হস্তগত করে এবং ১৮১৮ সালে তারা সেটি ব্রিটিশ জহুরী রুনডেল এবং ব্রিজের কাছে বিক্রি করে দেয়। ঐ বছরেই রুনডেল এবং ব্রিজ সেটিকে পুনরায় কেটে প্রথম মারকুইস অফ ওয়েস্টমিনস্টারের তরবারির হাতলে বসান।

নাসাক ডায়মন্ড

১৯২৭ সালে নানা হাত ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রে আসে এই মোটামুটিভাবে পিরামিডাকৃতির এই হীরেটি। পরে আমেরিকান জহুরী হ্যারি উইনস্টন ১৯৪০ সালে প্যারিসে হীরেটি পান এবং সেটিকে কেটে বর্তমান নিখুঁত ৪৩.৩৮ ক্যারেটে আনেন। ১৯৪২ সালে তিনি এটিকে নিউ ইয়র্কের একটি জুয়েলারি ফার্মে বেচে দেন। ১৯৪৪ সালে মিসেস উইলিয়াম বি. লিডস এটিকে ষষ্ঠ বিবাহবার্ষিকীর উপহার হিসেবে পান ও আংটিতে পড়েন। নাসাক ডায়মন্ডটি সর্বশেষ ১৯৭০ সালে নিউইয়র্কে পাঁচ লাখ ইউএস ডলারে নিলামে বিক্রি করা হয় এডওয়ার্ড জে. হ্যান্ডের কাছে। হীরেটির বর্তমান বাজারমূল্য ৩.০৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

প্রিয়ামের গুপ্তধন, তুরস্ক

সোনা ও অন্যান্য পুরাকীর্তির সমন্বয়ে গঠিত প্রিয়ামের গুপ্তধন। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ হেইনরিচ স্ক্লিয়েম্যান আনাতোলিয়ায় (বর্তমানে তুরস্কের অংশ) এটি আবিস্কার করেন। তিনি এগুলোকে হোমারীয় রাজা প্রিয়ামের সম্পদ বলে দাবী করেন এবং সেগুলোকে বার্লিনে চালান করে দেন। জার্মানরা ভেবেছিল তিনি হোমারের ইলিয়াড মহাকাব্যের বিখ্যাত সেই ট্রয় নগরীর খোঁজ পেয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জার্মানি আক্রমণের সময় রাশিয়া জিনিসগুলি হাতিয়ে নেয়। ১৯৯৬ সালে রাশিয়ার পুশকিন জাদুঘর এই সম্পদগুলোর প্রদর্শনীর আয়োজন করে এবং তাতে জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। প্রতিবাদের পাশাপাশি এসব কিছু ফিরে পাবার দাবীও করা হয়। বলা বাহুল্য, এসব প্রতিবাদের কিছুই কোনো কাজে আসেনি।

প্রিয়ামের গুপ্তধনের কিছু অংশ

বৃদ্ধ জেলের অসম্পূর্ণ মূর্তি, তুরস্ক

প্রায় ২,০০০ বছরের পুরনো হাত পা বিহীন জেলের এই অসম্পূর্ণ মূর্তিটি তুরস্কের এফ্রোডিসিয়াস নামক অঞ্চলে পাওয়া যায়। থিওডোর উইগান্ড নামক এক জার্মান ১৯০৫ সালে এটিকে নিলামে কিনে নেন। এটি বর্তমানে জার্মানির বার্লিনে পারগামন মিউজিয়ামে আছে। ২০১২ সালে তুরস্কের পক্ষ থেকে এর মালিকানা চেয়ে জোর দাবী জানানো হলে ফাউন্ডেশন অফ প্রুসিয়ান কালচার হেরিটেজের প্রেসিডেন্ট হারমান পারজিঞ্জার সেটি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “এটি পুরনো জিনিসপত্রের সংগ্রহের সাথে ১৯০৪ সালে এখানে আসে। এটিকে একটি আর্ট মার্কেট থেকে কেনা হয়। এটি আইনসিদ্ধ এবং আমরা তা প্রমাণ করতে পারি। তাই এটা ফেরত দেবার পক্ষে কোনো যুক্তিই নেই।”

বৃদ্ধ জেলের অসম্পূর্ণ মূর্তি

স্ফিংসের দাড়ি, মিশর

স্ফিংসের ধাঁধা সংক্রান্ত গল্পটি কমবেশি আমরা অনেকেই জানি। স্থাপত্যকর্ম হিসেবেও স্ফিংসের কদরের কমতি নেই। মিশরের চতুর্থ রাজবংশের শাসনামলে তৈরি করা হয় স্ফিংস। সিংহের শরীর এবং রাজার মাথা বসানো এই স্থাপত্যটি আদতে ফারাও খাফ্রের আদলে তৈরি বলে বলা হয়। বহুল আলোচিত এই স্ফিংস স্থাপনাটির দাড়ি যে অংশটি দিয়ে তৈরি ছিল তা একসময় দুর্ঘটনাবশত ভেঙ্গে পড়ে। অতঃপর সেটিকে বহন করে দূরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ১৮১৮ সালে তা ব্রিটিশ মিউজিয়ামের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। এরপর থেকে ৪,৬০০ বছরের পুরনো এই পুরাকীর্তিটি ১৬০ বছর ধরে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের বেজমেন্টে সংরক্ষিত আছে। এটিকে মিশরে ফেরত দেবার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি।

স্ফিংসের দাড়ি

রোসেট্টা স্টোন, মিশর

আনুমানিক ২,২০০ বছরের পুরনো এই কালো রঙা ব্যাসল্ট পাথরটি ১৭৯৯ সালে মিশরের রোসেট্টায় একজন ফরাসী সেনা অফিসার খুঁজে পান। হায়ারোগ্লিফিক, লৌকিক ও গ্রীক ভাষায় খোদাই করা এই পাথরটিকে হায়ারোগ্লিফিকের মর্মোদ্ধারের চাবিকাঠি হিসেবে ধরা হয়, সেই সাথে মিশরের ইতিহাস উদঘাটনেরও। এই অসামান্য পুরাকীর্তিটি ব্রিটিশদের হাতে চলে যায় ১৮০১ সালে, যখন ফরাসীরা ব্রিটিশদের কাছে যুদ্ধে হেরে যায়। অতঃপর ১৮০২ সালে পাথরটির জায়গা হয় ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। তখন থেকে এটি সেখানেই আছে। যদিও মিশরের দিক থেকে কয়েকবার এটিকে ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে, ব্রিটিশ মিউজিয়াম তা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

রোসেট্টা স্টোন

নেফারতিতির আবক্ষমূর্তি, মিশর

প্রায় ৩,৪০০ বছরের পুরনো রাণী নেফারতিতির আবক্ষমূর্তিখানি আদপে মিশরে পাওয়া গেলেও এর বর্তমান অবস্থান জার্মানি। বার্লিনের নিউয়েস জাদুঘরে এটি প্রতিনিয়ত দর্শক আকৃষ্ট করে চলেছে এবং বছরে প্রায় দশ লাখ দর্শনার্থীকে সেখানে টেনে আনে এই পুরাকীর্তিটি। জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ লুডভিগ বোরচার্ডট ১৯১২ সালে এটি আবিষ্কার করেন এবং পরের বছরই এটি জার্মানিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। যদিও মিশর ১৯৩০ সাল থেকে মূর্তিটি ফিরিয়ে দেবার কথা বলে যাচ্ছে, মূর্তিটি অতদূর পরিবাহিত হবার পক্ষে অত্যন্ত নাজুক- এ কথা বলে সে সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে জার্মানরা।

নেফারতিতির আবক্ষমূর্তি

অ্যাম্বার রুম, রাশিয়া

১৭১৬ সালে প্রুসিয়ান রাজা ফ্রেডরিখ উইলিয়াম রুশ জার পিটার দ্য গ্রেটকে অ্যাম্বার নির্মিত একটি কক্ষ উপহারস্বরূপ দেন। এর দেয়ালগুলো ছিল খুবই সুন্দর ও মনোলোভা এবং একে পৃথিবীর অষ্টমাশ্চর্য হিসেবেও অভিহিত করতেন অনেকে। ১৯৪১ সালে জার্মান সৈন্যরা এটিকে চুরি করে কালিনিনগ্রাদ নামক শহরের দূর্গে নিয়ে আসে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে প্যানেলটি নিখোঁজ হয়ে যায়। ধারণা করা হয় সোভিয়েতদের করা অবরোধের সময় এটি ধ্বংস হয়ে যায় কিংবা শহরটি ধ্বংস হবার পূর্বেই এটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের ক্যাথরিন প্যালেসে দেয়ালটির একটি পুননির্মিত স্থাপনা রয়েছে।

অ্যাম্বার রুম

অ্যাম্বার রুম

ইশতার ফটক, ইরাক

ইরাকে খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে জার্মান দল এটি খুঁজে পায়। ব্যাবিলনের ভেতরের শহরের অষ্টম ফটক ছিল এই ইশতার ফটকটি। ৫৭৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রাজা দ্বিতীয় নেবুচাদনেজার শহরের উত্তরপার্শ্বে এটি নির্মাণ করেন। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে জার্মান একটি দল এটি খোঁড়াখুঁড়ি করার সময় খুঁজে পায়। এটির নিজস্ব ইটগুলো দিয়েই এর পুনঃনির্মাণ করা হয় এবং বর্তমানে এটি বার্লিনের পারগামন মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হচ্ছে।

ইশতার ফটক

ব্যবিলনীয় দেবী ইশতারকে উৎসর্গ করে ফটকটি বানানো হয়। এতে ড্রাগন ও ষাঁড় বসানো ছিল যা যথাক্রমে দুই দেবতা মারদুক ও আদাদকে নির্দেশ করে। ফটকটির ছাদ এবং দরজা সিডার কাঠের তৈরি এবং ইটগুলি ল্যাপিস ল্যাজুলির প্রলেপযুক্ত যা এতে চমক এনে দিয়েছে। এর দেয়ালগুলোর এনামেল করা হলুদ ও কালো রঙা ইটগুলোর ওপরে ১২০টি সিংহ, ড্রাগন, ষাঁড় ও ফুল রয়েছে যা দেবী ইশতারকে নির্দেশ করে। ইরাক থেকে এটি ফেরত দেবার জোরালো দাবী জানানো হলেও তা আমলে নেয়া হয়নি।

এলজিন মার্বেলস, গ্রীস

মার্বেল নির্মিত এই প্রাচীন গ্রীক মূর্তিগুলোকে পার্থেনন মার্বেলসও বলা হয়। এই মূর্তিগুলো নিয়ে অনেকদিন ধরে গ্রীস এবং ব্রিটিশ মিউজিয়াম এর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে অটোম্যান সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে গ্রীসে থাকার সময় লর্ড এলজিন (থমাস ব্রুস, ৭ম আর্ল অফ এলজিন) এথেন্সের এক্রোপলিস থেকে এই মূর্তিগুলো ব্রিটিশ মিউজিয়ামে স্থানান্তর করেন। ১৮১৬ সাল থেকে এই পুরাকীর্তি ব্রিটিশ মিউজিয়ামের এক অনবদ্য অংশ হয়ে আছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন মূর্তিগুলো গ্রীসে ফিরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, মূর্তিগুলো ব্রিটিশ মিউজিয়ামের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে এই দুই দেশকে একটি মধ্যস্থতায় এসে এ বিবাদ মিটিয়ে ফেলতে বলা হয়।

এলজিন মার্বেলসের একাংশ

ঐতিহাসিক এসব নিদর্শনের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে জ্ঞান ও কাহিনী। এগুলো নানা সময়ের সাক্ষী, কালদর্শী। এসব নিয়ে যেমন আলোচনার কমতি নেই তেমনি অপ্রতুল নয় বিতর্কও। ইতিহাসের বহু লুণ্ঠিত নিদর্শন এভাবেই তুলে ধরে অতীতকে। সময়ের প্রবাহ ও পরিস্থিতির নীরব সাক্ষী এসকল নিদর্শন। বর্তমানে একইসাথে বিতর্ক, বিবাদ ও আগ্রহের জন্ম দেয়া এই সকল নিদর্শন আদি স্থান থেকে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে যাওয়া এইসব অনন্য বস্তুর কাহিনীর ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে কালের নানা অধ্যায়। পর্যটকের আকর্ষণে পরিণত হওয়া এসব অমূল্য বস্তুর কোনো কোনোটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ আছে আবার কোনোটির নেপথ্যের ইতিহাসের ব্যাপ্তি তাই জ্ঞানর খোরাকও বটে!

 

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *