বিজ্ঞানীরা বলছেন ভেড়া ‘মানুষের মুখ চিনতে পারে’

লন্ডন: এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে ভেড়া মানুষের মত পরিচিত মুখ দেখলে তা চিনতে পারার ক্ষমতা রাখে। কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ভেড়াদের বারাক ওবামা সহ বেশ কিছু বিখ্যাত মানুষের মুখ চেনাতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রশিক্ষণের পর প্রশিক্ষিত ভেড়া বেশ কিছু ছবির মধ্যে থেকে পরিচিত মুখের ছবিগুলো সহজেই বেছে তুলে নিতে সক্ষম হয়। খবর বিবিসির।

এই পরীক্ষায় দেখা যায় মানুষের মত ভেড়ার মস্তিষ্কও মানুষের মুখ মনে রাখতে পারে। এর আই এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল একজন ভেড়া অন্য ভেড়াদের চিনতে পারে এবং তাদের মনিবদের মুখও চেনে।

‘কিন্তু এবারের গবেষণায় আমরা দেখতে চেয়েছিলাম ভেড়া ছবি দেখে কাউকে চিনতে পারে কীনা,’ বলছিলেন গবেষণায় প্রধান প্রফেসর জেনি মর্টন।

‘আমরা দেখতে চাচ্ছিলাম মানুষের মত পশুর মস্তিষ্ক দ্বিমাত্রিক বস্তুর ছবি ধরে রাখতে পারে কীনা’ আটজন মেয়ে ভেড়াকে অপরিচিত ব্যক্তির একগুচ্ছ ছবি থেকে চারজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ঠিক ঠিক চিনতে পারলে তাদের পুরস্কার হিসাবে খেতে দেওয়া হয়।

দুটি কম্প্যুটারের পর্দায় তাদের বিভিন্ন ছবি দেখানো হয়। প্রশিক্ষণ শেষে গবেষকরা দেখার চেষ্টা করেন যে ওই ব্যক্তিদের মুখ বিভিন্ন কোণ থেকে দেখানো হলে ভেড়া তা চিনতে পারবে কীনা?

পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে ভেড়া প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তিদের সঙ্গে সে পরিচিত হয়েছে তাকে যে কোন পাশ থেকে দেখলেই সে চিনতে পারবে।

এলোমেলো করে মিশিয়ে রাখা ছবির মধ্যে থেকে শেখানো চারজনের মুখ সে ঠিক ঠিক চিহ্নিত করে। বিজ্ঞানীরা এই পরীক্ষা থেকে নিশ্চিত যে ভেড়া মানুষ ও বানরের মত মুখ চেনার ক্ষমতা রাখে। তারা এখন দেখতে চান ভেড়া মানুষের মুখের বিভিন্ন অভিব্যক্তি ধরার ক্ষমতা রাখে কীনা।

তারা বলছেন স্নায়ুর ক্ষয়জনিত বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এই গবেষণা ভবিষ্যতে একটা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে।

এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে রয়াল সোসাইটি জার্নালে।

বাকৃবিতে পশুপ্রজনন বিষয়ক কর্মশালা
দেশে প্রাণীজ আমিষের চাহিদা পূরণ এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের বিকল্প নেই।

মাংস ও দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হলে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃত্রিম প্রজনন, উন্নতজাতের ষাঁড় ও গাভী হতে মানসম্পন্ন সিমেন ও ভ্রুণ উৎপাদন, লিঙ্গ নির্ধারন, সংরক্ষণ এবং মাঠ পর্যায়ে সাধারণ জাতের গাভীতে প্রতিস্থাপন করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) রোমন্থক প্রাণী (গরু, ভেড়া) আধুনিক প্রজনন কৌশল বিষয়ে খামারিদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা ও মুক্ত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন দেশের প্রাণীবিজ্ঞানীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

ভেটেরিনারি অনুষদের সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের প্রধান ড. মো. মাহমুদুল আলমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও সম্মানিত অতিথি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো গোলাম শাহি আলম, বিশেষ অতিথি ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ড. মো. মাহবুব মোস্তফা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক ড. মনোরঞ্জন দাস এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. একেএম নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ জেলারর বিভিন্ন উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং আগত খামারীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. নাছরীন সুলতানা জুয়েনা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উন্নয়নে খামারীদের উন্নত প্রজনন কৌশল ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে গবেষণা বৃদ্ধি করতে খামারীদের সহযোগীতা কামনা করেন।

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *