এলাচের সুবাস-সুগন্ধিময় ঔষধি

এলাচের সুবাস – এলাচ সুগন্ধিময় ঔষধি। মূল্যের দিক দিয়ে বিশ্বে এর অবস্থান তিন। তরকারির স্বাদ বাড়াতে কিংবা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চমৎকার মসলা এ বীজ। এতে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’। প্রচুর প্রোটিন, স্বল্প মাত্রায় ফ্যাট, ভোলাটাইল অয়েল প্রভৃতি। আরো আছে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস।

বুক জ্বালা কমিয়ে দিতে এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। লিভার, গলব্লাডারের সমস্যায় সমাধান আনে এ ভেষজ। ক্ষিদে না লাগলে এলাচ মুখে পুরে নিন। অথবা খাওয়ার আগে এলাচ গুঁড়ো পানি দিয়ে খেয়ে নিন। খাবারের আগ্রহ বেড়ে যাবে। পেটফাঁপা ভাব, পেট ব্যথা ও এসিডিটি দূর করতে সাহায্য করে এ ঔষধি। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও এলাচের কদর রয়েছে। হজমের সমস্যায় ভুগলে এলাচ খেয়ে যান। শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগের জন্য উপকারী ঔষধি এলাচ। এলাচ দিয়ে চা খেলে অনেক ভালো লাগবে।

এ ছাড়া কাশি থেকে মুক্তি পেতে এ চায়ের জুড়ি মেলা ভার। মাথাব্যথা থাকলে তাও পালাবে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে এলাচের মতো কার্যকর ভেষজ আর নেই। একই সাথে এটি মুখ ও গলার ক্ষত সারাতে সহায়তা করে। কিডনি থেকে বিষাক্ত উপাদান সরিয়ে দেয় এলাচ। এ ছাড়া প্রস্রাবে সমস্যা হয়ে থাকলে এলাচ গুঁড়ো করে নিন। এবার এ গুঁড়ো মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। মূত্রবর্ধক ওষুধ এবং ভরপুর আঁশের কারণে এটা উচ্চরক্তচাপ কমিয়ে দেয়।

ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস কিংবা ফাঙ্গাসজনিত কোনো রোগ প্রতিরোধে বেছে নিতে পারেন এ অ্যান্টিসেপ্টিক। এর ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও অ্যাসেনশিয়াল অয়েল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা ফ্রি রেডিক্যালস থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং বুড়িয়ে যাওয়া কমিয়ে দেয়। রক্তের জমাটবদ্ধতা কাটিয়ে দেয় এলাচ। হেঁচকি, খিঁচুনি রোধে এর ভূমিকা সুবিদিত।

তবে অনেক পুষ্টিবিদের মতে, গর্ভবতী, ব্রেস্ট ফিডিং করছেন এমন মায়েরাসহ যাদের পিত্তথলি পাথরের সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের এলাচ এড়িয়ে চলাই ভালো।

ত্বক রক্ষায় গ্রিন টি

চাপ্রেমীদের কাছে গ্রিন টির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রিন টির মধ্যে বিদ্যমান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পুষ্টিগুণ থাকার ফলে এর চাহিদা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ত্বকসচেতন মানুষের কাছে তাই এ চায়ের গুরুত্ব অনেক। ত্বক ঠিক রাখতে গ্রিন টির উপকারিতাগুলো জানা থাকলে এ নিয়ে চিন্তা অনেকটাই দূর হবে। ত্বকের ব্রণ দূর করতেও এ চা উপকারী। কারণ এর মধ্যে বিদ্যমান অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল গুণাগুণ ত্বকের ব্রণ দূর করতে সহায়তা করে।

গ্রিন টি মূলত ত্বকের জন্য উপকারী। এটি ত্বকের পুষ্টি সরবরাহের স্টোর হাউজ হিসেবে কাজ করে।
এ চায়ের মধ্যে যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, তা সূর্যের অতি বেগুনিরশ্মির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখে। সবুজ চা সান বার্ন থেকে ত্বককে রক্ষা করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শুধু ত্বককে অতি বেগুনিরশ্মি থেকে রক্ষাই করে না, ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকেও রক্ষা করে। গ্রিন টির মধ্যকার প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের কোষ তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এ ছাড়া ডিএনএ সমন্বয়ে কাজ করে।

অনেক সময় ত্বকে প্রদাহ শুরু হলে গ্রিন টি অনেকটা ওষুধের মতো কাজ করে। ত্বকের মধ্যে গ্রিন টি প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে। পান করার পাশাপাশি গ্রিন টি মুখে মাখলে তা সান স্ক্রিন হিসেবে কাজ করে। এর ফলে ব্রণের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *