ইসলাম কেন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল ধর্ম?

ওয়াশিংটন: ২০৬০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ৩২ শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি মুসলমানদের সংখ্যা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে ধারণা মার্কিন গবেষণা সংস্থা ‘পিউ রিসার্চ সেন্টারের’। সংস্থাটির মতে, চলতি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে মুসলমানদের সংখ্যা সারা বিশ্বের খ্রিস্টানদের সংখ্যাকে অতিক্রম করবে।

এই বৃদ্ধির পিছনে কোন কোন বিষয় কাজ করছে এক সাক্ষাৎকারে সে সম্পর্কে বলেছেন পিউ রিসার্চ সেন্টারের সহকারী গবেষক এবং সিনিয়র জনতত্ত্ববিদ কনরাড হ্যাকেড।

তার ওই সাক্ষাৎকারের হাইলাইটস

কেন বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনসংখ্যা এত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে?

‘মুসলমানরা বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ধর্মীয় গ্রুপ। তাদের গড় বয়স চব্বিশের মধ্যে। আর অন্য যে কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর লোকের তুলনায় মুসলমানদের বেশি সন্তান রয়েছে। মুসলিম নারীদের গড়ে তিনজন করে সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে, মুসলমান নয় এমন নারীদের মধ্য এই সংখ্যা ২.২ শতাংশ।’

‘অন্য আরেকটি কারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিবর্তন। আমরা ধর্ম পরিবর্তনের বিয়ষটি নিয়ে গবেষণা করে দেখেছি যে, স্বাভাবিকভাবে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছেন। এছাড়াও বছরে অনেক বেশি মুসলমান জন্মগ্রহণ করছে। কিন্তু সে তুলনায় মারা যাচ্ছে খুবই কম সংখ্যক।’

মানুষ তাদের ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন সম্পর্কে আপনার মতামত।

‘আমরা কয়েক ডজন মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে গবেষণা চালিয়েছি। আমরা ঐসব দেশে ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখতে পাইনি। উদাহরণস্বরূপ, মিশরের অধিকাংশ মানুষ যারা খ্রিস্টান হিসেবে বড় হচ্ছেন প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে তারা সেই পরিচয়কে ধরে রেখেছেন এবং একই রকম মুসলমানদের ক্ষেত্রেও। মুসলমান-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ধর্মীয় বিশ্বাস পরিবর্তনের ওপর কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশ্বাস পরিবর্তন করার জন্য আপনাকে আইনি সমস্যার মোকাবেলা করতে হতে পারে। সুতরাং এসব দেশে বিশ্বাস পরিবর্তন এটি একটি বড় বাধা। বিশ্বে ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসেছে যারা খ্রিস্টান হিসেবে বেড়ে ওঠেছে।’

ইসলামের বৃদ্ধি বিশ্বের জন্য কি বার্তা দিচ্ছে?

‘এটা নিয়ে চিন্তা করার এক উপায় হলো আমরা পশ্চিমা দেশগুলোকে দ্রুত ধর্ম নিরপেক্ষকরণ করেছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো জায়গায় এটি আরো বেশি অসম্পৃক্ত হয়ে উঠছে এবং অন্যদিকে, বাকি বিশ্বে আমাদের এই জনসংখ্যার দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে যেখানে প্রায় প্রত্যেকেরই একটি ধর্মীয় পরিচয় রয়েছে। আমাদের ধারণা অনুযায়ী, ২০৬০ সালের মধ্য পৃথিবীর ১০ জন খ্রিস্টানের মধ্যে চারজন আফ্রিকার সাব-সাহারান অঞ্চলে বাস করবে। বিশ্বে খ্রিস্টানদের বসবাসের ভিত্তিতে সেখানে একটি বিশাল ভৌগোলিক স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধির কারণ?

‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনসংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। আমরা অনুমান করছি ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদী বা হিন্দু বা বৌদ্ধদের তুলনায় মুসলমানদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে মার্কিন জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ মুসলিম এবং এরকম হবে আগামী কয়েক দশক ধরে অব্যাহত থাকবে। বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মতো আমেরিকায় মুসলমানরা অন্যান্য প্রধান ধর্মীয় গোষ্ঠীর তুলনায় সংখ্যালঘু। একারণে তারা বেশি বেশি সন্তান নিচ্ছেন। এছাড়াও, ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা ধারণা করছি, এটি সেখানে অব্যাহত থাকবে।’

ডব্লিউবিইউআর ডট ওআরজি অবলম্বনে

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *