প্রবিত্র কুরআনে এমন কিছু শব্দ বা তথ‌্য রয়েছে যা জানলে চমকে যাবেন আপনিও।

কুরআন আল্লাহর কাছ থেকে প‌্রাপ্ত আমাদের সবচেয়ে বড় নিয়ামত স্বরুপ। কি নেই এই কুরআনে? ব‌্যাবসা, শিক্ষা, সমাজ, পরিবার,বিজ্ঞান থেকে শুরু করে মানব জীবনের সকল সমস‌্যার সমাধান আছে এতে। আর মহান আল্লাহ পাক তার সৃষ্টিকর্তা হবার বহু নিদর্শন দিয়ে রেখেছেন এই প্রবিত্র আল কুরআনে। প্রবিত্র কুরআনে আছে আপনার মাথা ঘ‌ুরিয়ে দেবার মত গাণিতিক কিছু হিসাব নিকাশ । সমগ্র কুরআনে শব্দ গুলি যদি আপনি সাজান তাহলে ভাষা হারিয়ে ফেলার মত এমন কিছু খুঁজে পাবেন যা আপনাকে চমকে দিতে বাধ‌্য করবে। আজ এমন কিছু জানাবো যা আপনার ঈমানকে মজবুত করবে।

তো আপনি নড়েচড়ে বসুন আর গভীর ভাবে মনোযোগ দিয়ে পড়ুন আপনার রব কতটা সুন্দর করে পাঠিয়েছেন এই অলৈাকিক প্রবিত্র কুরআনকে। প্রবিত্র কুরআনে শাস্তি শব্দটি রয়েছে মোট ১১৭ বার । যদি সমস্ত কুরআন পড়ে থাকেন তাহলে আপনি শাস্তি শব্দটি ১১৭ বার খুজে পাবেন। অপরদিকে ঠিক এক্ই ভাবে ক্ষমা শব্দটি খুজে পাবেন ২৩৪ বার। তার মানে আমাদের রব শাস্তির চেয়ে দ্বিগুণ ক্ষমা করে থাকেন। এ দ্বারা রহমানুর রাহিম পরম করুনাময় ও অসীম দয়ালু হবার প্রমান রাখেন।

এরপর আছে আল্লাহ বললেন বা তিনি বললেন এই শব্দটি প্রবিত্র কুরআনে আছে ৩৩২ বার আর অপরদিকে তারা বলল কথাটি আছে ৩৩২ বার। দেখুন মহান আল্লাহ যতবার তার কথা বলেছেন ততবার তার উওর এসেছে। প্রবিত্র কুরআনে যদি তারা বলল কথাটি ৩৩২ এর কম হত তাহলে মহান আল্লাহকে অসম্মান করা হত। আবার অপরদিকে তারা বলল কথাটি বেশি হত তাহলেও মহান আল্লাহর থেকে বেশি কথা বলে আল্লাহকে অসম্মান করা হত। কত সুন্দর মিল রেখেছেন রব্বুল আলামীন তার বাণীতে।

এরকম আশ্চর্য কিছু ‍মিল রেখে আরও অনেক শব্দ রয়েছে প্রবিত্র কুরআনে। যেমনঃ- পৃথিবী বা এই দুনিয়া ১১৫ বার লেখা আছে। মৃত‌্যুর পরের জীবন বা আখিরাত একই সমান ১১৫ বার রয়েছে। শয়তান শব্দটি এসেছে ৮৮ বার। আর ঠিক একই সমান বার উল্লেখ‌্য আছে ফেরেস্তা শব্দটিও। বেহস্তে শব্দটি আছে ৭৭ বার ঠিক অন‌্যদিকে দোজখ শব্দটিও আছে ৭৭ বার। যাকাত শব্দটি আছে ৩২ বার অপরদিকে যাকাতের দেবার ফলে যে মঙ্গল হয় এই মঙ্গল শব্দটি বা বারাকাহ শব্দটি আছে ৩২ বার। কেন এই দুটি শব্দ মহান আল্লাহ সমান সমান রেখেছেন আমার মনে হয় আপনাদের আর ভেঙ্গে বোঝাতে হবে না। দেখুন গ্রীষ্ম বা গরম শব্দটি প্রবিএ কুরআনে এসেছে ৫ বার ঠিক একই সংখ‌্যক উল্লেখ‌্য আছে শীত বা ঠান্ডা কথাটিও।

সচ্ছলতা শব্দটি রয়েছে ২৬ বার আর দারিদ্রতা উল্লেখ‌্য আছে ১৩ বার যা সচ্ছলতার ঠিক অর্ধেক। এরপর আমি যা বলব তাতে আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না। নারী বা মহিলা শব্দটি রয়েছে ২৩ বার ঠিক একই ভাবে পুরো কুরআনে পুরুষ শব্দটি রয়েছে ২৩ বার। এখানে দুজনকে ২৩ ও২৩ করে সমান দেওয়ায় প্রমাণ করে মহান আল্লাহর কাছে নারী-পুরুষের সমান গুরুত্ব। শুধু এখানেই শেষ নয় আপনি কি অনুমান করতে পারছেন এই সংখ‌্যা দ্বারা আপনার রব আপনাকে কি বুঝাতে চাইছেন। একটু মনে করে দেখুন মানব দেহে সমস্ত ক্রোমোজমের সংখ‌্যা ৪৬ টি যা ২৩ ও২৩ যোগ করলে হয়। আমাদের বিজ্ঞান বলেছে মানব শিশু ৪৬ টি আলাদা ক্রোমোজোম নিয়ে জন্মায় যার ২৩ টি আসে পিতা থেকে আর বাকি ২৩ আসে মাতা থেকে। কি অবাক হচ্ছেন অবাক হবার এখন অনেক কিছু বাকি আছে।

প্রবিত্র কুরআনে পৃথিবির স্থল এর উল্লেখ‌্ আছে ১৩ বার অপরদিকে সাগর বা সমুদ্রদের কথা উল্লেখ‌্য আছে ৩২ বার। প্রথমে দেখলে মনে হবে এটি তেমন কোনো কিছু অর্থ প্রকাশ করে না তবে আপনি যদি এই ২টি সংখ‌্যা যোগ করেন তাহলে দাড়াবে ৪৫ এবং এই যোগ ফলের শতকরা হিসাব করলে ১৩ এর শতকরা দাড়াবে ২৮.৮৮ ভাগ এবং ৩২ এর শতকরা হবে ৭১.১১ ভাগ। যা কিছু ‍দিন আগে বিজ্ঞান ‍আমাদেরকে জানিয়েছে। কোনো মানুষের পক্ষে কি সম্ভব এত সুন্দর গাণিতিক হিসাব করে ছন্দ মিলিয়ে এই ধরনের গ্রস্থ লেখার। এই রকম আরো অসংখ ‍বিষয় আছে যা আপনাকে মানতে বাধ‌্য করবে যে প্রবিত্র কুরআন মহান আল্লাহ বাণী। ত বন্ধুরা কেমন বুঝলেন কুরআন সম্পর্কে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। আর অবশ‌্যই লেখাটি আপনার বন্ধু-বান্ধবদের কাছে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *