পাওনা টাকা চাইলেন অভিনেত্রী আনোয়ারা

ঢাকা: স্বামীর চিকিৎসার জন্য প্রযোজকদের কাছে পাওনা টাকা চাইলেন আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম।

স্বামীর চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা ব্যয় হচ্ছে উল্লেখ করে আনোয়ারা জানান, অনেক প্রযোজকের কাছেই তার পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে। সে টাকা পেলে এ বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারবেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাচ্ছেন না তিনি।

এসময় আনোয়ারা বলেন, বেশ কয়েকজন প্রযোজকের কাছে শুটিংয়ের টাকা পাই। আবার কেউ কেউ আমার কাছ থেকে টাকা ধারও নিয়েছেন। সে টাকা বারবার চেয়েও পাচ্ছি না। আমি এখন মহা বিপদে আছি। সাহায্য নয়, পাওনা টাকাগুলো পেলে আমার স্বামীর চিকিৎসায় ব্যয় করতে পারব। তাই যে প্রযোজকদের কাছে টাকা পাই তা দিতে অনুরোধ জানাচ্ছি।

গত ১৩ জুলাই এই অভিনেত্রীর স্বামী মহিতুল ইসলাম ব্রেন স্ট্রোক করেন। এরপরই তাকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ষাটের দশকে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে। ১৯৬৪ সালে তিনি জহির রায়হানের সংগম চলচ্চিত্র প্রথম সহ-অভিনেত্রী হিসেবে অভিনয় করেন। ১৯৬৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জানাজানি’ চলচ্চিত্রটি তার ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য। ছবিতে তার নায়ক ছিলেন শওকত আকবর। ১৯৬২-১৯৬৬ সালে মোট ১৯টি চলচ্চিত্রে বিভিন্ন পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন আনোয়ারা।

১৯৬৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বালা’ নামের একটি চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার সঙ্গে জুটি হয়েছিলেন হায়দার শফি। নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা চলচ্চিত্রটি ছিল আনোয়ারার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। ছবিতে আলেয়া চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন খ্যাতিমান অভিনেতা আনোয়ার হোসেন নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা চরিত্রে অভিনয় করেন। তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তান জুড়ে সিনেমাটি অভাবনীয় ব্যবসা সফলতা লাভ করে।

আনোয়ারা তার প্রায় পঞ্চাশ বছরের অভিনয় জীবনে সাড়ে ছয়শ’র ও অধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অসংখ্য মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন ও বেশকিছু টেলিভিশন নাটকেও কাজ করেছেন। গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), সুন্দরী (১৯৭৯), শখিনার যুদ্ধ (১৯৮৪), শুভদা (১৯৮৬), মরণের পরে (১৯৯০), রাধাকৃষ্ণ (১৯৯২), বাংলার বধু (১৯৯৩) ও অন্তরে অন্তরে (১৯৯৪) ছবিতে অভিনয়ের জন্য চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন এ গুণী অভিনয় শিল্পী।

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *