দোভালের সফরে সীমান্ত নিয়ে চীনের অবস্থান পাল্টাবে না

বেইজিং: চলতি সপ্তাহে ব্রিকস ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার্সের বার্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে চীন সফর করবেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। ভারতীয় প্রচারমাধ্যম সীমান্তে চীনা ও ভারতীয় সৈন্যদের বর্তমান মুখোমুখি অবস্থানের পিছনের অন্যতম মূল ব্যক্তি হিসেবে দোভালের এই সফর নিয়ে চলমান বিবাদ স্থগিত করার ক্ষেত্রে উচ্চাশা পোষণ করছে। উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো অর্থবহ সংলাপের আগে চীনা সীমান্তের ভেতর থেকে ভারতে সেনা প্রত্যাহার একটি পূর্বশর্ত। আর বেইজিং তার এই অবস্থানে অটল থাকবে। চীনের সরকারী মুখপাত্র ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর সম্পাদকীয়তে একথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, চীনের ভূখণ্ড থেকে ভারতীয় সেনা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের আগে দিল্লির সাথে কথা বলবে না চীন। নয়াদিল্লির এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকলে তা কাটিয়ে ওঠা উচিৎ। আর দোভালের বেইজিং সফর ভারতের মনমত অচলাবস্থা কাটানোর সুযোগ এমন ধারণাও বাদ দিতে হবে দিল্লিকে।

ব্রিকস ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার্সের বৈঠক ব্রিকস সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য একটি রুটিন সম্মেলন। আর চীন-ভারত সীমান্ত সংঘাত নিয়ে কথা বলার জন্য এটি কোনো প্ল্যাটফর্ম নয়। সীমান্ত বিরোধে বেইজিংয়ের সাথে দরকষাকষি করার চেষ্টা করলে দোভাল নিশ্চিতভাবেই হতাশ হবেন। চীন অবধারিতভাবেই ভারতের নিঃশর্ত সেনা প্রত্যাহার চায়। চীন সরকারের দৃঢ় সংকল্পে সব চীনা নাগরিকের সমর্থন রয়েছে। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে আমরা এক ইঞ্চি চীনা ভূমি হারাতে দিতে পারি না।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো তাদের সেনাদের ফিরিয়ে আনার ‘মর্যাদাপূর্ণ’ উপায় খুঁজছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, যদি ভারত আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে, তাহলে প্রত্যাহারের মধ্যে ‘মর্যাদা’ দেখতে পাবে। সেনা প্রত্যাহারের জন্য নয়াদিল্লির সাথে সমন্বয় সাধনের বা রাস্তার নির্মাণ স্থগিত করার ব্যাপারে বেইজিংয়ের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সিকিম সীমান্তে চীনের সীমানায় অনুপ্রবেশ করে ভারত ভুল করেছে এবং তার ভুলগুলো তাকেই সংশোধন করতে হবে। ভারতের এই প্রত্যাহারে চীন কোনো ধরণের বিদ্রূপ অথবা কৃতজ্ঞতা কোনটাই প্রকাশ করবে না। দিল্লিকে তার সমস্ত বিভ্রান্তি থেকে সরে আসতে হবে।

সীমান্ত এলাকায় পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) মোতায়েন করা হচ্ছে এবং ভারত যদি স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে তবে তার প্রতিক্রিয়ায় কার্যকর পদক্ষেপই নেয়া হবে। পিএলএ এমন পদক্ষেপ নিতে সক্ষম যা ভারতীয় সেনা বা সরকারের সামাল দেয়ার সামর্থ নেই। আমরা বিশ্বাস করি যে, ভারত চায় না চীনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে যা উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর হবে। কিন্তু তারা যদি এই পথটি বেছে নেয় তবে বেইজিং তার ভূখণ্ডকে রক্ষা করার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে এবং যে কোনো শক্তির হাতে তার ভূমি দখলকে প্রতিরোধ করবে। এজন্য নয়াদিল্লিকে অবশ্যই চরম মূল্য দিতে হবে। ভারত স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করে নিলে তা এড়ানো যাবে যা সকল পক্ষের জন্যই হবে মঙ্গলজনক। বেইজিং যদি পাল্টা ব্যবস্থা  নিতে বাধ্য হয়, তবে দিল্লি আরো নৈরাশ্যজনক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির মধ্যে হারিয়ে যাবে। আর ১৯৬২ সাল থেকেও গুরুতর কৌশলগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।

চীনের জিডিপি ভারতের পাঁচগুণ এবং তার প্রতিরক্ষা বাজেট ভারতের চারগুণ। তবে এটাই আমাদের শক্তির একমাত্র উৎস নয়। সত্য ও ন্যায় চীনের সাথে আছে এবং নয়াদিল্লিকে তার সেনা নিঃশর্তে প্রত্যাহার করতে বলে বেইজিং ন্যায়সঙ্গত অবস্থানেই রয়েছে।

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *