দায়ী ইলাল্লাহঃ ডঃ নাজিমুদ্দীন এরবাকান

গত শতকের তুরস্কের ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম সিপাহসালার নাজিমুদ্দীন এরবাকান ১৯২৬ সালে তুরস্কের সমুদ্র উপকূলবর্তী সিনোপ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইস্তাম্বুল টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্রকৌশলে স্নাতক এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ কৌশলে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। এছাড়াও তিনি বাদশাহ সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলাম শিক্ষায় মার্স্টাস ও পিএইচডি করেন।
ডঃ এরবাকানের জন্মের কয়েক বছর আগে কামাল আতাতুর্ক পাশা ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর কাল দিনে ৭০০ বছরের পুরোনো ওসমানীয়া খেলাফত বিলুপ্ত ঘোষনা করেন। খেলাফত বিলুপ্তে সারা পৃথিবীর মুসলিম জাতি দিশেহারা অবস্থায় পতিত হয়, তুরস্কের অবস্থা আরো শোচনীয় হতে থাকে। কামাল পাশা ইউরোপের শিক্ষা ব্যবস্থার অনুকরণে তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা চালু করেন। এক সময়ের সুনামধন্য আরবী ভাষা শিক্ষা ও চর্চা বন্ধ করেন। আরবী আযান এবং আরবী ভাষায় কুরআন-হাদীস পাঠ নিষিদ্ধ করেন। তুর্কী মুসলমানদের হজ্ব আদায়ের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। মুসলিম মহিলাদের হিজাব ব্যবহার বে-আইনী ঘোষনা করেন। ১৯২২ সাল থেকে ১৯৪৬ পর্যন্ত মোস্তফা কামাল পাশার এই নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল। মুসলমানদের স্মৃতি বিজরিত এবং গৌরবময় জনপদ তুরস্কের ইতিহাসে কলঙ্কলেপনকারী এই শাসক ১৯৩৮ সালে মৃত্যুবরন করেন।
আধুনিক ও ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্কে নতুন করে ইসলামী আদর্শের পূণর্জাগরনের ক্ষেত্রে সাঈদ বদিউজ্জামান নূরসী, আদনান মেন্দেরেস ও নাজিমুদ্দিন আরবাকান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রখ্যাত ওস্তাদ বদিউজ্জাামন সাইয়েদ নুরসী (রঃ) তাঁর বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থ ‘রিসালায়ে নুরে’র মাধ্যমে যুবকদের মধ্যে প্রচলিত ও ইসলামের বিরুদ্ধে সকল প্রপাগান্ডার দাঁতভাঙ্গা জবাব পেশ করেন। পরবর্তীতে আরবীতে আজানের প্রচলনের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন গড়ে তোলেন আদনান মেন্দেরেস। কিন্তু তিনবারের নির্বাচিত এই প্রধানমন্ত্রীকে ১৯৬০ সালে আজান প্রচলনের কারনে ফাঁসি দেয় সেক্যুলার সেনাবাহিনী।
প্রখ্যাত বিজ্ঞানী নাজিমুদ্দিন এরবাকান সমসাময়িক আলেমদের পরামর্শে ১৯৬৯ সালে স্বতন্ত্রভাবে এমপি নির্বাচিত হন এবং সে সময়ের সকল ইসলামী সংগঠনের সমর্থনে মিল্লিগুরুশ নামে রাজনৈতিক প্লাটফরম গঠন করেন। যেহেতু তুরস্কে ইসলামের নাম নেয়া ও ইসলামের দল করা নিষিদ্ধ ছিল, ফলে তাঁর এই আন্দোলন খুব অল্প সময়ে সাংগঠনিক শক্তি অর্জন করে কোয়ালিশনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসীন হয়।
তার এই কোয়ালিশন সরকারের সময় ৬ হাজার মুসলিমকে মুক্ত করে দেয়া, সাইপ্রাস কে গ্রীস থেকে দখল করা ও মুসলিমদেরকে যুলুম মুক্ত করা, নতুন করে মাদ্রসা শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করা সহ অনেক কাজ করেন।
কিন্তু তার এইসকল কাজের কারনে মিল্লিগুরুসের রাজনৈতিক শাখা মিল্লি নিজাম পার্টিকে ইসলামী মৌলবাদী হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মিল্লি সালামত পার্টি। কিন্তু এর পরপরেই ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ তে তুরস্কের কোনিয়াতে কুদুস দিবসের সমাবেশ পালনের অভিযোগে ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ তে সামরিক শাসকগন ক্যু করে এই পার্টিকেও নিষিদ্ধ করে দেন। সেইসাথে সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়।
তার উপর এই সকল যুলুম নির্যাতন ও তাকে রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও ১৯৮৩ সালে তিনি রেফাহ পার্টি গঠন করেন। এই পাটি খুব অল্প সময়েই জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ১৯৮৭ সালে এরবাকানের উপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় তিনি আবারো রাজনীতিতে আসেন। ও রেফাহ পার্টির প্রেসিডেন্ট হন। তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই এই পার্টি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৪ সালের স্থানীয় মেয়র নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেন।
নাজিমদ্দিন এরবাকান ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশসহ সাতটি উন্নয়নশীল মুসলিম দেশ নিয়ে ডি-৮ http://goo.gl/YMOvMp আন্তঃরাষ্ট্রীয় পারস্পারিক সহযোগী সমবায় গঠন করেন। বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান এবং তুরস্ক এই ৮ টি দেশ নিয়ে ডি-৮ সংস্থা গঠিত। ডি-৮ এর উদ্দেশ্য হল উন্নয়নশীল দেশ গুলোর উন্নতি সাধন করা ও বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করা, পারস্পরিক বানিজ্যিক সম্পর্ক ও সুবিধা বৃদ্ধি করা , আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সকলের অংশ গ্রহণ বৃদ্ধি করা ও মানসম্মত জীবন জাপন নিশ্চিত করা। গাজায় বিশেষভাবে সাহায্যকারী আলোচিত তুর্কি এনজিও http://www.ihh.org.tr/ এর প্রতিষ্ঠাতাও তিনি|
প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ইরান সফরকালে তিনি বলেন, আমি ২৪ জুন ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলাম এবং প্রধানমন্ত্রী হয়ে পার্লামেন্ট থেকে শপথ নেয়ার পর আমি আমার অফিসে আসি। এর পর সর্বপ্রথম আমেরিকার রাষ্ট্রদূত আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে । সে আমাকে বলে যে আমরা জানি যে আপনাদের দাওয়াত হচ্ছে ইসলাম আর আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন অবশ্যই আমরা এটা পছন্দ করিনি ।
কিন্তু আপনাদের সাথে আমাদের কাজ করতে হবে । ৬ টি শর্তে আপনার সাথে কাজ করতে পারি ।
১/ ইরানের সাথে আপনাদের বানিজ্য পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলারের বেশি করতে পারবেননা। ২/ ইরানে যেতে পারবেননা
৩/ মুসলিম দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে পারবেননা
৪/ তুরস্কের অভ্যন্তরে অবস্থিত আমেরিকা আর ইসরাইলের অংগ সংগঠনগুলোর কাজে বাধা দিতে পারবেননা ।
৫/ তুরস্কের অভ্যন্তরে অবস্থিত সামরিক শক্তিকে বহিষ্কার করতে পারবেননা ।
৬/ ইরাকের পাইপ লাইন গুলো উন্মুক্ত করতে পারবেননা ।

আমাদের ইতিহাসে আলী পাশার একটি বিখ্যাত প্রবাদ আছে । সেটা হল আমি যে রাষ্ট্রীয় কাজ করতে যাইনা কেন প্রথমে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাথে পরামর্শ করি এবং সে যা বলে আমি ঠিক তার বিপরীতটাই করি ।
আমিও ঠিক একই কাজটি করেছি । সে যা বলেছে তার বিপরীত কাজগুলাই করেছি। সে বলেছিল ৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বানিজ্য করতে পারবেননা অথচ আমি ইরানের শুধুমাত্র গ্যাসের জন্যই ২.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করি। এমনকি আমি সিদ্ধান্ত নেই যে ইরানের সাথে তুরস্কের বানিজ্যিক সম্পর্ক ১০ বিলিয়ন ২০ বিলিয়ন ৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যেই সীমিত থাকবেনা বরং আমাদের বানিজ্যিক সম্পর্ক জার্মানি এবং ফ্রান্সের সাথে যতটুকু সম্পর্ক রয়েছে তার চাইতেও বেশি হবে । ১৫ দিন পর আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ারেম .এম ক্রিস্টিফার এবং আঙ্কারার রাষ্ট্রদূত ক্রসমানার এই দুই ইয়াহুদি শলাপরামর্শ করে যে যাই হোকনা কেন রেফা পার্টি এবং এরবাকানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে । তাদের সেই ষড়যন্ত্রের দলিলগুলো আমার কাছে আছে । আমি এটা কেন বলছি ? আমরা দোয়া করি যে ইরানের ইসলামী বিপ্লব তার পূর্ণতায় আসুক । কিন্তু আমরা এটা জানি যে আমাদেরকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য ওরা যে ষড়যন্ত্র করছে আর ইরানের বিপ্লবও যাতে লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারে এই জন্য তারা সকল ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাবে এবং আপনারা এদেরকে সুযোগ না দেয়ার জন্য সর্বদা সতর্ক থাকবেন । কারন ইয়াহুদিবাদ (মাসন) ৫৭০০ বছরের একটি পুরাতন সংগঠন ।
আল্লাহ মহান রাব্বুল আলামিন দয়াবান এবং দয়ালু । প্রযুক্তির উন্নয়ন ইসলামের জন্য একটি অনেক বড় একটি নিয়ামত । আমরা এমন প্রযুক্তি আবিষ্কার করব যে আমাদেরকে আক্রমণ করার সময় তাদের ক্ষেপনাস্ত্রগুলো দিয়েই তাদের রণতরীগুলো ধ্বংস করে দিব ।এটা কি সম্ভব নয় ? হ্যাঁ এটা ইলেক্ট্রিক্যাল ইলেকট্রনিসে সম্ভব । আমরা ওজন ছাড়া বিমান তেহরান থেকে তেলআবিবে পাঠাবো আর এখানে বসে দেখবো । এরপর এটি ইসরাইলে অবস্থিত পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানবে । এগুলো কি সম্ভব ? হ্যাঁ সম্ভব আমি এগুলোর প্রটোটাইপ করে নিয়ে এসেছি । কারন টেকনোলজির কোন শেষ নেই । ইরানের ইসলামী বিপ্লব নতুন দুনিয়ার সূচনার একটি দরজা । তুরস্ক এবং ইরানের সম্পর্ক হচ্ছে একটি বীজের মত । এর চারপাশে রয়েছে D~8 । D~8 এর চারপাশে রয়েছে D~60 । ৬০ টি মুসলিম দেশ এবং নিপীড়িত ১০০ টি দেশ । এরপর রাশিয়া চীন আফ্রিকা ভারত সহ ৬০০ কোটি মানুষকে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিতে চাই । ইসলামিক দিনার চালু করবো । ইসলামিক জাতিসংঘ, নিজস্ব ন্যাটো খুলবো আর এভাবে আমরা একটি নতুন দুনিয়া গড়ব । আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুরা ইব্রাহিমের ৪৬ আয়াতে বলেছেন।
﴿وَقَدْ مَكَرُوا مَكْرَهُمْ وَعِندَ اللَّهِ مَكْرُهُمْ وَإِن كَانَ مَكْرُهُمْ لِتَزُولَ مِنْهُ الْجِبَالُ﴾
৪৬) তারা তাদের সব রকমের চক্রান্ত করে দেখেছে কিন্তু তাদের প্রত্যেকটি চক্রান্তের জবাব আল্লাহর কাছে ছিল, যদিও তাদের চক্রান্তগুলো এমন পর্যায়ের ছিল যাতে পাহাড় টলে যেতো৷
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরও বলেন
إِنْ يَنْصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ
যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন কেও তোমাদের পরাজিত করতে পারবে না।
আমি এর আগে ইরানে D8 খুলেছিলাম । এখন আমি আসছি দুটি লক্ষ্য নিয়ে ।
১/ ইরানের বিপ্লবের অভীষ্ট লক্ষ্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করার জন্য । যদি আত্মবিশ্বাস রাখেন আপনারাই বিজয়ী হবেন । আল্লাহ আপনাদের সহায় হবেন ।
২/ ইরান এবং তুরস্ক নতুন বিপ্লবের সূচনা করবে ইনশাআল্লাহ্‌
কিন্তু ১৯৯৭ সালে তিনি ইসলামপন্থার অভিযোগে তৎকালীন সামরিক বাহিনী কর্তৃক জোরপূর্বক পদচ্যুত হন এবং পরবর্তীতে তুর্কি সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রনীতিতে ইসলামপন্থী প্রভাববিস্তারের অভিযোগে তুর্কি সংসদ তাকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে|
২০০১ এর ২০ জুলাই সাদাত পার্টি যাত্রা শুরু করে। পরবতীতে তার ছাত্র এরদোগান মিল্লি গুরুসকে ভেঙ্গে গঠন করেন একে পাটি। মিল্লিগুরুশ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় । সাদাত পার্টি রয়ে যায় ইসলামী দল হিসাবে আর ‘একে পার্টি’ তাদের সকল দৃষ্টি কোনকে পরিবর্তন করে লিবারিজমের আদলে গড়ে উঠে। ‘আমরা সবাই মিল্লিগুরুশ ও আমরা হলাম তার পরবর্তী প্রজন্ম’ এই স্লোগান দিয়ে জনগনের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসে একে পার্টি। এখনো মানুষ ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে তায়েব এরদোয়ান এরবাকানের ছাত্র এই হিসাবে তারা একে পার্টিকে ভোট প্রদান করে। কিন্তু ড. এরবাকান, এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তারা ছাত্রদের ভূলকে সবসময় জাতির সামনে উন্মোচন করেছেন। তিনি তাদেরকে সংশোধন হতে বলেছেন। তিনি বারবার একটা কথা বলতেন ”তোমারা যে পথে পা বাড়িয়েছ, সে পথে শুধু প্রবেশই করা যায় কিন্তু বের হওয়ার কোন পথ নেই।”
( এখানে একটা মজার ব্যপার হলো তারা দল থেকে বের হয়ে আসার পরেও অন্যান্য বাম পন্থীদের অভিযোগ ছিল এরবাকান দুইটা পার্টি দিয়ে দেশ চালাচ্ছেন। একটা হলো ক্ষমতায় এবং অন্যটা সামাজিক ও ইসলাম প্রচারের কাজে। )

ইসলামের আলোকে নতুন একটি বিশ্বের স্বপ্ন দেখেছিলেন ডঃ নাজমুদ্দিন এরবাকান। তার প্রস্তাবিত প্রোজেক্টগুলো হলঃ
১/ মুসলিম জাতিসঙ্ঘ
২/ আদর্শ রাজনৈতিক সংস্থা
৩/ প্রযুক্তি উন্নয়ন সংস্থা
৪/ নতুন মুদ্রা বাবস্থা
৫/ অর্থনৈতিক সহযোগী সংস্থা
৬/ সুদ মুক্ত বিশ্ব ব্যাংক
৭/ দরিদ্র বিমোচন ব্যাংক
৮/ বিশ্ব সংস্কৃতি সংস্থা
৯/ বিশ্ব মিডিয়া ও প্রচার সংস্থা

৮৪ বছর বয়সে ২০১০ সালে এরবাকান পুনরায় সাদাত পাটির দায়িত্ব গ্রহন করেন এবং দায়িত্বপালনকালীন সময়ে ২০১১ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারী সবাইকে কাঁদিয়ে মহান প্রভুর কাছে চলে যান। আল্লাহ ডঃ এরবাকানকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।
১৯৬৭ সালে একবার তুরস্কের অন্যতম শহর কনিয়াতে একটি সমাবেশ করার পর পথে একটা পরিবারের বাসায় চা খাওয়ার দাওয়াত নিয়ে তার দলের কর্মসূচীর কথা বলছিলেন। তিনি বলছিলেন তুরস্কের ইতিহাস-ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবেন, পুনরায় খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করবেন। দেশের ভেতরের অশান্তি দূরীকরণে ইসলামী শাসনের বিকল্প কিছু নেই। তখন সেই পরিবারের এক মহিলা বলেছিলেন, উস্তাদ আপনি সত্য বলছেন। কিন্তু আপনি কি পারবেন বাতিলের এই পাহাড়সম বাধা কে ডিঙ্গিয়ে আপনার স্বপ্ন পুরন করতে? আপনি কি পারবেন আমেরিকার এই পরমানু বোমাকে প্রতিহত করতে? তখন ইসলামের জ্ঞানে আলোকিত, ইসলামের এক মহান নেতা দৃপ্ত কণ্ঠে বলেছিলেন-
”একটি ফুল দিয়ে কখনো বসন্ত হয় না কিন্তু প্রতিটি বসন্তই একটি ফুল দিয়ে শুরু হয়।”
বসন্ত তো শুরু হয়ে গিয়েছে, আমাদের ফুল হয়ে ফুটতে কত বাকি???

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *