পলাশবাড়ীর অসহায় মমতাজ কে সহায়তা প্রদানে এগিয়ে আসেনি কেউ

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের সুলতানপুর বাড়াইপাড়া গ্রাম। এ গ্রামের মৃত তছলিম উদ্দিনের ছেলে দরিদ্র মমতাজ উদ্দিন। গত ২০১১ সাল হতে প্রায় ৭ বছর ধরে মুখে বিশালাকৃতির এক টিউমার নিয়ে কষ্ট আর অসহ্য যন্ত্রণায় দিন কাটছে অসহায় মমতাজের।

অসহায় দরিদ্র মমতাজকে সুস্থ করার আশায় সহায় সম্পদ যা ছিলো সবই বিক্রি করে নি:স্ব এখন দরিদ্র পরিবারটি। এ পরিবারটির নেই মাথা গোজার ঠাই পরের জমিতে করছে বসবাস।চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচার করা হলে মমতাজ সুস্থ হবে বলে জানালেও সেজন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তা যোগাড় করতে পারছে না পরিবারটি। ফলে ক্রমেই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে মমতাজ।

মমতাজকে সুস্থ করতে সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন মমতাজের স্বজন ও এলাকাবাসী।সাংবাদিক দেখে সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন মমতাজের এলাকাবাসী।

আজ ১৬ মার্চ শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় মমতাজ উদ্দিন (২৮) সাথে। সে বলেন, ‘জীবিকার তাগিদে ২০১১ সালে ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি শুরু করেছিলেন। কিছুদিন পরে হঠাৎই মুখের বাঁ পাশে দেখা দেয় ছোট আকারের একটি টিউমার। দিন যতোই যায় ততোই টিউমারটি ফুলে বড় হতে থাকে।’’

বাধ্য হয়ে চাকুরি ছেড়ে বাড়িতে চলে আসতে হয় তাকে। চিকিৎসকের পরামর্শে রংপুরে একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারও করান। ভালোই ছিলেন এক বছর। পরে আস্তে আস্তে টিউমারটি আবার বড় হতে থাকে। সেই সাথে বাড়তে থাকে অসহ্য নরক-যন্ত্রণা। মাঝে মাঝে টিউমার থেকে রক্ত ঝরে। তখন অন্যর সাহায্যে ছাড়া চলতে পারেন না। একারণে বউ তাকে তালাক দিয়ে ছেড়ে যায় ৪ বছরের একন্যা সন্তান রেখে।

অসহায় মমতাজ উদ্দিন করুণ সুরে বলেন, ‘‘আমি বাঁচতে চাই। দয়া করে আপনারা আমাকে বাঁচান।কাজকর্ম করতে না পারায় আমার সংসার চলে না। সংসার না চলায় স্ত্রী চার বছরের একমাত্র মেয়েকে ফেলে চলে গেছে বাপের বাড়িতে।‘’ প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের বিত্তবানদের নিকট আমার চিকিৎসার্থে সহায়তা চাই। আমি স্বাভাবিকভাবে দুনিয়ার বুকে বাচতে চাই।

দুর্বিষহ টিউমার নিয়ে ৬ বছর ধরে অসহ্য যন্ত্রণায় দিন কাটছে মমতাজের। সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকতে নিরূপায় হয়ে তাই সকলের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।চার বছরের মেয়ে ও মমতাজ।

মমতাজের প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এদের ভাইগণের নিজের সংসারই ঠিকমতো চলে না। ওর চিকিৎসার পিছনে সহায় সম্পদ সব শেষ। বিক্রি করার মতোও কিছু আর নেই। ডাক্তার জানিয়েছে, মমতাজকে বাঁচাতে হলে দ্রুত অপারেশন করতে হবে। অপারেশন না করালে টিউমারটি ক্যান্সারে পরিণত হয়ে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। মমতাজের অপারেশনে প্রচুর টাকার প্রয়োজন। কিন্তু সংসারের অভাবের কারণে কোনোভাবেই টাকা যোগাড় করা সম্ভব নয়। টাকার অভাবে মমতাজের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে পড়েছে।এজন্য সকলের সহায়তা প্রয়োজন।

অসহায় মমতাজের মা জোহরা বেগম বলেন, ‘মমতাজকে সুস্থ্য করতে সম্পদ যা ছিলো তা বিক্রি করে এখন আমরা নি:স্ব। তাছাড়াও দুই বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ায় দু’বেলা খাবার জোটানোও দু:সাধ্য আমার। দেখতে দেখতে মমতাজের টিউমারটি অস্বাভাবিক বড় হয়ে গেছে। এ কারণে সে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেছে না। অপারেশন ও চিকিৎসা না করলে কোনোভাবেই মমতাজকে বাঁচানো যাবে না।‘
ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তার অসহায় মা।

মমতাজের টিউমারের বিষয়ে কথা হয় পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সজীব কুমারের সাথে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন,‘ ‘মমতাজের টিউমারটি ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে কিনা তা নির্ণয়ে করতে প্রয়োজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা। অতি তাড়াতাড়ি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে মমতাজকে সুস্থ করা সম্ভব।‘

গত কয়েক দিন যাবৎ অসহায় দরিদ্র মমতাজের চিকিৎসার্থে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মিডিয়ায় প্রকাশের পরেও আজ পর্যন্ত অসহায় পরিবারটিকে সহায়তা প্রদানে এগিয়ে আসেনি কেউ।

দেশের বিত্তবানরা অসহায় মমতাজকে সহায়তা পাঠাতে পারেন আল আরাফাত ইসলামী ব্যাংক সঞ্চয়ী হিসাব নং -১৩৭১১২০০১৮২৭৫। পার্সনাল বিকাশ নাম্বার-০১৮৫৫৪১৪৭৪৬ এই নাম্বারে।

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *