‘ইসলামে ধর্মান্তর আমাকে পরম শান্তি দিয়েছে, যা আগে কখনো অনুভব করেনি’

রাকেল: আমি রাকেল। ২০১২ সালে আমি ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছি।
আমি ডেট্রয়েট শহরের একজন পুলিশ অফিসার ছিলাম। ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত আমি পুলিশ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং দায়িত্বপালনরত অবস্থায় ২০০২ সালে আমাকে গুলি করা হয়েছিল। আমি মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছি এবং বুঝতে পারি, এটি আমার জীবনের একটি নতুন শুরু।

কিভাবে ঈশ্বরকে অনুসরণ করতে হয় আমি আসলে তা জানতাম না। আমার কিছু মুসলিম বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ পর্যন্ত আমি জানতাম না আমার ধর্ম কী। আমার মুসলিম বন্ধুরা ধর্ম সম্পর্কে আমার কাছে অনেক কিছু ব্যাখ্যা করত।

তাদের এই আলোচনা আসলেই আমার জীবনকে বদলে দিয়েছে এবং আমার মধ্যে এখন আর মৃত্যুর ভয় নেই। আমাদের ভয় থাকা উচিৎ একমাত্র আল্লাহর প্রতি এবং আমরা কখনই জানি না পরের দিনটি আমাদের আসবে কিনা। তাই আমাদের সবার উচিৎ ‘শাহাদা’র ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা কারণ আল্লাহ হচ্ছে আমাদের একমাত্র উপাস্য এবং আমি তা জানি।

আমি সত্যিই মৃত্যুর খুব কাছাকাছি ছিলাম এবং সেদিন যদি আমি মারা যেতাম তবে, আমাকে নরকের আগুনে পুড়তে হতো কিনা আমি তা জানি না। কিন্তু আজকে আমি আত্মবিশ্বাসী এবং সুখী। আজ যদি আমি মারা যাই, সেক্ষেত্রে আমি জানি, আমি কোথায় যাচ্ছি।

মুসলিম হওয়ার আগে মুসলমানদের মতো অতটা দৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গি আমার ছিল না। আমি একজন মুসলিমপন্থী বা মুসলিম বিরোধী অথবা এমন কিছু ছিলাম না। আমি সবসময়ই খোলা মনের ছিলাম। আরেকটি বিষয় হচ্ছে আমি আমার পরিবারের অন্যদের থেকে ভিন্ন ছিলাম। আমি আমার খোলা মনের কারণেই মানুষের প্রতি আমার সম্মান ছিল যা পরিবারের অন্যদের মধ্যে ছিল না।

পুলিশ অফিসার হিসেবে চাকরিতে নিযুক্ত থাকলে আমি আসলেই পাগল হয়ে যেতাম। কারণ ডেট্রয়েটে কোনো কারণ ছাড়াই মুসলিমদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটছে, বিশেষকরে ৯/১১ এর ঘটনার পর থেকে এটি খুব বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি নিয়ে আমি সত্যিই খুব আতঙ্কিত ও ক্লান্ত ছিলাম। তারা চরমপন্থায় বিশ্বাস করুক বা না করুক কেবল মুসলিম হওয়ার কারণেই এই হামলার ঘটনা ঘটছে।

আমি জানি, আমার মুসলিম বন্ধুরা যা বিশ্বাস করে তা চরমপন্থা নয় এবং তারা সবাই সন্ত্রাসী নয়। প্রতিটি ধর্মে এবং সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভাল মানুষ যেমন আছে, তেমনি অনেক খারাপ মানুষও রয়েছে। ঠিক তেমনি ভাল পুলিশও যেমন আছে তেমনি খারাপ পুলিশও রয়েছে এবং এটা সবক্ষেত্রেই একই রকম।

এবং মুসলিমদের আক্রমন ও হেনস্তার বিষয়টি সত্যিই আমার হৃদয়কে ভেঙ্গে দেয় এবং প্রকৃতপক্ষে ৯/১১ এর পর ইসলামি বিশ্বাসে আগ্রহী হয়ে ওঠলে এসব ঘটনা আমাকে খুব বেশি কষ্ট দিত। একজন পুলিশ অফিসার হিসাবে রাস্তায় এসব ঘটনা দেখা সত্যিই বিরক্তিকর ছিল এবং যেভাবে তাদের সঙ্গ আচরণ করা হয়েছে তা অযৌক্তিক ছিল।

লাস ভেগাসে নতুন মুসলিম জীবন
আমি এখানে আমার লাস ভেগাসের একটি মসজিদে আছি এবং সমাজের দরিদ্র মানুষের জন্য কিছু শীতের কাপড় বিলি করেছি। এসব কাপড় কেবল একটি টেবিলের উপর রেখে দিয়েছি এবং মানুষ তার প্রয়োজন মতো তা নিয়ে গেছে।

আমি জানি, একটি নতুন ভাষা শিখতে অনেকেই নিরুৎসাহিত হতে পারে। আমার জন্য ইসলাম মূলত একটি নতুন সংস্কৃতি। এটা শুধু একটি ধর্ম নয়; এটা জীবনের একটি নতুন উপায়। এটা ঠিক যে আমি তা খুব দ্রুতই শিখতে চাই এবং বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করতে চাই।

কিন্তু এটা কঠিন কারণ বাড়িতে আমি একা বাস করছি এবং হিজাব থেকে শুরু করে প্রায় সব কিছু শিখতে আমাকে ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমি জানি আমাকে এটি আমার নিজের আগ্রহেই শিখতে হবে। যাইহোক, এটি আমার জন্য একটি বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা এবং এতে অনেক শান্তি ও আনন্দ রয়েছে। এটি আসলেই একটি অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা।

আমি পুরোপুরি জানি যে আমি সঠিক জিনিসটি করেছি। আমি ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য প্রায় দুই বছর ধরে ভেবেছি। ইসলাম ধর্মের ওপর আমি অনেক জ্ঞান ছিল কিন্তু এ সম্পর্কে বাস্তব কোনো অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। আমার কখনোই মসজিদে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল না, তবে আমার অনেক মুসলমান বন্ধু ছিল। পুলিশ বাহিনীতে আমার একজন মুসলিম সহকর্মীও ছিল এবং তিনি আমাকে অনেক কিছুই ব্যাখ্যা করেছেন।

প্রতিদিন আমি আমার কুরআন পড়ি। প্রতিদিন আমি ইসলামের শিষ্টাচার সম্পর্কে পড়ছি। আমি নতুন কিছু শিখছি এবং মানুষজন অত্যন্ত হেল্পফুল। আমি একজন আমেরিকান হওয়ায় তারা জানে যে আমি আরবি জানি না। তাই তারা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে আমাকে ইসলাম সম্পর্কে শেখান এবং নির্দেশনা দেন। আমি আসলেই ইসলামে আমার কিছু শক্তিশালী ভাইদের পেয়েছি; যারা আমাকে অনেক কিছু শেখাতে সহায়তা করছে।

ইসলামে ধর্মান্তর আমাকে পরম শান্তি এবং আনন্দ দান করেছে; যা আমি আগে কখনো অনুভব করেনি।

অ্যাবাউট ইসলাম অবলম্বনে

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *