কী আছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে?

রাষ্ট্রপতি ভবন ভারতের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন। এটি ভারতর রাজধানী নতুন দিল্লিতে অবস্থিত। ব্রিটিশ শাসনকালে এই প্রাসাদটি ছিল ভারতের ভাইসরয়ের সরকারি বাসভবন। এই সময় এটি “ভাইসরয়’স হাউস” নামে পরিচিত ছিল। ১৯৫০ সালে প্রাসাদটি রাষ্ট্রপতি ভবন নামে পরিচিতি লাভ করে।

গভর্নমেন্ট হাউস ফোর্স কোর্টে কুচকাওয়াজ পরিদর্শনে যাচ্ছেন রাজেন্দ্র প্রসাদ।

ভবনের ছোট্ট ইতিহাস

ভারতের প্রথম ভাইসরয় লর্ড ইরউইনের জন্য এই ভবনটি তৈরির চিন্তা আসে ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যার এডউইন লুটিয়েনছের মাথায়। ১৯২৯ সালে এই ভাইসরয় এই ভবনে ওঠেন। ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল সি রাজাগোপালাচারি প্রথম এই বাসভবনে ছিলেন। তখন এর নাম ছিল গভর্নমেন্ট হাউস।

যখন ভবনটি তৈরি হয়, তখন এর নাম ছিল ভাইসরয়’স হাউস। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এই ভবনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় গভর্নমেন্ট হাউস। পরে রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সময় এর নাম হয় রাষ্ট্রপতি ভবন।

ইতালির কিউরেনল প্যালেসের পরে বিশ্বের সবথেকে বড় বাসভবন এই রাষ্ট্রপতি ভবন। এই ভবন তৈরি হতে ১৭বছর সময় লেগেছিল। ১৯১২সালে এর নির্মাণকার্য শুরু হয়েছিল। ১৯২৯সালে এটি ব্রিটিশ সরকারের হাতে সমর্পণ করে দেওয়া হয়। প্রায় ২৯ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর সাহায্যে তৈরি হয়েছিল এই বিশাল বাসস্থান।

রাষ্ট্রপতির জন্য বরাদ্দ এই সরকারি বাসভবনটি ৩৩০ একর জায়গার ওপর নির্মিত। চারতলা এই ভবনে রয়েছে ৩৪০টি কক্ষ। এর মধ্যে লিভিং রুম ৬৩টি।

এখানে ৭৫০ জন কর্মচারী কাজ করে। ৫০ জন রান্নার কাজ করে। বিশ্বের যেকোনো ধরনের পদ তৈরি করতে দক্ষ এই রাঁধুনিরা।

এই বাসভবন তৈরি করতে গিয়ে মালচ গ্রামের রায়সিনি পরিবারের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এলাকা ছিল পাহাড়ি। তাই রাষ্ট্রপতি ভবনকে রাইসিনা হিলস্ ও বলা হয়ে থাকে। এর নির্মাণের সময় আর্কিটেক্ট এডিয়ন ল্যান্ডসির-এর সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। তিনিই এর নকশা তৈরি করেছিলেন।

স্বাধীনতার আগে ভাইসরয় এখানেই থাকতেন।

রাষ্ট্রপতি ভবনের মধ্যে মুঘল গার্ডেন কে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে জনসাধারণের প্রবেশের জন্য খুলে দেওয়া হয়। দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটক আসেন এই বাগানের শোভা উপভোগ করতে।

এছাড়াও এখানে অনেক বাগানও রয়েছে। যার মধ্যে গোলাকৃতি বাগান সবথেকে উল্লেখযোগ্য।

রাষ্ট্রপতি ভবনের ব্যাঙ্কোয়েত হলে ১০৪ জন অতিথির একসঙ্গে বসার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিদের ছবি এই হলে রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ভবনের এক সংগ্রহশালায় একটি রুপার চেয়ার রয়েছে, যার ওজন ৬৪০ কিলোগ্রাম। ১৯১১ সালে দিল্লি দরবারে পঞ্চম জর্জ এই চেয়ারে বসেছিলেন বলে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ভবনের অশোক হলে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান হয়। দেশ বিদেশের গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের ছবি দিয়ে সজ্জিত এই হল।

প্রতি শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ ৩০ মিনিটের জন্য চেঞ্জ অব গার্ড-এর অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এটি দেখার জন্য শুধুমাত্র নিজের ছবিসহ পরিচয়পত্র দেখাতে হয়।

রাষ্ট্রপতি ভবনে শিশুদের জন্য ২টি গ্যালারি রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির উপহারগুলো কী হয়?

এই ম্যানশনে উপহারসামগ্রী রাখার জন্য একটি জাদুঘর আছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যেসব উপহার পেয়ে থাকেন, তা এই জাদুঘরে রাখা হয়।

ক্লক টাওয়ার

রাষ্ট্রপতি ভবনে রয়েছে একটি ক্লক টাওয়ার। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত জে বি জয়সে অ্যান্ড কোম্পানি এটি তৈরি করে। রাষ্ট্রপতি ভবনে ২৩ মিটার উঁচু এই ক্লক টাওয়ারটি নজর কাড়ে সবার। সেখানেও রয়েছে একটি জাদুঘর। রাষ্ট্রপতির পাওয়া উপহারসামগ্রী দ্বারা সজ্জিত এই জাদুঘর।

প্রকৃতির ছোঁয়া

রাষ্ট্রপতি ভবনের ৭৫ একরের বেশি জায়গাজুড়ে আছে বাগান। রয়েছে জলাধার, প্রজাপতি কর্নার, বরইগাছের উদ্যান, আমবাগান, ময়ূর পয়েন্ট, কমলালেবুর বাগান ও বন। আছে নানা জাতের হাজার হাজার গাছগাছালি, পশুপাখি।রাষ্ট্রপতি ভবনের পেছনেই রয়েছে আর্কষণীয় বাগান যা মুগল গার্ডেন নামে পরিচিত। এই বাগানে রয়েছে ২৫০ রকমের গোলাপ এবং দেশী-বিদেশী হাজার রকমের ফুল। এছাড়া হার্বাল গার্ডেনটিও চমৎকার।

ভোজ কক্ষ

এটি সুবিশাল খাবার ঘর। এখানে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করা হয়। এই কক্ষটি ১০৪ ফুট লম্বা ও ৩৪ ফুট প্রশস্ত। একসঙ্গে ১০৪ জন বসে খেতে পারে।

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *