বিভিন্ন নবী রাসুলের যুগে রোজা

মুসলমানরা রমজান মাসে রোজা রাখেন। এবাদত বন্দেগির মাধ্যমে সিয়াম সাধনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকেন। বিশ্বনবী মুহাম্মদ (স.) এর আগে প্রত্যেক নবী রাসুল রোজা রেখেছেন এবং তার উম্মতকে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে যুগে যুগে নবী রাসুলের রোজা রাখার নিয়ম ছিল ভিন্ন।

রোজা প্রিয়নবী (সা.) এর পছন্দের এবাদত। যখন রমজানের রোজা ফরজ হয়নি তখনও তিনি আশুরার দিন রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদের (রা.) রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। পরে যখন রমজানের রোজা ফরজ করে দেয়া হয় তখন তিনি ও তার সাহাবারা আশূরার রোজা রাখা ছেড়ে দেন।

এ প্রসঙ্গে সাহাবি হযরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস। তিনি বলেন, মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) আশূরার দিন রোজা পালন করেছেন এবং এ সিয়ামের জন্য আদেশও দিয়েছেন। পরে যখন রমজানের সিয়াম ফরজ হলো তখন তা ছেড়ে দেয়া হয় । (বুখারী-তৃতীয় খন্ড)

হযরত মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, জাহেলি যুগে কুরাইশগণ আশূরার দিন রোজা রাখতো, রাসূলুল্লাহও (সা.) এই রোজা রাখার নির্দেশ দেন। অবশেষে রমজানের রোজা ফরজ করা হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, যার ইচ্ছা আশূরার রোজা রাখবে এবং যার ইচ্ছা সে রোজা (আশূরার) রাখবে না। (বুখারী- ৩য় খন্ড)

মহানবী (সা.) এর আগে তার পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণও রোজা রাখতেন। তবে তাদের রোজার ধরণ আমাদের চেয়ে ভিন্ন ছিল। যেমন হযরত আদম (আ.) প্রত্যেক মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখতেন। (কানযুল ওম্মাল ৮ম খন্ড ২৫৮ পৃষ্ঠা, হাদিস- ২৪১৮৮)

একইভাবে হযরত নূহ (আ.) দুই ঈদ ছাড়া সবসময় রোজা রাখতেন। (ইবনে মাজাহ, ২য় খন্ড, ৩৩৩পৃষ্ঠা, হাদিস-১৭১৪)
হযরত দাউদ (আ.) একদিন পরপর রোজা রাখতেন। (মুসলিম, ৫৮৪ পৃষ্ঠা, হাদিস ১১৮৯)

হযরত সোলায়মান (আ.) মাসের শুরুর তিন দিন, মাসের মধ্যভাগে তিন দিন, মাসের শেষ ভাগে তিন দিন (মাসে ৯দিন) রোজা রাখতেন। (কানযুল ওম্মাল, ৮ম খন্ড, ৩০৪ পৃষ্ঠা, হাদিস ২৪৬২৪)

হযরত ঈসা (আ.) সবসময় রোজা রাখতেন, কখনও রোজা ছাড়তেন না।
(মুসলিম, ৫৮৪ পৃষ্ঠা, হাদিস ১১৮৯)

তাওহিদ ও রিসালাতকে বিশ্বাস করা এবং দ্বীনের সব জরুরি বিষয়ের ওপর ঈমান আনার পর যেভাবে প্রত্যেক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ, ঠিক তেমনিভাব রমজান মাসের রোজাও প্রত্যেক বিবেকসম্পন্ন ও প্রাপ্ত বয়স্ক (নর-নারী) মুসলমানের ওপর ফরজ।

রোজা কখন ফরজ করা হয়েছে এ প্রসঙ্গে দুররে মুখতারগ্রন্থে বর্ণনা আছে, দ্বিতীয় হিজরিতে শাবান মাসের ১০ তারিখে রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে। (দুররে মুখতার, ৩য় খন্ড, ৩৩০ পৃষ্ঠা)

ইসলামে রোজার গুরুত্ব কতখানি তা বলে শেষ করা যাবে না। আল্লাহকে পাওয়ার বড় মাধ্যম এই রমজান মাসের রোজা। রোজা রাখার মাধ্যমে আল্লাহর দিদার (সাক্ষাত) লাভ সম্ভব।

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *