মিশর রহস্য

কিছুটা সত্য, কিছুটা মিথ্যা আর কিছুটা কল্পনার আদলেই তৈরি হয় ইতিহাস ৷ সেটা যদি হয় পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম সভ্যতা গুলোর মাঝে অন্যতম একটি সভ্যতার ইতিহাস তাহলে তো আরো এক কাঠি সরেস ৷ বলছি মিশরীয় সভ্যতার কথা ৷

প্রাচীন মিশরীয় রহস্যপূর্ণ কিছু ইতিহাসের বর্ণনা তুলে ধরা হলো যেগুলোর উদঘাটন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি এখন পর্যন্ত –

হলিউডের বিখ্যাত “The Mummy” সিরিজের মুভিগুলোর কথা মনে আছে! যেখানে দেখা যায় প্রাচীন মিশরের ইতিহাসের এক ঝলক ৷ প্রাচীন মিশরের ইতিহাস এতটাই সমৃদ্ধশালী আর রহস্যপূর্ণ যে সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব হয়ে উঠেনি আজ অবধি ৷ হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মিলবে এর সমাধান ৷ চলুন ঘুরে আসি সেই রহস্যময় মমির দেশ থেকে।

কিং তুতের মৃত্যু রহস্য

তরূণ বয়সে মৃত্যুবরণ করলেও মিশরের ফারাওদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত তুতেনখামেন ( Tutankhamun) বা সংক্ষেপে কিং তুত ৷ এই বিখ্যাত ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা৷ যার রহস্যন্মোচন করা সম্ভব হয়নি আজও। কিং তুতের মাথার পিছনের অংশে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন থাকায় অনেকে মনে করে তাঁকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে ৷ তুতের উপদেষ্টা Aye কে সন্দেহভাজন মনে করা হতো ৷তুত মারা যাওয়ার পর সে ক্ষমতা দাবি করে এবং তুতের বিধবা স্ত্রী কে বিয়ে করলে সেই সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়৷ সৌভাগ্যক্রমে কিং তুতের মৃত্যুর আরো অনেক সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে এটাকে আর আমলে নেয়া হয়নি ৷

লন্ডনের রিসার্চারের মতে তিনি রথ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অগ্যস্ত যাত্রা করেন। আবার ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এর মতে জলহস্তির আক্রমণের স্বীকার ( মিশরে তখনো জলহস্তির বিলুপ্তি ঘটেনি) হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

viscera_coffinette
বিখ্যাত তুতেনখামেন ( Tutankhamun)

অন্যদিকে প্রফেসর আলবার্ট জিঙ্কের মতে, তিনি সম্ভবত ইনসেস্ট( incest) হওয়ার কারণে হরমোন জটিলতায় মৃত্যু বরণ করেন ৷ উল্লেখ্য, তাঁর বাবা-মা ছিলেন সম্পর্কে ভাই-বোন। রহস্যটি আরও ধূম্রজালে জড়িয়ে যায় যখন শোনা যায় তাঁর ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করার সম্ভাবনার কথা ৷এত এত সম্ভাবনা আজ অব্দি কেবল সম্ভাবনাই রয়ে গেছে ৷

মমিফিকেশন শুধু ফারাওদের জন্যই

এতদিন ধারণা ছিল মমিফিকেশন বা মমিকরণ কেবল বিশেষ ব্যক্তি বা ফারাওদেরই প্রাপ্য ছিল ৷ বাস্তবে উচ্চ বংশীয় ছাড়াও যাদের আর্থিক সামর্থ্য ছিল তারাও এই মমিফিকেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেত ৷

ফারাওদের সাথে ব্যক্তিগত ভৃত্যদেরও সমাধিস্থ করা হতো

ফারাওরা ভৃত্য সমেত সমাধি লাভ করবে এটাই পপ কালচার (পপুলার কালচার) এর অংশ হিসেবে ধরা হয় ৷
বাস্তবে এই ধারণার কোন ভিত্তি নেই ৷ মূলত গুটিকয়েক প্রাচীন মিশরীয় ফারাও এই ট্র্যাডিশনটা শুরু করেছিলেন তবে সেটা একদম প্রথম রাজবংশের পর বিলুপ্ত হয়ে যায় ৷


ফারাওদের সাথে ব্যক্তিগত ভৃত্যদেরও সমাধিস্হ করা হতো

তারমানে এই না যে ফারাওরা চাকর-বাকর ছাড়াই স্বর্গে অবস্থান করবে, নিজের কাজ নিজে করবে! তাঁদের সাথে চাকরদের কাঠের প্রতিকৃতি বানিয়ে সমাধিস্থ করা হতো যাতে তাঁরা পরকালেও নির্বিঘ্নে দিনানিপাত করতে পারে ৷

ফারাওদের অভিশাপ

কিং তুতের মমি আবিষ্কারের পর ফারাওদের অভিশাপের কথা ছড়িয়ে পড়ে ৷ অনেকেই বিশ্বাস করতো ফারাওদের অভিশাপ সত্যিই রয়েছে ৷ আবিষ্কারের দিনই খননকার্যের প্রধান হাওয়ার্ড কার্টারের ক্যানারি পাখিটিকে সাপ খেয়ে ফেললে অভিশাপের অস্তিত্বের বিশ্বাস আরো প্রবল হয়ে পড়ে ৷


ফারাওদের অভিশাপ

কিন্তু অনেক গবেষনার পর বর্তমানে আর গুরুত্ব দেয়া হয় না ৷ সমাধি উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই তাঁদের জীবদ্দশায় বহাল তবিয়তেই ছিল ৷ কোন অপঘাতে মৃত্যু হয়নি তাদের ৷

 

ক্লিওপেট্রা ছিলেন আবেদনময়ী

সম্মোহনী রূপের অধিকারী ক্লিওপ্লেট্রা ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত নারী ৷ তবে ক্লিওপ্লেট্রাকে  অনেকেই পরমাসুন্দরী হিসেবে আখ্যায়িত করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না ৷ বরং মনে করা হয় ক্লিওপেট্রা তাঁর প্রখর বুদ্ধিমত্তার জন্যই কিংবদন্তী রাণী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন ৷

অনেকের মুখে এও শোনা যায় তাঁর চেহারায়  কিছুটা পুরুষালী ভাব ছিল ৷ দুর্ভাগ্যক্রমে তাঁর কোন পোর্ট্রেট বা মূর্তি না থাকায় পুরোপুরি জানা যায় না ৷ কেবল তৎকালীন যুগের মুদ্রায় খোদিত আছে তাঁর ছবি ৷ এখানে অবশ্য তাঁর চেহারার জৌলস ফুটে উঠে নি ৷ তাঁর মমির সন্ধান পাওয়া গেলে হয়তো নিশ্চিত হওয়া যাবে ৷

সর্বজনীন ভাষা হায়ারোগ্লিফিক্স

রোসেটা স্টোন আবিষ্কারের পূর্বে তৎকালীন মিশরের হায়ারোগ্লিফিক্সের পাঠোদ্ধার প্রায় অসম্ভব ছিল ৷  হায়ারেগ্লিফিক্সে  মূলত ছবি খোদাই করে একে সব বুঝানো হতো ৷ তাই অনেকেরই সন্দেহ ছবি এঁকে এঁকে কি সবকিছু বুঝানো সম্ভব!

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে, হায়ারোগ্লিফিক্স থেকেই পরবর্তীতে হায়ারেটিক ও ডেমোটিক ভাষার প্রচলন শুরু হয় ৷ হায়ারোগ্লিফ সমাধিফলকে লিখার জন্য ও পুরোহিতরা সাধারনত ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করতেন ৷

পিরামিডের অবস্থান মরূভূমির মাঝখানে

পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তমাশ্চর্যের অন্যতম একটি মিশরের পিরামিড ৷ মিশরের পিরামিডের কথা শুনলেই দিব্য  চোখে আমরা দেখতে পাই মরুভূমির মাঝখানে স্বগর্ভে দাঁড়িয়ে থাকা এক বিস্ময়, অর্ধমৃত উট, বালির ঝড়, তৃষ্ণার্ত পথিক ৷

গ্রেট পিরামিডের চেম্বারসংখ্যা

বাস্তবে পিরামিডের অবস্থান কায়রোর সীমান্তবর্তী এলাকায় ৷ একটি পিরামিড থেকে আরেকটির অবস্থান হাঁটা দূরত্বে ৷

ইহুদি ক্রীতদাসরা তৈরি করেছিল পিরামিড

হলিউড সিনেমায় সচরাচর এটাই দেখানো হয় যে ইহুদী ক্রীতদাসরা পিরামিড তৈরি করেছে ৷ অবশ্য এর নেপথ্য কারণ হিসেবে থাকতে পারে আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য নিশ্চয় কেউ কায়িক পরিশ্রম করে পিরামিড তৈরি করবে না ৷ অবশ্যই জোড় করেই করানো হয়েছিল ৷ প্রায় দশহাজার দক্ষ শ্রমিক মিলে পিরামিড তৈরিতে কাজ করেছিল ৷ দাসপ্রথা তো সেই সময় প্রচলিত ছিলই ৷ তবে ইহুদিদের কথাটা প্রতিষ্ঠিত করেন সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী মেনাচেম বেগিম ৷ বেগিমের ধারণা অবশ্য একেবারে  উড়িয়ে দেয়া যায় না কারণ ইহুদীদের ক্রীতদাস হিসেবে ব্যবহার করা হতো ঐ সময় ৷

আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেটের সমাধি

পৃথিবী বিখ্যাত শাসক আলেকজান্ডার ৩২৩ খ্রিস্টপূর্বে মৃত্যুর পূর্বেই ইচ্ছাপূষণ করেছিলেন যেন তাঁর লাশ ইউফ্রেটিস নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয় ৷ এতে করে তাঁর শুভাকাঙ্খীরা বিশ্বাস করবে তিনি স্বর্গে তাঁর বাবা গড আমুন (Ammon) এর সান্নিধ্য লাভ করেছেন ৷

where-is-alexander
আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেটের সমাধি

কিন্তু তাঁর অনুসারীরা তা করতে পারেননি ৷ কথিত আছে, তাঁর সমাধি পর পর তিনটি জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয় ৷ কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, মহান এই বীরের সমাধির কোন অস্তিত্বই এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না ৷এমনকি তাঁর মমির হদিসও মেলে নি ৷ তাঁর সমাধি/মমি খোঁজার উদ্দেশ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় শ’ খানেক অভিযান চালানো হয় ৷ কিন্তু সব আশার গুঁড়ে বালি ৷শুধু একটা বিষয়ে মোটামোটি নিশ্চিত হওয়া গেছে ৷ নিরুদ্দেশ হওয়ার আগ পর্যন্ত আলেকজান্দ্রিয়াতেই ছিল তাঁর সমাধিস্থল ৷

ডেনডেরা লাইট

ডেনডেরা লাইট, প্রাচীন মিশরের আরেক বিস্ময়৷ ছবিতে দেখা যায়, একজন লোক বিশাল আকারের একটি টিউব ধরে রেখেছে৷ টিউবটি মূলত কিসের কেউ জানে না৷ তথাকথিত একজন স্যুডো- বিজ্ঞানী দাবি করনে এটি ব্যাটারি বা ইলেকট্রিক টিউব হতে পারে৷ ইজিপ্টলজিস্টরা আবার চিত্রকর্মটিকে পদ্মফুলের সাথে তুলনা করেছেন ৷

ইজিপ্টলজিস্টদের ব্যাখার সামনে বিজ্ঞানীর ব্যাখ্যা ধোপে টেকেনি কারণ প্রাচীন মিশরে তো বিদ্যুৎই ছিল না৷

স্ফিংক্সের প্রকৃত পরিচয় কি?

মানুষের মাথা আর সিংহের শরীরের আদলে গড়া মিশরের বিখ্যাত পিরামিড গ্রেট স্ফিংক্সের নাম শোনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তবে এর পেছনের ইতিহাসটা খুব কম মানুষই জানে।স্ফিংক্সের প্রকৃত পরিচয় কি?

এটি তৈরি করেন ফারাও খাফরে ৷ চুনাপাথরে তৈরি বিখ্যাত মনুমেন্টটি তৈরি করতে ১০০ শ্রমিকের প্রায় ৩ বছর সময় লেগেছিল ৷ কিন্তু তখন স্ফিংক্সকে কি বলে ডাকা হতো সেটাই হচ্ছে মূল রহস্য ৷ কারণ গ্রিক শব্দ “স্ফিংক্স” এই স্মৃতিস্তম্ভটি তৈরি করার সময় প্রচলিত ছিলনা ৷ মিশরীরদের ইতিহাসের লিখিত দলিল না পাওয়ায় , কোন উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি প্রকৃতপক্ষে কি উদ্দেশ্যে স্ফিংক্স তৈরি করা হয়েছিল, বা এর আসল নাম কি ছিল।কথিত আছে, ঐ সময় তারা এটাকে বব নামে ডাকত ৷ববের ব্যাপারে যে বিষয়টা আমাদের এখনো ভাবায় সেটা হচ্ছে, এটা আসলে কিসের প্রতিক!

টেম্পলের লুকানো জুতা রহস্য!!

২০০৪ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদ এঞ্জেলো সেসানা একটি জার্নালে প্রকাশ করেন, তিনি এবং তার দল লাক্সার মন্দিরের ভিতর দুই দেয়ালের মাঝে একটি জার /পাত্র আবিষ্কার করেন ৷ ভিতরে সাত জোড়া জুতা ছিল ৷ তাঁর ধারণামতে এই ইচ্ছাকৃতভাবে লুকানো পাদুকাগুলো প্রায় ২০০০ বছর পুরনো ৷ সেখানে কেনইবা জুতাগুলা রাখা হয়েছিল এগুলোর মালিকের ভাগ্যেই বা কি ঘটেছিল তা এক রহস্যই বটে!


টেম্পলের লুকানো জুতা রহস্য

প্রাচীন মিশরীয় পাদুকা বিশেষজ্ঞ আন্দ্রে ভেল্ডমেইজার এর মতে এগুলো খুবই দামী ৷ এ থেকে তিনি ধারণা করেন যারাই এই জুতার মালিক ছিল তারা অবশ্যই উচ্চবিত্ত শ্রেণীর ৷ কিন্তু কারও কোন ধারণা নেই তাদের পরিচয় সম্পর্কে ৷

কার্বন ডেটিং এর মাধ্যমে মোটামোটি নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে জুতার বয়সকাল সম্পর্কে কিন্তু হঠাৎ আবিষ্কারের উত্তেজনায় জুতাগুলো সাবধানে না রাখার কারণে কিছুটা ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়াতে কার্বন ডেটিং করাটা রিস্কি হয়ে গেছে।
আর্তনাদ অভিব্যক্তির মমি

মুখ হাঁ করে থাকা মমি গুলোকে দেখে আর্তচিৎকার করছে এমন ভাবার কোন কারণ নেই। সাধারণত প্রাচীন মিশরে বেশিরভাগ মমিকেই বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জোড় করেই হা করিয়ে দেয়া হতো যাতে করে মৃত্যুর পর তাদের আত্মার খাওয়া – দাওয়া করতে বা শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণে কোন বেগ পেতে না হয়!! অদ্ভূত বটে!

আর্তনাদ অভিব্যক্তির মমি

কিন্তু এমন একটা বিশেষ মমি আছে যেটার অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে সত্যিকারের মৃত্যুযন্ত্রণা ৷ ১৮৮৬ সালে আবিষ্কৃত মমিটির আর্তচিৎকারের কারণ বের করতে পারে নি কেউ ৷ অনেকের ধারণা তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল আবার অনেকের ধারণা তাকে জীবন্ত অবস্হাতেই কবর দেয়া হয়েছিল ৷

২০০৮ সালে এক গবেষণায় উঠে আসে, মমিটা প্রিন্স পেন্তেওয়ারের হতে পারে যাকে তাঁর পিতৃহত্যার ষড়যন্ত্রের সন্দেহে মেরে ফেলা হয় ৷

কিন্তু তাঁর সম্পর্কে সব তথ্যই কেবলমাত্র একটি তাত্ত্বিক মতবাদ ৷ ডিএনএ টেস্ট ছাড়া কোন কিছুই স্পষ্টভাবে বলা সম্ভব নয় ৷
রাণী নেফারতিতির অন্তর্ধান রহস্য

মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রার কথা বাদ দিলে রাণী নেফারতিতির মতো বিখ্যাত আর কেউ আছে বলে জানা যায় নি ৷ খ্রিষ্টপূর্ব ১৩৩৬ এর পরে তাঁর সম্পর্কে আর কোন তথ্য পাওয়া যায় নি ৷ এমনি তার সমাধি, মমি কোন কিছুরই অস্তিত্ব নেই ৷

রাণী নেফারতিতির অন্তর্ধান রহস্য

শুধু রয়েছে কিছু মতবাদ ৷ পুরুষের ছদ্মবেশ নিয়ে তাঁর নাম পরির্তন করার কথাও শোনা যায় ৷

সম্প্রতি কিং তুতের সমাধিতে আরও চেম্বার থাকতে পারে এমন একটি সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে ৷ যদি সত্যিই তা থাকে আর সেখানে নেফারতিতির মমি পাওয়া যায় তাহলে হয়তো তাঁর মৃত্যু রহস্যের একটা সমাধান মিলতে পারে ৷
গ্রেট পিরামিডের চেম্বারসংখ্যা

পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তমাশ্চর্যের একটি হচ্ছে গিজার এই পিরামিড ৷ এটাতো সবাই জানে ৷ কিন্তু রহস্যটা হচ্ছে এতদিন সবাই জানতো এখানে মূলত তিনটি চেম্বার আছে – কিংস চেম্বার, কুইন্স চেম্বার এবং গ্র্যান্ড গ্যালারি ৷

গ্রেট পিরামিডের চেম্বারসংখ্যা

বিস্ময়করভাবে ভিতরে আরো গুপন কুঠুরি থাকতে পারে সম্প্রতি এমন কথাও শুনা যাচ্ছে ৷

স্ক্যান পিরামিড দলের পরীক্ষা- নিরীক্ষা শেষে হয়তো রহস্যের জট কিছুটা খুলতে পারে ৷
সি পীপল বা সমুদ্র ত্রাস

ধারণা করা হয়, সি পীপল রা মূলত ছিল জলদস্যু৷ তাদের মূল টার্গেট ছিল ধন সম্পদ আর প্রাচূর্যের দেশ মিশর ৷

মিশরের বিভিন্ন ডকুমেন্টে তাদের কথা পাওয়া যায় কিন্তু তারা আসলে কারা ছিল বা কোথা থেকে এসেছিল এসবের কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না ৷
সি পীপল বা সমুদ্র ত্রাস

রাজা দ্বিতীয় রামসেসের মতে, তারা হিট্টিস দের স্বজাতীয় ৷ আবার আরেকজন ফেরাউনের মতে, তারা লিবিয়ানদের স্বজাতীয় ৷

বিভিন্ন দ্বিমতের কারণে অনেকেই মনে করেন তারা ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে আগত ভাড়াটে সৈন্য যাদের মূল কাজই ছিল লুটতরাজ করা ৷
ইয়াম রাজত্বের অবস্থান আসলে কোথায় ?

প্রায় ৪০০০ বছর আগে মিশরের কাথাও ইয়াম নামে এক রাজ্য ছিল ৷ এটা খুবই উর্বর ভূমি বলে জানা যায়৷ তবে ইজিপ্টলিস্টরা এখনো সনাক্ত করতে পারেনি ইয়াম রাজ্যের অবস্থান ।
ইয়াম রাজত্বের অবস্হান আসলে কোথায় ?

কেউ কেউ মনে করে ইয়ামের অবস্হান সম্ভবত মিশরের দক্ষিণে ছিল কারণ উত্তর দিকের ভূমি খুবই রুক্ষ ছিল ৷ মিশরীয় ট্রেজারার হারখুফের সমাধিফলকে লিপিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়, তিনি নাকি ইয়াম অভিযানে প্রচুর মূল্যবান সম্পদ আহোরণ করেন। তাই ইয়াম খুবই উর্বর ভূমি ছিল বলে মনে করা হয়।
কুরনায় কাকে কবর দেওয়া হয়েছিল?

১৯০৮ সালে অকস্মাৎ রাজকীয় একটি কবরস্হানের সন্ধান পাওয়া যায় যেটা এর আগে কারও চোখেই পড়ে নি ৷ এখনো কেউ জানেনা কাকে কবর দেয়া হয়েছিল এখানে ৷

কবরে অজ্ঞাতনামা দুটি মমির সন্ধান পাওয়া যায়৷খুঁজে পাওয়া মমি দুটোর একটি একজন মহিলার এবং আরেকটি শিশু বাচ্চার ৷ সম্ভবত বাচ্চাটি তাঁরই ছিল ৷

কুরনায় কাকে কবর দেওয়া হয়েছিল?

দুটি মমির গায়েই ছিল মূল্যবান গয়না ৷ এ থেকে কিছুটা অনুমান করা যায় মমি দুটো সম্ভবত উচ্চ বংশীয় কেউ হবে।

২০১৮ সালে স্কটল্যান্ড মিউজিয়াম গ্যালারী তে প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে মমি দুটো ৷

হয়তো তখন কেউ আইডেন্টিফাই করলেও করতে পারে ৷
রোসেটা স্টোন

রোসেটা স্টোন, ভাষা শিক্ষা সফটওয়ার হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগে পৃথিবীতে একটিই রোসেটা স্টোন ছিল ৷ যা মিশরের মূল্যবান সম্পদ। ভাষাতত্ববিদরা তিনটি ভাষার পাঠোদ্ধার করেন রোসেটা স্টোনে- হায়ারোগ্লিফ, প্রাচীন মিশরীয় লৌকিক (demotic), প্রাচীন গ্রিক ৷

রোসেটা স্টোন

কিন্তু কোন উপভাষাটি প্রধান যেটা প্রথমে লিখা হয়েছিল এবং বাকি দুটো সেই ভাষার অনুপ্রেরণায় অনুবাদ করা হয়েছিল এটা এখনো জানা যায়নি ৷

এটা জানাটা একটু কষ্টকরই বটে কারণ প্রাচীন মিশরীয় যুগে তিনটি ভাষায় সমানভাবে জনপ্রিয় ছিল ৷

নাবতা প্লায়া পাথরের বৃত্ত কে বানিয়েছিল ?

নাবতা প্লায়া হচ্ছে চারপাশে চেপ্টা পাথর দ্বারা বেষ্টিত মাঝখানে লম্বা পাথরের বৃত্ত বিশেষ ৷ এটি মিশরের আরেকটি বিস্ময়, যা ১৯৭৪ সালে আবিষ্কৃত হয় ৷ আর্কিওলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা বিখ্যাত স্টোনহেঞ্জের মতো এত বিশাল না হলেও তৈরির উদ্দেশ্য হয়তে একই ছিল ৷ হয়তো বলা হচ্ছে, কারণ কেউ জানে না এগুলো কেন বসানো হয়েছিল বা কে বানিয়েছিল ৷
নাবতা প্লায়া পাথরের বৃত্ত কে বানিয়েছিল ?

কারও মতে, এটা মহাকাশ সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য বসানো হয়েছিল আবার কারও মতে এটি আশেপাশের সমাধি নির্দেশের জন্য তৈরি করা হয়েছিল ৷
দ্বিতীয় স্ফিংক্সের অস্তিত্ব

এতকাল একটি স্ফিংক্সের কথাই সবাই জেনে এসেছে ৷ ২০১৩ সালে সিএনএন এর রিপোর্ট অনুযায়ী আর্কিওলজিস্টরা ইসরাইলে ৪০০০ বছর পুরাতন আরেকটি স্ফিংক্সের ভগ্নাংশ খুঁজে পায় ৷

শুধু পায়ের ভগ্নাংশ৷ তাঁরা ধারণা করছেন বাকি অংশ অনেক আগেই ভেঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে ৷ আরেকটি রহস্য হচ্ছে এটা ইসরাইলে কিভাবে গেল!

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *