ভারতীয় উপমহাদেশে নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) আগমন ও তাঁদের রওযা শরীফের সন্ধান লাভের বিস্ময়কর ইতিহাস

পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তেই, প্রতিটি যুগেই পবিত্রাত্মা নবীগণের (’আলাইহিমুস সালাম) মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল আল্লাহর প্রত্যাদেশ (ওহী) এবং একত্ববাদের পরিচয় – এটা যেমন অকাট্য সত্য, তেমনি অন্যান্য অঞ্চলের মত আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশেও নবীগণের আগমনের ইতিহাস কিংবা তাঁদের রওযা শরীফের অস্তিত্ব থাকা বিস্ময়কর কিছু নয়। আল্লাহ পাক আল-কুরআনে এরশাদ করেন –

… প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছেন হেদায়েতকারী (বা পথপ্রদর্শক )। (সূরা রা’দঃ ৭)
… এবং এমন কোনো সম্প্রদায় নেই, যাদের নিকট সতর্ককারী প্রেরিত হয়নি। (সূরা ফাতিরঃ ২৪)
এবং আমি প্রত্যেক রসূলকে তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে প্রেরণ করেছি, যেন সে তাদেরকে পরিষ্কারভাবে বলে দেয়…।(সূরা ইবরাহীমঃ ৪)
এবং নিশ্চয় আমি আপনার পূর্বে অসংখ্য রসূল প্রেরণ করেছি, যাঁদের মধ্যে কারও কারও অবস্থাদি আপনার নিকট বর্ণনা করেছি আর কারও কারও অবস্থাদি বর্ণনা করিনি।” (সূরা মু’মিনঃ ৭৮)

হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী শায়খ আহমদ সিরহিন্দ (রাদ্বি’আল্লাহুতা’লা আনহু) স্বীয় ‘মাকতুবাত শরীফ’-এর ২৫৮ নং মকতুবে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন,

হে বৎস! এই অধম যতটুক পর্যবেক্ষণ করে ও দৃষ্টিকে প্রশস্ত করে, তাতে এমন কোনো জায়গা দৃশ্যমান হয় না, যেখানে আমার প্রিয় নবীজীর (’আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) দাওয়াত পৌঁছায়নি। বরং অনুভূত হচ্ছে যে, সূর্যের ন্যায় সবখানে নবীজীর (’আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) দাওয়াতের নূর পৌঁছেছে। এমনকি ইয়াজুজ-মাজুজের মাঝেও – যাদের মাঝখানে দুর্ভেদ্য প্রাচীর রয়েছে – সেখানেও পৌঁছেছে। বিগত উম্মতের দিকে লক্ষ্য করলে প্রতীয়মান হয় যে, এমন স্থান নিতান্তই নগণ্য রয়েছে, যেখানে কোনো পয়গম্বর আবির্ভূত হয়নি।… পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্য থেকে প্রতি যুগে একজন বা একজন পয়গম্বর অবশ্যই গত হয়েছেন, যিনি আল্লাহতা’লার অস্তিত্ব ও এর প্রমাণ এবং তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা ও জয়গান গেয়েছেন।

অর্থাৎ, প্রতিটি জাতি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে নবী-রসূলের আবির্ভাব হয়েছিল, যাঁরা সেসব সম্প্রদায়ের নিজ নিজ ভাষায় তাদের আহ্বান করেছিলেন সৃষ্টিকর্তার দিকে। সেই সূত্র ধরে, ভারতীয় উপমহাদেশেও এসেছিলেন নবীগণ, যাদের রওযা শরীফ রয়েছে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের ব্রাস গ্রামে অবস্থিত একটি টিলার উপর।
হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী (রাদ্বি’আল্লাহুতা’লা আনহু) একই মকতুবে আরও বলেন,

ভারতের কোনো কোনো নগরীর দিকে তাকালে অনুভূত হয় যে, নবীগণের (’আলাইহিমুস সালাম) নূরসমূহ শিরকের অন্ধকারের মাঝেও মশালের ন্যায় সমুজ্জ্বল। যদি সেই নগরকে (কাশফের মাধ্যমে) চিহ্নিত করতে ইচ্ছা করেন, তাহলে তা করতে পারবেন এবং দেখবেন যে, কোনো এমন নবীও রয়েছেন, যাঁকে কেউ অনুসরণ করেনি এবং কেউই তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করেনি। আবার এমন নবীও রয়েছেন যে, শুধুমাত্র এক ব্যক্তি তাঁর উপর ঈমান এনেছে। যারা হিন্দুস্থানে কোনো নবীর উপর ঈমান এনেছে, (তাদের মধ্যে এমনটা দৃষ্টিগোচর হয় না) যাতে চারজন এক নবীর উম্মত হতে পারে, (বরং) তিন ব্যক্তির চেয়ে বেশি (ঈমান আনয়নকারী) চোখে পড়ে না।

অর্থাৎ, ঐ সকল নবীর (’আলাইহিমুস সালাম) উম্মতের মধ্যে এত কম ঈমানদার লোক থাকার কারণেই, তাদের নাম, পরিচয় ও বাণী ধীরে ধীরে বিস্মৃত হয়ে কালের অতল গহ্বরে হারিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই জ্যোতির্ময় ইতিহাসই আবার ধরা পড়ে যায় হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানীর (রাদ্বি’আল্লাহুতা’লা আনহু) কাছে এবং তিনি আমাদেরকে সন্ধান দিয়ে যান তাঁদের (নবীগণ) কয়েকজনের রওযা শরীফের। সেই ঘটনাই আজ আমরা ব্রাস গ্রামের ইতিহাসসহ বিস্তারিত আলোচনা করব।

ব্রাস গ্রামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ

ব্রাস (ইংরেজীতে brass – এটাই স্থানীয় উচ্চারণ, তবে অনেকে ‘বরাস’ বলেও উচ্চারণ করে থাকেন), ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের ফতেহগর সাহিব জেলায় অবস্থিত ছোট্ট জনপদের একটি শিখ-প্রধান গ্রাম। গ্রামটিতে আগে অনেক মুসলমান বসতি ছিল বটে, তবে ১৯৪৭ সালে মুসলমান-হিন্দু (ও শিখ) দাঙ্গার সময় অধিকাংশ মুসলমান এ অঞ্চল ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং গ্রামটি শিখদের অধীনে চলে আসে।ব্রাস গ্রামের নিকটবর্তী শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে মনাকপুর, মাকান্দপুর, কাজপুরা এবং রাজপুরা। আরও রয়েছে পাট্টিয়ালা, লুধিয়ানা, যমুনানগর এবং কারনাল ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ শহর।


সিরহিন্দ (যেখানে হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানীর (রাদ্বি’আল্লাহুতা’লা আনহু) মাজার শরীফ অবস্থিত) থেকে ব্রাস গ্রামের দুরত্ব ১৫.২২ কিলোমিটার (৯.৪৬ মাইল)। সিরহিন্দ শরীফ থেকে বাসে চড়ে ব্রাস গ্রামে যেতে হলে, কাউকে সকালে গিয়ে সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসতে হবে, নয়ত রাতটা ওখানেই কাটাতে হবে, কেননা এটা এমনই নিভৃত পল্লী, যে এখানে সন্ধ্যার পর কোনো বাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই! তবে এ সমস্যা কেউ এড়াতে চাইলে, নিজের গাড়ি বা ট্যাক্সি ঠিক করেও যেতে পারেন।

ব্রাস গ্রামে নবীগণের রওযা শরীফ সন্ধানের ইতিহাসঃ

হযরত খাজা মাসুম (রাদ্বি’আল্লাহুতা’লা আনহু) হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানীকে (রাদ্বি’আল্লাহুতা’লা আনহু) জিজ্ঞাসা করলেন, “হযরত! আপনাকে তো এই কবরগুলোর (ব্রাস গ্রামে অবস্থিত নবীগণের কবর) পাশে বসে থাকতে কখনও দেখি নি। তো এটা কিভাবে পেলেন? হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী (রাদ্বি’আল্লাহুতা’লা আনহু) উত্তরে বললেন, “আমি যখন এদিক দিয়ে সফর করে যাচ্ছিলাম, তখন আঁওয়াজ শুনলাম যে, “চোখওয়ালা কি চোখ দিয়ে দেখতে পায় না?” (অর্থাৎ দেখেও না দেখে চলে যাচ্ছেন)? তখন আমি এখানেই মুরাকাবায় বসে গেলাম।” এরপর সেখানে তিনি নবীগণের রওযা শরীফের সন্ধান পান এবং খুটি গেঁড়ে কবরগুলোর স্থান চিহ্নিত করে দেন।
২০১৪ সালের জানুয়ারী মাসে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র নিবাসী লেবানীয় সুন্নী আলেম, নকশ্‌বন্দী-হাক্কানী সিলসিলার খলীফা, হযরত মুহাম্মদ হিশাম কাব্বানীর ভারত ভ্রমণ এবং ব্রাস গ্রামে নবীগণের (’আলাইহিমুস সালাম) রওযা পাক যিয়ারতের ভিডিওচিত্র থেকে জানা যায় – হযরত হিশাম কাব্বানী বলেন, “হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী (রাদ্বি’আল্লাহুতা’লা আনহু) বলেছিলেন যে, আমি চাইলে তাদের নাম বলে দিতে পারি। কিন্তু বলব না। আর এই আম্বিয়াগণ হযরত নূহের (’আলাইহিস সালাম) পরে, কিন্তু হযরত ইবরাহীমের (’আলাইহিস সালাম) পূর্বে পৃথিবীতে তাশরীফ নিয়েছিলেন।”
হযরত হিশাম কাব্বানী আরও বলেন, “পরবর্তীতে অবশ্য তিনি নবীগণের নাম জানিয়ে যাবেন বলেছিলেন বলে জানা যায়, কিন্তু তাঁর আর সেই সময় হয়ে ওঠেনি।”

রওযা শরীফে নবীগণের কবরের প্রকৃত সংখ্যাঃ

রওযা শরীফ যিয়ারত করলে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে মোট ১১টি কবর। এর মধ্যে ৯টি কবর নবীগণের বলে দেয়াল দিয়ে বাঁধানো তথা চিহ্নিত করা আছে, যেগুলোর এক-একটির দৈর্ঘ্য ১২ ফুটের কম নয়। এছাড়া, বাকি ২টি কবরের দেখা মিলবে নবীগণের কবরগুলোর পাশে অবস্থিত ছোটো আকৃতির একটি ইটের ঘরে, যেগুলো স্বাভাবিক উচ্চতার মানুষের এবং দেখে নবীগণের কবর বলে মনে হয় না। তদুপরি, এই ১১টি কবরের কোনোটিতেই কোনো নামফলক নেই।
তবে, ‘গুলশানে আউলিয়া’ কিতাবে নবীগণের কবরের সংখ্যা লেখা আছে মতান্তরে ৩, ৯, ১৩ এবং আরও লেখা আছে, এর মধ্যে ৯টি কবর দেয়াল দেয়া, যা উপরের বর্ণনার সাথে মিলে যায়।
হযরত হিশাম কাব্বানীর রওযা শরীফ সফরকালে, রওযা শরীফের বর্তমান মুতাওয়াল্লী এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, “দেখুন, এ জায়গাটি (মুজাদিদ আলফেসানীর) মুখতালিফ কাশ্‌ফের মাধ্যমে এসেছে। মুখতালিফ কাশ্‌ফের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় ৪০ জন নবীর কথা উল্লেখ করেছেন, যারা এ স্থানে একসাথে আরাম করেছিলেন। তবে তিনি এর মধ্যে এখানে মাত্র ৯ জনের কবর চিহ্নিত করেছেন। আর এ জায়গায় মোট ১৩ জন নবীর কবর রয়েছে (অর্থাৎ, বাকি চার জন নবীর কবর আশে পাশেই রয়েছে যা চিহ্নিত করা হয় নি) বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও যে ৪০ জন নবীর কথা উল্লেখ করেছেন (যারা এখানে হাজার হাজার বছর আগে একসময় আরাম করেছিলেন), তারা পরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে গিয়েছিলেন, কিন্ত তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় নি।”

নবীগণের কবর এত দীর্ঘ হওয়ার পেছনে রহস্যঃ

আগেই উল্লেখ করেছি, নবীগণের প্রতিটি কবরের দৈর্ঘ্য ১২ ফুটেরও অধিক। এ থেকে বুঝা যায়, তারা দুনিয়ায় অবস্থানকালে কতটা দীর্ঘদেহী ছিলেন!
হযরত হিশাম কাব্বানী বলেন, “আমি শুনেছি এখানে আদ জাতি (ক্বওমে আদ, যাদের সম্পর্কে সূরা হুদ-এর ৫০ থেকে ৬০ নং আয়াতে বর্ণিত আছে) এসেছিল এবং তাদের নবীগণ এখানে বসতি গড়েছিলো।” এ থেকে ধারণা করা যায়, এই দীর্ঘদেহী নবীগণ (’আলাইহিমুস সালাম) আদ জাতির নবীগণই হয়ে থাকবেন। (মায়াজাল্লা)

রওযা শরীফ সংস্কারকাজের ইতিহাসঃ

রওযা শরীফের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানীর (রাদ্বি’আল্লাহুতা’লা আনহু) সময় থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের মুসলমান জনগণ এ পবিত্র স্থানটি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করত, যদিও তখনও খুটি ছাড়া কোনো দেয়াল বা স্থাপনা সেখানে ছিল না। কিন্তু ১৯৪৭ সালে দেশ-বিভাগ এবং দাঙ্গা-ফ্যাসাদের পর মুসলমানগণ এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় রওযা শরীফের স্থানটি এক প্রকার অবহেলার মধ্যে পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৪ সালে ডঃ হাজী নিযামুদ্দিন কোটালভী সাহেবের (যিনি পেশায় একজন অস্থিবিকৃতি এবং অস্থিরোগসংশ্লিষ্ট শল্যচিকিৎসক) সরাসরি সহায়তায় এখানে নির্মিত হয় রওযা ঘেরা পাঁচিল, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় মসজিদ, মাদ্রাসা, লাইব্রেরী এবং বৃদ্ধাশ্রম সম্বলিত একটি জনমুখর প্রাঙ্গনে।
রওযা শরীফের বর্তমান মুতাওয়াল্লী বলেন, “১৯৯৪-এর আগে এখানে স্রেফ খুটির চিহ্ন ছাড়া আর কিছু ছিল না। চারপাশ ঘন জঙ্গলে আচ্ছাদিত ছিল। এরপর ১৯৯৪ সালে হযরত ডঃ হাজী নিযামুদ্দিন কোটালভী সাহেব “মালের কোটলী” নামক স্থান থেকে এসে (রওযা শরীফ পরিবেষ্টনকারী জমি কিনে এর চারপাশ ঘিরে) দেয়াল তোলার কাজের আঞ্জাম দেন আর এলাকাবাসী এ কাজে সহায়তা করে দেয়াল নির্মাণ করে দেয়।”
এছাড়া রওযা শরীফের পাশেই রয়েছে একটি মনোরোম পানির ফোয়ারা। এই স্বতন্ত্র জায়গাটির ইতিহাস অত্যন্ত মর্মান্তিক। এখানে সংস্কারকাজের আগে ছিল একটি কূপ, যা ১৯৪৭ সালের আগে পানি সংগ্রহ ও পানের কাজে ব্যবহৃত হত। কিন্তু ‘৪৭-এর দাঙ্গার সময় অনেক মুসলমান নারী (তৎকালীন হিন্দু-শিখ বর্বরদের থেকে) নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য এখানে ঝাপ দিয়ে প্রাণ বিসর্জন দেয়। এরপর থেকে কূপটি থেকে পানি তোলা বা পান করা বন্ধ হয়ে যায়, যা ’৯৪-এর আগ পর্যন্ত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। ’৯৪ সালে সংস্কারকাজের সময় কূপটি চোখে পড়লে, এর মর্মান্তিক ইতিহাস স্মরণ করে এখানে প্রাণ বিসর্জনকারী মুসলমান নারীদের সম্মানে নির্মিত হয় এই পানির ফোয়ারা।

রওযা শরীফের বর্তমান চিত্রঃ

রওযা শরীফ প্রাঙ্গনে প্রবেশের পথে প্রধান তোরণ
রওযা শরীফ প্রাঙ্গনে প্রবেশের পথে প্রধান তোরণ

রওযা শরীফ প্রাঙ্গনে প্রবেশের পথে প্রথমেই চোখে পড়বে প্রধান ফটক, যেখানে লেখা রয়েছে “লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ।”

 

 

 

 

 

 

প্রধান ফটকে লেখা রয়েছে “বাবুর রহমত” (রহমতের দরজা)

এছাড়াও প্রধান ফটকের এক পাশে নিচে লেখা আছে “বাবুর রহমাত” (রহমতের দরজা)।

প্রধান ফটকে লেখা রয়েছে "বাবুর রহমত" (রহমতের দরজা)
প্রধান ফটকে লেখা রয়েছে “বাবুর রহমত” (রহমতের দরজা)

 

 

 

 

 

 

রওযা শরীফে প্রবেশ পথে সিড়িতে দাঁড়িয়ে আছেন হযরত শায়খ হিশাম কাব্বানী। পিছনে রওযা সংলগ্ন মসজিদ এবং হেফযখানা।
রওযা শরীফে প্রবেশ পথে সিড়িতে দাঁড়িয়ে আছেন হযরত শায়খ হিশাম কাব্বানী। পিছনে রওযা সংলগ্ন মসজিদ এবং হেফযখানা।

রওযা শরীফে প্রবেশ পথে সিড়িতে দাঁড়িয়ে আছেন হযরত শায়খ হিশাম কাব্বানী। পিছনে রওযা সংলগ্ন মসজিদ এবং হেফযখানা।

প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করলে অল্প দূরেই চোখে পড়বে একটি মসজিদ ও হাফেজী মাদ্রাসা, যা ১৯৯৫-৯৬ সালের দিকে নির্মিত হয়। গ্রামটি শিখ প্রধান হওয়ায় এবং মসজিদ অপ্রতুল হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্ররা এসে এখানে পড়াশুনা করে।

রওযা শরীফ সংলগ্ন ইফতেখারিয়া গ্রন্থাগার

 

 

ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক এবং ভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে এখানে নির্মিত হয়েছে একটি গ্রন্থাগার (ইফতেখারিয়া গ্রন্থাগার)। এছাড়াও নির্মিত হয়েছে একটি বৃদ্বাশ্রম।
রওযা শরীফে প্রবেশের মূল ফটকরওযা শরীফ সংলগ্ন ইফতেখারিয়া গ্রন্থাগার

 

 

 

 

 

রওযা শরীফে প্রবেশের মূল ফটক
রওযা শরীফে প্রবেশের মূল ফটক

প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের পর মসজিদ ও হেফযখানায় যাওয়ার আগেই ডানদিকে চোখে পড়বে একটি সিড়ি, যা বেঁয়ে উপরে উঠে গেলেই দেখা মিলবে রওযা শরীফের মূল ফটকের। প্রধান ফটকটি অত্যন্ত কারু-কার্যমণ্ডিত এবং এর উপরে লেখা রয়েছে সূরা রা’দ -এর ৭নং আয়াতখানা, “ওয়া লি কুল্লি কাওমিন হাদীন” (প্রত্যেক জাতির জন্য হেদায়েতকারী রয়েছেন)।

মূল ফটকের উপর লেখা “ওয়া লি কুল্লি কাওমিন হাদীন” (প্রত্যেক জাতির জন্য হেদায়েতকারী রয়েছেন)

মূল ফটকের পাশে দেয়ালে লেখা উর্দু শিলালিপি

 

 

 

 

 

মূল ফটকের উপর লেখা “ওয়া লি কুল্লি কাওমিন হাদীন” (প্রত্যেক জাতির জন্য হেদায়েতকারী রয়েছেন)
মূল ফটকের উপর লেখা “ওয়া লি কুল্লি কাওমিন হাদীন” (প্রত্যেক জাতির জন্য হেদায়েতকারী রয়েছেন)

 

এছাড়াও মূল ফটক সংলগ্ন দেয়ালে খোদাইকৃত শিলালিপিতে উর্দুতে লেখা রয়েছে, “আরামগাহে আম্বিয়ায়ে কেরাম ’আলাইহিমুস সালাম” (নবীগণের (’আলাইহিমুস সালাম) বিশ্রামের জায়গা)।
এই মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ডান দিকে একটু হাটলেই প্রথমে চোখে পড়বে একটি ছোট কামরা (যেখানে রয়েছে সেই দু’টি কবর, সেগুলো নবীগণের নয় বলেই ধারণা করা হয়)। এরপর একটি ছোট দরজা দিয়ে ভিতরে গেলে দেখা মিলবে বহুল

মূল ফটকের পাশে দেয়ালে লেখা উর্দু শিলালিপি
মূল ফটকের পাশে দেয়ালে লেখা উর্দু শিলালিপি

আকাঙ্ক্ষিত পুণ্যাত্মা নবীগণের (’আলাইহিমুস সালাম) পবিত্র ৯ খানা রওযা মুবারক।নবীগণের (‘আলাইহিস সালাম) রওযা মুবারক

 

 

 

 

 

 

 

 

নবীগণের (’আলাইহিমুস সালাম) রওযা শরীফের এ স্থানটি এর সন্ধান লাভের পর থেকে আজ পর্যন্ত মুসলমানদের জন্য পবিত্র ও যিয়ারতের স্থান হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে এই মন জুড়ানো, ঐতিহাসিক ও পবিত্র জায়গাটিতে ভ্রমণ

নবীগণের ('আলাইহিস সালাম) রওযা মুবারককরে অশেষ ফয়েজ অর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমীন !

এক পড়ন্ত বিকেলে রওযা পাক ও পেছনে মসজিদের মনোরম দৃশ্য
এক পড়ন্ত বিকেলে রওযা পাক ও পেছনে মসজিদের মনোরম দৃশ্য

পাকিস্তানে নবীর কবর!

কমাশিসা : নবী আ.গণ আল্লাহর বাণী প্রচারের জন্য পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। মহান আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী প্রত্যেক জাতির নিকট তিনি নবী ও রাসুল প্রেরণ করেছিলেন। আরব ভূখণ্ডে অনেক নবী ও রাসুলের কবরসহ অন্যান্য নিদর্শন থাকলেও পাক-ভারত উপমহাদেশে নবীর আগমনের তেমন কিছু জানা যায় না।

কিন্তু আপনি জেনে আশ্চর্য হতে পারেন, পাকিস্তানে রয়েছে দু’জন নবীর কবর। অন্তত এমনটিই দাবি করে পাকিস্তানের জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক কুদরত। এক প্রতিবেদনে তারা বলেছেন, পাকিস্তানের গুজরাট জেলায় রয়েছে দু’জন নবীর কবর।

তাদের একজন হলেন, হজরত আদম আ. এর ছেলে কিমবিত আ.। তার ২৭০ ফিট লম্বা কবর পাকিস্তানের গুজরাত জেলার ব্রিলা গ্রামে রয়েছে।

পাকিস্তানের গুজরাত জেলার ব্রিলা

অন্যজন হজরত নুহ আ. এর ছেলে হাম আ.। ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে হাফেজ শামসুদ্দিন আফগানি পাকিস্তানে জিলাম জেলায় আবিস্কার করেন। তার কবর ৭৪ ফিট লম্বা। ১৯৯৪ সালে হাজি ফরমান আলি মুশতারি মাজারের সংস্কার করেন।

তথ্যসূত্রঃ

১. হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী (রাদ্বি’আল্লাহুতা’লা আনহু) লিখিত কিতাব ‘মাকতুবাত-ই মুজাদ্দিদ আলফেসানী’, ১ম খন্ড, মকতুব নং ২৫৮, পৃষ্ঠা ৩৬৪-৩৬৮, বাংলাদেশ তাজ কোম্পানী লিমিটেড।
২. ডঃ আবদুল রেমান আহসানপুরী কৃত কিতাব ‘গুলশান-ই আউলিয়া-ই কেরাম’।
৩. ২০১৪ সালে হযরত হযরত হিশাম কাব্বানীর ব্রাস গ্রামে নবীগণের (‘আলাইহিস সালাম) রওযা পাক যিয়ারতের ভিডিওচিত্র
https://www.youtube.com/watch?v=yae…
৪. https://www.youtube.com/watch?v=akS…
৫. https://www.youtube.com/watch?v=HjY…
৬. http://disween.com/boras-23-in/sirh…
৭. http://www.gomapper.com/travel/wher…
৮. http://www.aulia-e-hind.com/dargah/…
৯. http://maktabah.org/blog/?p=1112
১০. http://www.dainikazadi.org/printed_…
১১. https://www.facebook.com/1310099203…
১২. http://infocus.asiaportal.info/2012…

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *