‘অরণ্য নগর’ গড়ছে চীন

অরণ্য নগরে থাকবে শতাধিক প্রজাতির ১০ লাখ গাছ, যা বছরে ১০ হাজার টন কার্বন ও ৫৭ টন দূষণকারী পদার্থ শোষণ করবে। ছবি: ইতালির স্থাপত্য সংস্থা স্তেফানো বোয়েরি আর্কিতেত্তির (এসবিএ) সৌজন্যে কোনো ধরনের ক্ষতি না করেই যদি একটি নিবিড় অরণ্যকে ব্যস্ত নগরে পরিণত করা হয়, তবে কেমন হয়? এমন নগর এখন আর কাল্পনিক কিছু নয়। এ ধরনের একটি নগর সত্যিই হতে যাচ্ছে চীনে। মাত্র আড়াই বছরে নগরটি গড়ে উঠবে।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন যখন কোনো কিছু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তা তারা দ্রুত বাস্তবায়ন করে। এরই একটি উদাহরণ হলো অরণ্য নগর বা ‘ফরেস্ট সিটি’। এ প্রকল্প টেকসই শহরের পরিকল্পনা ও উন্নয়নের সীমাকে ছাড়িয়ে গেছে। চীন ২০২০ সালের মধ্যেই এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।

অরণ্য নগরে থাকবে শতাধিক প্রজাতির ১০ লাখ গাছ, যা বছরে ১০ হাজার টন কার্বন ও ৫৭ টন দূষণকারী পদার্থ শোষণ করবে। ছবি: ইতালির স্থাপত্য সংস্থা স্তেফানো বোয়েরি আর্কিতেত্তির (এসবিএ) সৌজন্যে এ নগর গাছ ও সৌর প্যানেলে ঢাকা থাকবে। চীনের দক্ষিণাঞ্চলের লিউজিয়াং নদীর তীরবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে গুয়াংশিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই নগরের নকশা করছে ইতালির স্থাপত্য সংস্থা স্তেফানো বোয়েরি আর্কিতেত্তি (এসবিএ)।

বায়ুদূষণ থেকে জনগণকে বাঁচাতে এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে চীন। দেশটির বেশির ভাগ শহরই ভয়াবহ বায়ুদূষণে আক্রান্ত, যা সেখানকার নাগরিকদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলেছে।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের লিউজিয়াং নদীর তীরবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে গুয়াংশিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ছবি: ইতালির স্থাপত্য সংস্থা স্তেফানো বোয়েরি আর্কিতেত্তির (এসবিএ) সৌজন্যেঅরণ্য নগরে থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন দপ্তর, হোটেল, হাসপাতাল ও বসতবাড়ি। প্রতিটি ভবনই ঢাকা থাকবে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার গাছপালায়। শহরটি যত পুরোনো হবে, গাছাপালা তত বয়স্ক হবে এবং তত কার্বন শোষণ করবে ও অক্সিজেন ছাড়বে। পূর্ণবয়স্ক একটি গাছ বছরে ৪৮ পাউন্ড কার্বন শোষণ ও ২৬০ পাউন্ড অক্সিজেন নির্গমন করতে পারে। কারণ, এ ক্ষেত্রে গাছ মানুষের বিপরীত। আলোক সংশ্লেষণের সময় গাছ কার্বন গ্রহণ করে ও অক্সিজেন ছাড়ে।

অরণ্য নগরে থাকবে শতাধিক প্রজাতির ১০ লাখ গাছ, যা বছরে ১০ হাজার টন কার্বন ও ৫৭ টন দূষণকারী পদার্থ শোষণ করবে, ৯০০ অক্সিজেন নিঃসরণ করবে। শহরের বাসিন্দার সংখ্যা হবে ৩০ হাজার।

অরণ্য নগরে থাকবে শতাধিক প্রজাতির ১০ লাখ গাছ, যা বছরে ১০ হাজার টন কার্বন ও ৫৭ টন দূষণকারী পদার্থ শোষণ করবে। ছবি: ইতালির স্থাপত্য সংস্থা স্তেফানো বোয়েরি আর্কিতেত্তির (এসবিএ) সৌজন্যে প্রচুর গাছপালা নগরের বায়ুদূষণ কমানোর পাশাপাশি বাতাসের তাপমাত্রা ও দূষণ কমাবে। শহরের গাছপালা জীববৈচিত্র্যে উন্নতি ঘটাব। পাখি ও কীটপতঙ্গের বাস্তুসংস্থানে ভূমিকা রাখবে। কমাবে শব্দদূষণ। শহরের বাসিন্দাদের যোগাযোগের মাধ্যম হবে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বৈদ্যুতিক ট্রেন। বায়ুদূষণ কমানো ও নির্মল বায়ুর সরবরাহ থাকা পরিবেশবান্ধব এই উচ্চাভিলাষী টেকসই শহরটি হবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি উদাহরণ।

Sharing is caring!

(Visited 1 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *