ইউরোপের অন্যরকম এক মুসলিম দেশ

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের ছোট্ট একটি দেশ আলবেনিয়া। আলবেনিয়া শব্দের বাংলা অর্থ আলবেনিয়ানদের দেশ। ১০৮০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মাইকেল অ্যাটেলিয়াটেসের লেখা ইতিহাসে আলবেনিয়া নামের উৎপত্তি ও উৎসগত একটি বিবরণ পাওয়া যায়। আলবেনিয়া শব্দের মূল উৎস ল্যাটিন। বাইজানটাইন গ্রিক ভাষায় আলাবানিয়া অর্থ বিদ্রোহী আলবানিয়দের দেশ। সম্রাট প্রথম আলেক্সিয়াসের মেয়ে আন্না কোমনেনার লেখা অলেক্সিয়াড নামক ইতিহাস গ্রন্থেও মাইকেল অ্যাটেলিয়াটেসের বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায়।১৫০ খ্রিস্টাব্দে টলেমির বিবরণে দেখা যায়, আলাবানিরা আধুনিক এলাকার উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত আলবানোপোলিশ এলাকায় বসবাস করত। কথিত হয়Ñ ল্যাটন ‘আলবা’ নাম থেকে ‘আলাবানি’ নামের উৎপত্তি। ল্যাটিন ‘আলবা’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ সাদা। আবার অনেকে মনে করেনÑ আলবা প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান শব্দ, যার অর্থ পাহাড় অথবা জল। তবে শব্দটি যে ভাষারই হোক, আলবা শব্দ থেকে যে আলাবানি বা আলবেনিয়া শব্দের উৎপত্তি সে বিষয়ে ইতিহাসবেত্তাদের কোনো দ্বিমত দেখা যায় না। (ড. মুহাম্মদ আমীন প্রণীত ‘কী করে হলো দেশের নাম-ইউরোপ’ : পৃষ্ঠা ১৫)।  পশ্চিম দিক থেকে আড্রিয়াটিক এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে আইওনিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত এ দেশটির আয়তন মাত্র ১১ হাজার বর্গমাইল, যা বাংলাদেশের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। এটি বলকানের সর্বকনিষ্ঠ দেশ। বলকান বলতে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের একটি ঐতিহাসিক অঞ্চলকে বোঝায়। এর পূর্বে কৃষ্ণসাগর, পশ্চিমে অ্যাড্রিয়াটিক সাগর, দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের হিসাব মতে, আলবেনিয়ার জনসংখ্যা ২৮ লাখ ৯৩ হাজার।

আলবেনিয়ার জানা ইতিহাসের শুরুতে কোনো এক সময় আলবেনিয়ায় বসবাস করত ইলিরিয়ানরা। তারা দেশটির উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বাস করত। আধুনিক আলবেনিয়াতে সেই স্থানগুলোর অবস্থান মধ্য আলবেনিয়ার তেউলান্তিতে। এ ছাড়া পার্থিনী, আরবি এবং চ্যাবি ছিল উত্তরে, পূর্বে এনছেলেইরা। ব্যালিনীয়রা থাকত দক্ষিণাঞ্চলসহ আরো কিছু এলাকাতে।

খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে ইলিরিয়ান রাজা বার্ডিলিস বেশ কয়েকটি ইলিরিয়ান গোত্রকে একত্রিত করে দক্ষিণ-পূর্বের মেসিডোনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। কিন্তু তিনি গ্রাবোসের কাছে পরাজিত হন। এরপর আসেন বার্ডিলিস দ্বিতীয় এবং ক্লেইটুস। ক্লেইটুস আবার পরাজিত হন আলেক্সান্ডারের হাতে। খ্রিষ্টপূর্ব ১৬৮-তে রাজা গেন্টিয়াস রোমান সেনাবাহিনীর হাতে পরাজিত হলে এ অঞ্চলের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়। এর পর থেকে আলবেনিয়া রোমান সাম্রাজ্যের অংশ বলে গণ্য হতে থাকে।

দেশের নাম- রিপাবলিকান অব আলবেনিয়া
রাজধানী-তিরানা
সরকারব্যবস্থা- সংসদীয় গণতন্ত্র
স্বাধীনতা অর্জন- ২৮ নভেম্বর ১৯১২
আয়তন- ২৮,৭৪৮ বর্গকিলোমিটার
সর্বোচ্চ স্থান- মাজা-ই-কোরাবিট (গোলাম কোরাব) ২৭৬৪ মি.
জাতীয়তা- আলবেনিয়ান
জনসংখ্যা- ৩,১৯৫,০০০ (২০১০ সালের হিসাবানুযায়ী)
ঘনত্ব- প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১১.১ জন
সরকারি ভাষা- আলবেনিয়ান
সাক্ষরতার হার- ৮৬.৫%
মুদ্রা- লেক (এএলএল)

মধ্যবর্তী সময়
রোমান সম্রাট ৩৯৫ সালে যখন তার সাম্রাজ্যকে পূর্ব ও পশ্চিম এই দুই ভাগে ভাগ করেন, তখন আধুনিক আলবেনিয়ার এ অংশটি বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে যায়। ৪৬১ সাল পর্যন্ত বাইজেন্টাইন শাসনাধীন এ অংশটি বারবার ভিজিগথস, হান এবং অস্ট্রাগথদের ধ্বংসাত্মক আক্রমণের মুখে পড়ে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীতে এ অঞ্চল আবার স্লাভদের আক্রমণের মুখে পড়ে।
নবম শতকে আলবেনিয়ার পূর্বাঞ্চলের অনেকটুকু অংশ বুলগেরিয়ার ভেতরে ঢুকে পড়ে। তখন এটি কুটমিছেভিস্তা বলে পরিচিত হতে থাকে। দশম শতকে এ অংশটি বুলগেরিয়ার অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সেই সাথে এ অংশে বুলগেরিয়া কয়েকটি সমৃদ্ধ শহরও গড়ে তোলে। বাইজেন্টাইন শাসক বুলগেরিয়ার সম্রাটকে পরাজিত করে সেই অংশ আবার আলবেনিয়ার সাথে যুক্ত করে নেন। কিন্তু দ্বিতীয় আরেক বুলগেরিয়ান শাসক আবারো তা পুনরুদ্ধার করেন। আরো পরে ১৪ শতকের শেষ দিকে তুর্কিরা আলবেনিয়ার একটি অংশ দখল করে নেয়। ১৪৭৮ সালে আলবেনিয়া পুরোপুরি তুর্কি সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়।

আলবেনিয়ার তুর্কি যুগ
১৪ শতকের শেষ দিকে তুর্কিরা তাদের সাম্রাজ্যের পরিধি বাড়াতে শুরু করে। তারা আনাতোলিয়া থেকে বলকান অঞ্চলের রুমেলিয়া পর্যন্ত সাম্রাজ্যের আয়তন বাড়িয়ে নেয়। ১৫ শতকে তুর্কিরা বলকান অঞ্চলের বেশির ভাগের ওপরই তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। এ সময় তুর্কিরা তাদের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনী জেনিসারি বাহিনীতে অনেক আলবেনিয়ানকে যুক্ত করে। এর মধ্যে একজন ছিলেন জায়গীর শাসক জেরগজ কাস্ত্রিওতি। তুর্কি প্রশিক্ষক তার নাম রাখেন ইস্কান্দার বে। পরে সার্বদের হাতে কিছু স্থানে তুর্কিদের পরাজয়ের পর ইস্কান্দার বে তার বাহিনী থেকে পালিয়ে গিয়ে তুর্কি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করেন। এ সময় তিনি আবার রোম ক্যাথলিক ধর্মে ফিরে যান এবং তুর্কি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেন। এ সময়টি ছিল ১৪৪৩-১৪৬৮ সাল পর্যন্ত। কিন্তু পোপের প্রতিশ্র“ত সাহায্য পেতে ব্যর্থ হওয়ায় ইস্কান্দারের এই আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ১৪৬৮ সালে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পরও এই ধারা অব্যাহত ছিল। কিন্তু তা কোনো সফলতা আনতে ব্যর্থ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪৭৮ সালে পুরো আলবেনিয়া তুর্কি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এ সময় বেশ কিছু আলবেনিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে যায়।

আলবেনিয়া পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ লাভের পর তুর্কিরা দেশটির উন্নতির দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করে। এ সময় তারা নতুন নতুন শহর পত্তন করে বাণিজ্যকেন্দ্র, সেনানিবাস এবং মসজিদ তৈরি করেন। এ সময় প্রচুর খ্রিষ্টান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা থাকায় এর পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে তুর্কি প্রশাসন ও সেনাবাহিনীতে আলবেনিয়ানরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই ধারাবাহিকতায় আলবেনিয়া থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বেরও জন্ম হয় যেমন ইলিয়াস হোজা, হামজা কাস্ত্রিওতি, দাউদ পাশা, মেহমুদ পাশা, সুলেমান পাশা, নাজিম ফারুকুল্লাহ, আলী পাশা, হাজী সেক্রেতি, হাসান কামবেরি, কপরুলু পরিবার, বুশাতি পরিবার ইত্যাদি।

আলবেনিয়ানরাও যেমন তুর্কি সাম্রাজ্যের প্রতি অনুগত ছিল তেমনি তুর্কিরা তার যথাযথ প্রতিদানে দেশের প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর বড় বড় পদে তাদের অধিষ্ঠিত করে। আর আশপাশের অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের চেয়ে তারা অনেক সহজেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। এসব করণে আলবেনিয়া তুর্কি সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। আর এ অবস্থা বিরাজ করতে থাকে ১৯১২ সালের আগ পর্যন্ত।
১৯১২ সালের দিকে আলবেনিয়ার পাশালিকদের পতন এবং আরো কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আলবেনিয়ানদের জাতীয়তাবোধ জেগে ওঠে। এ সুযোগে তুর্কি সাম্রাজ্যের বিরোধীরা একজোট হয়ে তুর্কির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে। এ রকম বিদ্রোহ ১৮৩৩-৩৯, ১৮৪৩-৪৪, ও ১৮৪৭ সালেও হয়েছিল। কিন্তু তখন তারা ব্যর্থ হয়েছিল। ১৯১২ সালে তারা সফল হয় এবং আলবেনিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। পাঁচ শ’ বছর শাসনের পর ১৯১২ সালের ১৮ নভেম্বর আলবেনিয়া থেকে তুর্কি শাসন গুটিয়ে নেয়া হয়।

বিংশ শতাব্দীর ইতিহাস
তুর্কি সাম্রাজ্যকে দৃঢ়করণের লক্ষ্যে নেয়া নতুন নীতির বিরুদ্ধে পরিচালিত ১৯০৮-১০ সালের মধ্যে আলবেনিয়াতে যে বিক্ষোভের শুরু হয় তারই ধারাবাহিকতায় ১৯১২ সালে বলকান যুদ্ধ শুরু হয়। এ অবস্থা দেখে সার্বিয়া, গ্রিস এবং বুলগেরিয়াও যুদ্ধের ঘোষণা দেয় এবং তাদের রাজ্যের সীমানা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। সেহেতু আলবেনিয়া উত্তর দিক থেকে সার্বিয়া এবং দক্ষিণ দিক থেকে গ্রিসের হামলার শিকার হয়। এমনকি তখন তারা আলবেনিয়াকে কেবল দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর ভেরার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। অব্যাহত বৈদেশিক আক্রমণের মুখে ১৯১২ সালে আলবেনিয়া অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরির সহায়তায় স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তখন প্রভাবশালী দেশগুলো আলবেনিয়ার বর্তমান সীমানা নির্ধারণ করে দেন। এ সীমানা নির্ধারণের ফলে আলবেনিয়ার অর্ধেকের বেশি নাগরিক নতুন আলবেনিয়ার বাইরে পড়ে যায়। দেশটির বেশির ভাগ লোকজন হঠাৎ করেই নিজেদের মন্টেনেগ্রো এবং সার্বিয়ার শাসনাধীনে দেখতে পায়। এ সময়ে দেশের দক্ষিণে স্থানীয় গ্রিকদের দ্বারা স্বাধিকার আন্দোলনও পরিচালিত হয়। সেই সাথে তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলতে থাকায় যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ দেশটির সার্বিক অবস্থাও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯২০ সালে নিজেদের জন্য দেশটি একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাঠামো গ্রহণ করে নেয়। ১৯২১ সালের ৯ নভেম্বর লিগ অব নেশন্স আলবেনিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেয়।

দেশটিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকারী রাজা জগ ১৯২৮ সালে বিশেষত ব্যাপক মন্দার পরই দেশটির সার্বভৌমত্ব ইতালির কাছে ছেড়ে দিতে শুরু করেন। ইতালি ১৯৩৯ সালের ৭ এপ্রিল আলবেনিয়ায় আক্রমণ করে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেয়। এ সময় ইতালির ফ্যাসিস্ট একনায়ক বেনিতো মুসোলিনি ইতালির রাজা তৃতীয় ভিক্টর ইমানুয়েলকে আলবেনিয়ার শাসক নিযুক্ত করেন। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আলবেনিয়াই অক্ষশক্তির প্রথম দখলের শিকার হয়।

সে সময় হিটলারের আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে মুসোলিনিও রাষ্ট্র দখলের খেলায় মেতে ওঠেন। মুসোলিনি এবং অন্য ইতালিয়ান ফ্যাসিস্টরা লক্ষ করেছিলেন যে, আলবেনিয়া রোমান সাম্রাজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল। আর এ বিষয়টি আলবেনিয়া দখলের মাধ্যমে ইতালিয়ান সাম্রাজ্য গঠনের স্বপ্ন পুরো করার দিকে তাদের আরো আগ্রহী করে তোলে। আলবেনিয়া দখলের পেছনে ইতালির এ ধরনের উদ্দেশ্য থাকায় দেশটির জনগণ জোর করে ইতালীয়করণ পলিসির যাঁতাকলে পড়ে। ফলে তারা আলবেনিয়ার সর্বক্ষেত্রে আলবেনীয় ভাষা উঠিয়ে ইতালীয় ভাষা প্রচলনের চেষ্টা চালায়। একই সময়ে একই উদ্দেশ্যে আলবেনিয়াতে ইতালি বসতি স্থাপনকে ব্যাপক হারে উৎসাহিত করা হয়।

১৯৪০ সালে মুসোলিনি আলবেনিয়াকে ঘাঁটি বানিয়ে গ্রিসের ওপর আক্রমণ চালান। তার অভিযোগ ছিল গ্রিস ইতালি সৈন্যদের পরাজিত করার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে। অপর দিকে রাশিয়া আক্রমণের প্রস্তুতির সময় হিটলারও তার সৈন্যবাহিনীকে ব্রিটিশ আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে গ্রিসের ওপর আক্রমণ চালানোর সিদ্ধান্ত নেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালেই আলবেনিয়াতে আলবেনিয়ান কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়। ১৯৪১ সালের ৮ নভেম্বর গঠিত হওয়া এ পার্টি জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে নিয়ে ১৯৪২ সালে ১৬ সেপ্টেম্বর আলবেনিয়ান ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট গঠন করে। এ ফ্রন্টে জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও মূলত এটি কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দই এটি পরিচালনা করেন।

১৯৪২ সালের ডিসেম্বরে আলবেনিয়ার জাতীয়তাবাদী অন্য শক্তিগুলো একত্র হয়। যখন ব্যাপক হারে জার্মানির নাজিদের দখল চলছিল তখন আলবেনিয়ানরা ইতালির বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ফলে একই সময়ে আলবেনিয়ার এ গোষ্ঠীকে জার্মানদের বিরুদ্ধেও লড়াইয়ে নামতে হয়েছিল।

১৯৪৩ সালে মুসোলিনি সরকার ভেঙে পড়লে আলবেনিয়ার গেরিলারা দেশটির রাজধানী তিরানা দখল করার আগেই জার্মান সেখানে প্যারাট্রুপার নামিয়ে রাজধানী নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। এর পর জার্মানরা সেটিকে একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে ঘোষণা করে তাদের একটি নতুন সরকার, পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠা করে। জার্মানির এই দখল থেকে ১৯৪৪ সালের ২৯ নভেম্বর আলবেনিয়া, কসোভো, মন্টেনেগ্রোর কিছু অংশ এবং বসনিয়া-হার্জেগোভিনার দক্ষিণাংশ মুক্ত হয়। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো সোভিয়েত সেনাবাহিনীর কোনো সাহায্য ছাড়াই জার্মানিকে বহিষ্কার করে।

আলবেনিয়া এ সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়। কিন্তু ১৯৬০ সালে তাদের এই মিত্রতায় ভাটা পড়ে। এরপর বিলিয়ন ডলারের সাহায্যের ধারাবাহিকতায় দেশটি চীনের সাথে মিত্রতায় আবদ্ধ হয়। কিন্তু ১৯৭৪ সালে তা কাটছাঁট করা হয়। কিন্তু চীনের শাসক মাও সে তুংয়ের মৃত্যুর পর আলবেনিয়া তার নীতিগুলোতে হস্তক্ষেপ করতে থাকলে চীন ১৯৭৮ সালে তার সাহায্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।

১৯৮৫ সালের ১১ এপ্রিল দীর্ঘ চার দশক শাসনের পর আলবেনিয়ার শাসক আনোয়ার হোজা মারা যান। এরপর নতুন শাসক এসে দেশটিতে কিছুটা স্বাধীনতার সূচনা করেন। ১৯৯০ সালে এসে অকমিউনিস্ট দেশগুলোতে ভ্রমণের ব্যাপারেও দেশটি অনুমতি দেয়। সেই সাথে নতুন সরকার বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাদের সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করে। ১৯৯১ সালে মার্চের নির্বাচনে সাবেক কমিউনিস্ট শাসককেও ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং দেশটি অকমিউনিস্ট অধ্যায়ে প্রবেশ করে।

বর্তমান ইতিহাস
আলবেনিয়ায় কমিউনিস্ট অধ্যায় শেষ হয় ১৯৯২ সালের মার্চে। দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়া এবং সামাজিক সমস্যার ব্যাপকতার কারণে ১৯৯২ সালের মার্চে নির্বাচনে তাদের পতন ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম অকমিউনিস্ট হিসেবে সালি বারিশা নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৭ সালে দেশটি আবারো সমস্যার মুখে পড়ে। বারিশা প্রেসিডেন্ট থাকাবস্থায় পিরামিড স্কিম নিয়ে দুর্নীতির কারণে দেশে দাঙ্গা বেধে যায়। এতে দেশ প্রায় অচল হয়ে যায়। আমাদের দেশে ডেসটিনি বা ইউনিপেটুর মতো কয়েকটি এমএলএম কোম্পানির হাতে দেশের সব মানুষের টাকা চলে যায়। বলা যায় দেশের সব মানুষ ফতুর হয়ে যায়। অর্থনীতি ভেংগে পড়ে। এ সময় দেশটির স্থিতিশীলতার জন্য ইতালির নেতৃত্বাধীন ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেনাবাহিনী সেখানে প্রেরণ করা হয়। ১৯৯৭ সালের গ্রীষ্মে আবার নির্বাচনে বারিশা পরাজিত হন। এ নির্বাচনে ১৫৬ আসনের মধ্যে কেবল ২৫টি আসন লাভে তিনি সমর্থ হন। তবে আট বছরের সোশ্যালিস্ট পার্টির শাসনের পর ২০০৫ সালের ৩ জুলাই বারিশা আবারো ক্ষমতায় ফিরে আসেন।

সরকার, রাজনীতি এবং অন্যান্য
১৯৯৮ সালের পরিবর্তিত সংবিধান অনুযায়ী আলবেনিয়া এখন সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে এখন জনগণের ভোটে ১৪০ সিটের পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন।

আলবেনিয়া বর্তমানে ইউরোপীয় কমিশনের সদস্য হওয়ার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনেও আলবেনিয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।

আলবেনিয়ার প্রেসিডেন্টই দেশের প্রধান বলে স্বীকৃত। তিনি প্রতি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটের ৫১ শতাংশ পেলেই তিনি পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত বলে গণ্য হন। বর্তমানে দেশটির প্রেসিডেন্ট বামির টোপি। দেশটিতে পরবর্তীকালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০১২ সালে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট দেশটির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দেশের সংবিধান ও সব আইনগুলোর দেখাশোনা করে থাকেন, দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এ ছাড়া যখন পার্লামেন্ট কার্যকর থাকে না তখন তিনিই এ ব্যাপারে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগও দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী মন্ত্রিসভাও নিয়োগ করে থাকেন। তবে দেশের আইন পাসের ক্ষেত্রে সবশেষে পার্লামেন্টের সমর্থন প্রয়োজন হয়। মন্ত্রিসভাই অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিগুলো ঠিক করে থাকে। তারাই কোনো দেশের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা, চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদির অনুমোদন দিয়ে থাকে। তারা দেশটির প্রেসিডেন্ট, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ দেয়া ইত্যাদি বিষয়ও তদারকি করে থাকে। সেই সাথে দেশের গণমাধ্যমগুলোর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে থাকে মন্ত্রিসভার কাউন্সিল।

প্রতিরক্ষা বাহিনী
দেশটি ১৯৮৮ সালের ৬৫ হাজার সেনাসদস্য থেকে ২০০৯ সালে এ সংখ্যা নামিয়ে নিয়ে আসে ১৪ হাজার ৫০০-তে। ১৯৯০ সালে পুরনো বেশ কিছু অস্ত্র তারা ধ্বংস করে। ২০০৮ সালে দেশটি তার জিডিপি’র ২.৭ শতাংশ এ খাতে খরচ করেছিল। ২০০৮ সালের ফেব্র“য়ারি থেকে দেশটি ন্যাটোর সাথে কাজ করতে শুরু করে।

ভূপ্রকৃতি
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ আলবেনিয়া। উত্তর-পশ্চিমে রয়েছে মন্টেনেগ্রো, উত্তর-পূর্বে কসোভো, পূর্বে মেসিডোনিয়া এবং গ্রিস রয়েছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে। এ দেশটি পশ্চিম দিক থেকে আদ্রিয়াটিক এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে আইওনিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত। ২৮ হাজার ৭৪৮ বর্গকিলোমিটারের আলবেনিয়াতে উপকূল রয়েছে ৩৬২ কিলোমিটারের। দুই সাগরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই দেশটির ৭০ শতাংশ ভূমিই খুব বন্ধুর। দেশটির সর্বোচ্চ স্থান দিবারের কোরাব সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,৭৫৩ মিটার ওপরে অবস্থিত।
আলবেনিয়ার এক-তৃতীয়াংশের বেশি অংশজুড়ে আছে বনাঞ্চল। আর এর আয়তন হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার। এই পুরো অংশটিই বেশ ঘন বনে আচ্ছাদিত। আলবেনিয়ায় তিন হাজারের অধিক প্রজাতির গাছ পাওয়া গেছে। এগুলোর অনেকগুলোই ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
মধ্যসাগরীয় শান্ত জলবায়ুই এখানে বিরাজ করে থাকে। আলবেনিয়ার শীতকালটি তুলনামূলক উষ্ণ এবং রৌদ্রময়। আর গ্রীষ্মকাল সাধারণত অধিকতর শুষ্ক থাকে। যদিও অন্যান্য অংশের আবহাওয়া ঋতুর ওপর নির্ভর করে কিন্তু দেশটির এক হাজার ৫০০ মিটার ওপরের এলাকাগুলোতে শীতকালসহ বেশির ভাগ সময়েই তীব্র শীত অনুভূত হয়, অবিরাম তুষারপাতও দেখা যায় সেখানে। দেশের নিম্নাঞ্চল ও নদী তীরবর্র্তী এলাকাগুলোতে দুপুরে তাপমাত্রা অনেক বেড়ে গেলেও রাতে সবসময়ই শীতল থাকে।

অর্থনীতি
আলবেনিয়া একটি দরিদ্র দেশ। বর্তমানে মুক্তবাজার অর্থনীতির সুবাদে দেশটি নতুন নতুন ব্যবসা খুলে নিজের অর্থনীতি চাঙ্গা করার দিকে এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের হিসাব অনুযায়ী ২০১০ সালে এর প্রবৃদ্ধি হবে ২.৬ শতাংশ, যা ২০১১ সালে গিয়ে দাঁড়াবে ৩.২ শতাংশে ।

আলবেনিয়াতে এখন বিনিয়োগ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আলবেনিয়া ও ক্রোশিয়া মিলিতভাবে মন্টেনেগ্রোর সীমান্তে একটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০০৯ সালের ফেব্র“য়ারিতে একটি ইতালিয়ান কোম্পানি আলবেনিয়াতে ৮০০ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেয়। আর এগুলোর সাহায্যে আলবেনিয়া তার রফতানি খাতে বিদ্যুৎকে যুক্ত করতে চাইছে।

দেশটিতে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের খনি রয়েছে। তবে এখানে দৈনিক তেল উৎপাদনের হারটি বেশ কম। মাত্র ছয় হাজার ৪২৫ ব্যারেল। তবে প্রাকৃতিক গ্যাসের যে মজুদের খবর পাওয়া গেছে তাতে দেশের জনগণের চাহিদা আপাতত মিটে যাওয়ার কথা। এর বাইরে দেশটিতে কয়লা, বক্সাইট, কপার এবং লোহার খনি রয়েছে।

আলবেনিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে কৃষিরও। এ খাতে দেশটির ৫৮ শতাংশ লোক নিয়োজিত আর তা জিডিপিতে অবদান রাখছে ২১ শতাংশ । আলবেনিয়ার গম, ভুট্টা, তামাক, ডুমুর এবং জলপাইয়ের উৎপাদন মোটামুটি আলোচনায় আসার মতো।

যোগাযোগব্যবস্থা
দেশটির সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থা খুব একটা ভালো নয়। সড়ক, রেল ও বিমান সব দিক দিয়েই যোগাযোগব্যবস্থায় ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে অনেকটাই পিছিয়ে আছে তারা। তবে সম্প্রতি দেশটির সরকার কসভো, মেসিডোনিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোশিয়া ও গ্রিসের সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে মনোযোগ দিয়েছে। এ প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আলবেনিয়ার ৭৫৯ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক তৈরি হবে। এরই পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নয়নেরও ব্যবস্থা নিচ্ছে।

জনপ্রকৃতি
আলবেনিয়াকে ধরা হয় একটি তরুণ প্রজন্মের দেশ হিসেবে। কারণ এখানকার লোকজনের গড় বয়স ২৮.৯ বছর। ১৯৯০ সালের পর দেশটিতে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রচুর লোক দেশ ছেড়ে চলে যায়। এ ছাড়া দেশের উত্তরের জেলাগুলো থেকে জনগণ এসে তিরানা ও দুরেসের জেলাগুলোতে বসতি স্থাপন করে।

আলবেনিয়ার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ০.৫৪৬ শতাংশ। ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশটির জনসংখ্যা ৩৬৩৯০৪৮ জন। দেশটির বেশির ভাগ জনগণই আলবেনিয়ান জনগোষ্ঠীর। আলবেনিয়ার কর্মক্ষম জনগণের এখনো অন্য দেশে চলে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। তারা গ্রিস, ইতালি, জার্মানি, ইউরোপের অন্য অংশে এবং উত্তর আমেরিকায় বেশি পরিমাণ যাচ্ছে। তবে আলবেনীয় সরকারের সুযোগের আধিক্য ও নিজস্ব অর্থনীতির ক্রমশ উজ্জ্বল চিত্র এই স্থানান্তরের হার তুলনামূলক কমিয়ে এনেছে।

দেশটিতে সংখ্যালঘিষ্ঠ হিসেবে যারা রয়েছে তাদের মধ্যে গ্রিক, ভøাক্স, মেসিডোনিয়ান, সার্ব, বুলগেরিয়া ও রোমা গোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য। তবে গ্রিকদের সংখ্যাটি ঠিক কত তা নিয়ে বেশ একটা লুকোচুরি রয়েছে। সরকার দাবি করছে, দেশটিতে গ্রিকদের সংখ্যা ৬০ হাজার। সেখানে গ্রিক সরকারের দাবি এ সংখ্যাটা ৩ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ৯ শতাংশ। অবশ্য পশ্চিমা সূত্র জানায়, এ সংখ্যাটা দুই লাখের মতো হতে পারে।

ভাষা
আলবেনিয়ার সরকারি ভাষা আলবেনিয়ান। গেগ ও তোস্কের মিলিত রূপই হচ্ছে আলবেনিয়ান ভাষা। এখানে সংখ্যালঘু গ্রিকদের ভাষাও বেশ প্রচলিত। এর পাশাপাশি সার্বিয়ান, মেসিডোনিয়ান, রোমানি এবং অ্যারোমেনিয়ান ভাষা দেশটিতে চালু আছে।

ধর্ম
সরকারিভাবে আলবেনিয়ার জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তবে সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুকের দেয়া তথ্য মতে, দেশটিতে ৭০ শতাংশ মুসলিম, ২০ শতাংশ অর্থোডক্স এবং ১০ শতাংশ রোমান ক্যাথলিক মানুষ রয়েছে।
১১ শতকের সময়ের প্রথম যে ইতিহাস পাওয়া যায় তখন এ আলবেনিয়া পুরোটাই খ্রিষ্টান অধ্যুষিত ছিল। কিন্তু পরে তুর্কি সাম্রাজ্যের অধীনে আসার পর দেশটিতে ধীরে ধীরে মুসলমানদের সংখ্যা খ্রিষ্টানদের ছাড়িয়ে যায়। ১৯১২ সালে তুর্কি সাম্রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দেশটিতে বিভিন্ন মতাদর্শের শাসন বিশেষ করে কমিউনিস্ট শাসন চলায় দেশটিতে সেকুলার আদর্শ অনেকর মধ্যে প্রভাব ফেলে। ফলে মুসলিম বা খ্রিষ্টান থাকার পরও অনেকে কমিউনিস্ট আদর্শ লালন করেন। দেশটিতে সব ধর্ম পালনেরই সমান স্বাধীনতা রয়েছে। দেশটির পুরো অংশতেই মুসলমানদের ব্যাপক বিচরণ থাকলেও রোমান ক্যাথলিকরা তাদের জন্য দেশটির উত্তরাঞ্চল এবং অর্থোডক্স খ্রিষ্টানরা নিজেদের জন্য দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে বেছে নিয়েছে।

আলবেনিয়ায় ইসলাম
সাম্প্রতিক গবেষণা দ্বারা জানা যায়, ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ইসলাম তার ইতিহাসের প্রথম শতকগুলোতেই এ অঞ্চলে পৌঁছেছিল। এখানে ছিল বহু সংখ্যাক মুসলমানের বসবাস। চতুর্দশ খ্রিস্ট শতাব্দীতে তুরস্কের ওসমানী খেলাফত বলকানের অন্যান্য দেশের মতো এ দেশটিকেও জয় করে। তারপর এখানকার অধিকাংশ অধিবাসী মুসলমান হয়ে যায়। বর্ণিত আছে যে, তুর্কিরা তাদের বিজিত অঞ্চলগুলো থেকে কিছু বালককে তালিম-তারবিয়াত দানের জন্য ইস্তান্বুল নিয়ে আসত। তাদের সেখানে বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দেয়া ছাড়া উন্নতমানের সামরিক প্রশিক্ষণও দেয়া হতো। সেকান্দার বেগ ছিল এমনই এক বালক। মেধা ও বীরত্বে সে ছিল অদ্বিতীয়। সামরিক প্রশিক্ষণে সজ্জিত হয়ে যখন সে বড় হয়ে ওঠে এবং জানতে পারে যে, সে মূলত আলবেনিয়ার অধিবাসী, তখন কোনো এক অজুহাতে অনুমতি নিয়ে চলে যায় আলবেনিয়ায়। সেখানকার লোকদের সুসংহত করে ১৪৪৩ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি খেলাফতের বিরুদ্ধে সে বিদ্রোহ করে। আলবেনিয়াকে তুর্কি খেলাফত থেকে মুক্ত করে সে নিজে তার শাসক হয়। এভাবে আলবেনিয়া প্রায় অর্ধশতাব্দী পর্যন্ত ওসমানী খেলাফত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। কিন্তু সেকান্দার বেগের মৃত্যুর পর তুর্কিরা ফের আলবেনিয়াকে দখল করে। এভাবে পুনরায় তা ওসমানী খেলাফতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
আলবেনিয়ায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ লাভের পর তুর্কিরা দেশটির উন্নতির দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করে। এ সময় তারা নতুন নতুন শহরের পত্তন করে বাণিজ্য কেন্দ্র, সেনানিবাস এবং মসজিদ তৈরি করে। এ সময় প্রচুর খ্রিস্টান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা থাকায় এর পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে তুর্কি প্রশাসন ও সেনাবাহিনীতে আলবেনিয়ানরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ ধারাবাহিকতায় আলবেনিয়া থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বেরও জন্ম হয় যেমন ইলিয়াস হোজা, হামজা কাস্ত্রিওতি, দাউদ পাশা, মাহমুদ পাশা, সুলায়মান পাশা, নাজিম ফারুকুল্লাহ, আলী পাশা, হাজী সেক্রেতি, হাসান কামবেরি, কপরুলু পরিবার, বুশাতি পরিবার ইত্যাদি।
আলবেনিয়ানরাও যেমন তুর্কি সাম্রাজ্যের প্রতি অনুগত ছিল তেমনি তুর্কিরা তার যথাযথ প্রতিদানে দেশের প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর বড় বড় পদে তাদের অধিষ্ঠিত করে। আর আশপাশের অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের চেয়ে তারা অনেক সহজেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। এসব কারণে আলবেনিয়া তুর্কি সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। আর এ অবস্থা বিরাজ করতে থাকে ১৯১২ সালের পূর্ব পর্যন্ত।

স্বাধীনতার সূর্য
১৯১২ সালের দিকে আলবেনিয়ার পাশালিকদের পতন এবং আরও কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আলবেনিয়ানদের জাতীয়তাবোধ জেগে ওঠে। এ সুযোগে তুর্কি সাম্রাজ্যের বিরোধীরা একজোট হয়ে তুর্কির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে। এ রকম বিদ্রোহ ১৮৩৩-৩৯, ১৮৪৩-৪৪, ও ১৮৪৭ সালেও হয়েছিল। কিন্তু তখন তারা হয়েছিল ব্যর্থ। ১৯১২ সালে তারা সফল হয় এবং আলবেনিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। ৫০০ বছর শাসনের পর ১৯১২ সালের ১৮ নভেম্বর আলবেনিয়া থেকে তুর্কি শাসন গুটিয়ে নেয়া হয়।
অব্যাহত বৈদেশিক আক্রমণের মুখে ১৯১২ সালে আলবেনিয়া অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরির সহায়তায় স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তখন প্রভাবশালী দেশগুলো আলবেনিয়ার বর্তমান সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। সেই সঙ্গে তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলতে থাকায় যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ দেশটির সার্বিক অবস্থাও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯২০ সালে নিজেদের জন্য দেশটি একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাঠামো গ্রহণ করে নেয়। ১৯২১ সালের ৯ নভেম্বর লীগ অব নেশন্স আলবেনিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেয়।

কমিউনিস্ট যুগে
অনেকেরই জানা থাকার কথা, আলবেনিয়া ছিল পৃথিবীর প্রথম এবং একমাত্র নাস্তিক দেশ। যার আয়ুস্কাল ১৯৬৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। সময়টি ছিল বড়ই নির্মম, করুণ, নিষ্ঠুর। আলবেনীয় ভাষায় আলেম বা ধর্মীয় নেতাকে বলা হয় ‘হোজা’। আনোয়ার হোজা ছিল এমনই একজন ধর্মীয় নেতার ছেলে। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে সে নিজে ফ্রান্স থেকে শিক্ষা লাভ করে এবং কট্টর কমিউনিস্ট দীক্ষা ফেরি করে। আলবেনিয়াকে সে এমন এক কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত করে, যার জুলুম-অত্যাচার অন্যান্য কমিউনিস্ট রাষ্ট্রকেও হার মানায়। আনোয়ার হোজা আলবেনিযাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধর্মহীন রাষ্ট্র ঘোষণা দেয় এবং সে দাবি করে যে, একমাত্র আলবেনিয়াতেই কমিউনিজমকে আসল ও অবিকৃত রূপে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে।
স্মার্তব্য যে, পুরো ইউরোপে আলবেনিয়াই একমাত্র দেশ, যেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। (১৯৯১ খ্রিস্টাব্দের আদমশুমরি অনুপাতে আলবেনিয়ার মোট অধিবাসী ছিল ৩২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে ২৫ লাখ ৬ হাজার ৩৮১ জন ছিল মুসলমান। অর্থাৎ দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৭ শতাংশ ছিল মুসলমান)। কিন্তু আনোয়ার হোজা চরম জুলুম-অত্যাচারের মাধ্যমে ইসলামের একেকটি চিহ্নকে ধ্বংস করতে কোনোরূপ ত্রুটি করেনি। ২ হাজার ১৮৯টি মসজিদ এবং চার্চ বন্ধ করে দেয়া হয়। নাস্তিকবাদ অফিসিয়াল পলিসিতে পরিণত হয়। ধর্মীয় নামের শহর, নগরগুলোকে নতুন নাম দেয়া হয়, ব্যক্তির নামও বদলে ফেলা হয়। মানুষের নামের ডিকশনারি বের করা হয়। যার মধ্যে ৩ হাজার সেক্যুলার নাম ছিল। ধর্মীয় প্রতীক ও নিদর্শনগুলোর ওপর আমল করাকে অপরাধ সাব্যস্ত করা হয়। এমন ঘটনাও ঘটেছে যে, কারও সম্পর্কে রোজা রাখার সংবাদ পেয়ে তাকে জোর করে মদ পান করিয়ে বা শূকরের মাংস খাইয়ে রোজা ভাঙতে বাধ্য করা হয়েছে। সে সময় যারা লুকিয়ে রোজা রাখত তারা অন্ধকারে সাহরি খেত। কারণ ঘরে আলো জ্বলতে দেখলে পুলিশ রোজা রাখার অপরাধে তাদের ধরে নিয়ে যেত।
আলবেনিয়ায় এমনিতেও আলেমের সংখ্যা ছিল কম। যারাও বা ছিল তাদের হয় শহীদ করে দেয়া হয়, না হয় স্থায়ীভাবে জেলখানায় বন্দি করে রাখা হয়। সুতরাং এ দেশের ওপর দিয়ে প্রায় ৪০টি বছর এমনভাবে অতিবাহিত হয় যে, এখানকার মুসলমানদের না দ্বীনের ওপর আমল করার কোনো সুযোগ ছিল, না দ্বীনের বিষয়ে ইলম অর্জন করার কোনো উপায় ছিল। যা হোক, ১৯৮১ সালে হোজা অনেক পার্টির নেতা এবং সরকারি কর্মকর্তাকে শূলে চড়ায়। প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শেহু এ সময় আত্মহত্যা করেন অন্তর্দলীয় কোন্দলের কারণে। এটি ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

বর্তমান অবস্থা
১৯৮৫ সালের ১১ এপ্রিল দীর্ঘ চার দশক শাসনের পর আলবেনিয়ার শাসক আনোয়ার হোজা মারা যান। এরপর নতুন শাসক এসে দেশটিতে কিছুটা স্বাধীনতার সূচনা করেন। ১৯৯০ সালে এসে অকমিউনিস্ট দেশগুলোতে ভ্রমণের ব্যাপারেও দেশটি অনুমতি দেয়। সেই সঙ্গে নতুন সরকার বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করে। ১৯৯১ সালে মার্চের নির্বাচনে সাবেক কমিউনিস্ট শাসককেও ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং দেশটি অকমিউনিস্ট অধ্যায়ে প্রবেশ করে।
১৯৯৮ সালের পরিবর্তিত সংবিধান অনুযায়ী আলবেনিয়া এখন সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে এখন জনগণের ভোটে ১৪০ সিটের পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন। আলবেনিয়া বর্তমানে ইউরোপীয় কমিশনের সদস্য হওয়ার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনেও আলবেনিয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।
৪০ বছরের অধিক সময়ে এমন এক প্রজন্ম এখানে বেড়ে ওঠে, যারা বংশীয়ভাবে তো মুসলমান ছিল; কিন্তু দ্বীনের বুনিয়াদি বিষয়েও তাদের কোনো জ্ঞান ছিল না। ফলে ইসলামের নিদর্শন ও প্রতীকগুলোকে পুনঃপ্রতিষ্ঠত করতে পদে পদে নানা রকমের বাধার প্রাচীর দাঁড়িয়ে যায়। যে দেশে এক সময় দুই হাজার মসজিদ ছিল, এখন সেখানে অল্প ক’টি মসজিদ ছাড়া অবশিষ্ট সব মসজিদ কমিউনিস্ট বর্বরতার শিকার হয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। যেগুলো অবশিষ্ট ছিল, সেগুলোও এমন জরাজীর্ণ অবস্থায় যে, ব্যবহারপোযোগী ছিল ন। মাদরাসা থাকার তো প্রশ্নই ছিল না, বরং দ্বীনের কোনো কথা বলে দেয়ার মতো লোকও ছিল বিরল। কমিউনিস্ট বন্দিখানা থেকে মুক্তি পেয়েই মানুষ পশ্চিমা বিশ্বের জীবন প্রণালি অবলম্বন করতে আরম্ভ করে। এমতাবস্থায় সেখানে মুসলিম বিশ্বের তাবলিগি ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ভূমিকা পালন করা ছিল ভীষণ প্রয়োজন। কিন্তু মুসলিম বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন এ ভূখ- একদিকে মুসলিম বিশ্বের মনোযোগ থেকে হয় বঞ্চিত।

 

স্থাপত্য, বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্য
তিরানা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সবচেয়ে উন্নত এলাকায় প্রাচীন একটি মসজিদ রয়েছে। একে মারকাজি মসজিদ বলা হয়। মুফতি তাকি উসমানী তার সফরনামায় লেখেনÑ কমিউনিস্ট শাসনামলে এটি শহরের একমাত্র মসজিদ ছিল, যাকে সুন্দর নির্মাণশৈলীর কারণে এটিকে ধ্বংস করা হয়নি। তার মধ্যে নামাজ পড়া বন্ধ করে দিয়ে একটি জাদুঘরে পরিণত করা হয়। (সূত্র : সফর দর সফর)। মুফতি শাবান বলেন, কমিউনিজম পতনের পর ১৯৯১ সালের ১৮ জানুয়ারি সরকারি নিষেধ উপেক্ষা করে প্রায় ১০ হাজার মুসলিম জনতা এই মসজিদে প্রবেশ করে। তারপর থেকে মসজিদটি নামাজের জন্য উন্মুক্ত আছে। স্থাপত্যশৈলীর বিবেচনায় মসজিদটি আলবেনিয়ার একটি বিখ্যাত স্থাপনা। ১৭৭৩ সালে পাশা মাহমুদ বুশাতি নির্মিত আবু বকর মসজিদ, আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানা শহরের পুরনো অঞ্চলে ১৬৬৬ সালে আবদি পাশা নির্মিত ক্লক মসজিদ এখানকার প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপত্য।
আলবেনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম গুরুত্বপূর্ণ শহর স্কোদরা। এককালে শহরটি ছিল আলবেনিয়ার রাজধানী। অনেক আলেমের স্মৃতিবিজড়ির এ শহর। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানি এ শহরেই জন্মগ্রহণ করেন এবং এ শহরেই ইন্তেকাল করেন। বলা হয়, ১৯৭৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জগদ্বিখ্যাত মাদার তেরেসাও ছিলেন এখানকারই বাসিন্দা। আলবেনিয়ানরা যদি কোনো বিষয়ে মাথা উপরে-নিচে নাড়ে তাহলে বুঝতে হবেÑ না, আর ডানে-বাঁয়ে নাড়লে বুঝতে হবেÑ হ্যাঁ। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে শুধু আলবেনিয়া, আরমেনিয়া ও ভ্যাটিকান সিটিতে ম্যাকডোনাল্ডের কোনো শাখা নেই।
দীর্ঘ সময় কমিউনিস্ট শাসনের ফলে মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা বেশ নাজুক। মুসলমানেরা হালাল-হারামের তেমন তোয়াক্কা করেন না। নারী-পুরুষের অবাধ চলাফেরা ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতোই। এসব দেশে মসজিদের মেহরাবের কাছাকাছি একটি রুমে নামাজ পড়ার জন্য এক বিশেষ ধরনের জোব্বা ও টুপি থাকে। শার্ট-ট্রাউজার পরিহিত ইমাম মসজিদে এসে প্রথমে ওই রুমে ঢোকেন। পরনের শার্ট ও ট্রাউজারের ওপর জোব্বাটি পরে নেন। তারপর ইমামতি করেন। তবে দিন পাল্টাচ্ছে। ধীরে ধীরে মুসলমানদের প্রভাব বাড়ছে।

শিক্ষা
আলবেনিয়া তুর্কি সাম্রাজ্যের অধীনে থাকার সময় দেশটিতে শিক্ষার হার ছিল ৮৫ শতাংশ। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়টুকুতে দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এ দেশের শাসকরা আবার দেশটির শিক্ষার হার বাড়াতে ব্যাপকাকারে উদ্যোগ নেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১২ থেকে ৪০ বয়সসীমার মধ্যে থাকা সবাইকেই শিক্ষিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর ফলাফল হিসেবে দেশটিতে বর্তমান শিক্ষার হার ৯৮.৭ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষদের শিক্ষার হার ৯৯.২ শতাংশ এবং নারীদের শিক্ষার হার ৯৮.৩ শতাংশ। দেশটির প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে তিরানার ইউনিভার্সিটি অব আলবেনিয়া। ১৯৫৭ সালের অক্টোবরে এটি যাত্রা শুরু করে।

দেশটির খেলাধুলা
সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের জন্য দেশটি ১৯৩০ সালে গঠন করেছে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আলবেনিয়া। দেশটি ফিফার সদস্য এবং উয়েফার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম। দেশটিতে অন্যান্য খেলাধুলার মধ্যে বাস্কেটবল, ভলিবল, রাগবি এবং জিমন্যাস্টিক উল্লেখযোগ্য।

 

 

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *