এক গাছের পেছনে ব্যয় ১৫ লাখ টাকা!

পাঁচ বছর বয়সী একটি গাছ। শক্ত লোহার গ্রিল দিয়ে এর চারদিক ঘেরা। নিরাপত্তার জন্য সর্বক্ষণ পাহারা দিচ্ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। গাছটির রক্ষণাবেক্ষণে বছরে ব্যয় হচ্ছে ১২ লাখ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫ লাখ টাকারও বেশি।

‘পিপাল ট্রি’ নামে এই ‘ভিভিআইপি’ গাছটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের সালমাতপুরে অবস্থিত। ইউনেস্কো-ঘোষিত বিশ্বঐতিহ্যের অংশ সানচি বৌদ্ধ কমপেল্গক্স থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে গাছটি এমন নিরাপত্তায় বেড়ে উঠছে। মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভুপাল ও বিদিশা নগরের মাঝামাঝি

ওই বিশ্বঐতিহ্যটি অবস্থিত।

বছর পাঁচেক আগে শ্রীলংকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে ভারত সফরে এসে গাছটি রোপণ করেছিলেন। ‘পিপাল ট্রি’ হচ্ছে বোধিবৃক্ষ। এই বৃক্ষের নিচে বসেই বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক বুদ্ধ ধ্যান-জ্ঞানে মগ্ন থাকতেন। তাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা গাছটিকে ‘পবিত্র বৃক্ষ’ মনে করেন।

পরমেশ্বর তিওয়ারি নামে এক রক্ষী বলেন, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা চারজন গাছটির নিরাপত্তার দায়িত্বে আছি। আগে এটা দেখতে প্রচুর লোক আসত। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে এখন কম আসে।

উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বরুণ আওয়াস্তি বলেন, গাছের নিরাপত্তা ও পানি দেওয়ার জন্য চারজন রক্ষী দেওয়া হয়েছে। গাছটি লাগানোর জায়গা দিয়েছে একটি বুদ্ধিস্ট ইউনিভার্সিটি। পুরো এলাকাটি একটি বুদ্ধিস্ট সার্কিস হিসেবে উন্নত করা হচ্ছে। গাছটির চারদিকে লোহার বেড়া আছে। পানি দেওয়ার জন্য বসানো হয়েছে বড় ট্যাংক। এ ছাড়া রাজ্যের কৃষি বিভাগের একজন উদ্ভিদতত্ত্ববিদ প্রতি সপ্তাহে গাছটির অবস্থা পরীক্ষা করতে আসেন।

তবে পরিবেশবাদীরা এই ব্যয়বহুল প্রকল্পের সমালোচনা করেছেন। তাদের মত, ঋণের ভার সইতে না পেরে মধ্যপ্রদেশে গত মাসেই ৫১ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। এই অর্থ তাদের পেছনে ব্যয় করা যেত। খবর এনডিটিভি অনলাইনের।

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *